সংবাদ শিরোনাম :
মদিনায় মানবিক অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন মুসাফির ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনোহরদী পৌরসভfয় মেয়র পদে সুজন পূণরায় নির্বাচিত বেলাবতে কাভার্ট ভ্যানের চাপায় কলেজ ছাএী নিহত মনোহরদীসহ দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন রায়পুরায় কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতা কাওছারের কম্বল বিতরণ নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ পুলিশ সদস্যের প্রতি জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা রায়পুরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে আলোচনা সভা নরসিংদীতে নৌকার মাঝির পরিবর্তন, নতুন করে অংক কষছে পৌরবাসী ১৬ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠছে দেশের কোনও মানুষ ঘর ছাড়া থাকবে না; প্রধানমন্ত্রী

রক্তগঙ্গায় ওড়ে বিজয় কেতন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭

২৬ মার্চ। রক্তগঙ্গা পাড়ি দিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানোর দিন। এ দিনেই বাঙালি শপথ নিয়েছিল প্রতিরোধের, শপথ নিয়েছিল প্রতিশোধের। হাজার বছরের বঞ্চনা আর নীপিড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল মার্চের এ দিনে।

বাঙালির স্বাধীনতার সূর্য অস্ত গিয়েছিল পলাশীর প্রান্তরে, তা উদীত হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। গণহত্যার রক্তের সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই শপথ নেয়, বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলার মাকে মুক্ত করতে। স্বাধীনতার তরে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ইতিহাসের মহানায়কের ডাকে।

৪৬ বছর আগে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। ঘোরতর অমানিশা ভেদ করে দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল একাত্তরের এ দিনে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন। ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার আড়ালে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তকামী মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২৫ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

ওইদিন মধ্য রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবন) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআরের ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ডাক দেন। ইংরেজিতে ঘোষণা করা স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ হলো- ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার সৈন্য বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’

অবশ্য এর আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ডাক দিয়েছিলেন। ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে বাংলার আকাশে উদিত হয় নতুন সূর্য। বাঙালি পায় স্বাধীনতা। পায় লাল-সবুজ পতাকার মালিকানা।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..