সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তিনদিনের স্বাধীনতা উৎসব

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭
  • ৪৩৮ বার পঠিত

আলোকিত খবর ডটকম : এক নতুন সূর্য আনার প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এদেশের মুক্তিকামী মানুষ। আর সেই শহীদদের স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন, জাতীয় সঙ্গীত ও পরে গণসঙ্গীত ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল’ গানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের তিনদিনের ‘স্বাধীনতা উত্সব’। গতকাল শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘লাখো শহীদের আত্মদান, অফুরন্ত শক্তির আধার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন ২৫ মার্চ কালরাত্রির গণহত্যার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের স্বত্বাধিকারী শহীদ মধুসূদন দত্তের মেয়ে প্রতিভা রানী দে দাশ। তিনদিনের এ আয়োজনে কবিতা-নাচ-গান-নাটকের ভাষায় শ্রদ্ধা জানানো হবে ত্রিশ লাখ শহীদ ও চার লাখ বীরাঙ্গনাকে। শহীদ মিনারের পাশাপাশি এ উত্সব আরো চলছে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে।

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ সামাদ, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল আখতারুজ্জামান, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন স্পন্দনের নৃত্যশিল্পীরা।

উদ্বোধনের আগে প্রতিভা রাণী দে দাশ বলেন, ‘২৬ মার্চ সকালে আমি আমার চোখের সামনে নিজের বাবাকে ধরে নিয়ে যেতে দেখেছি। আমাদের হাজারো আকুতিকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাবাকে নিয়ে যায়। পরে শুনেছি জগন্নাথ হলের মাঠে ট্যাঙ্ক চাপা দিয়ে বাবাকে কবর দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন কল্যাণী ঘোষ, আবু বকর সিদ্দীক, সমর বড়ুয়া ও আরিফ রহমান। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে শ্রুতিঘর ও প্রকাশ। একক আবৃত্তি করেন আশরাফুল আলম। শিশুতোষ পরিবেশনা ছিল মৈত্রী শিশুদলের। পথনাটক পরিবেশন করে রঙ্গপীঠ।

একই সময় রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশ করে পঞ্চভাস্কর, ভিন্নধারা ও উজান। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন মিরা মণ্ডল, সানজিদা মঞ্জুরুল হ্যাপী, আশিকুর রহমান ও বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে স্রোত ও সংবৃতা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাজী মদিনা। শিশুতোষ পরিবেশনা ছিল সপ্তকলির আসরের। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে বহ্নিশিখা ও নটরাজ। পথনাটক পরিবেশন করে নাট্যকথা। সূত্র ইত্তেফাক

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..