নরসিংদীতে রকমেলন ফল চাষে পরীক্ষামূলক সফলতা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ৩৮৭ বার পঠিত

নরসিংদী প্রতিনিধি : আমাদের এ বাংলাদেশে কেউ সখের বসে আবার কেউবা বাণিজ্যিকভাবে বিদেশী ফলের চাষাবাদ শুরু করেন। আর এতে পরীক্ষামূলক সফলতা পেয়ে শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ। তেমনি কয়েকটি বিদেশী ফলের মধ্যে স্টবেরী, রামবুটান, মাল্টা, আঙ্গুর ও ড্রাগন ফলের সফলতা পেয়েছেন নরসিংদী কৃষি বিভাগ। আর এসকল ফল এখন কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদ হচ্ছে। এবার কৃষি বিভাগ নিবির পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন রকমেলন ফলের উৎপাদন নিয়ে। এফলটি পরীক্ষামূলক চাষে সফলতার দাবী করছেন নরসিংদী কৃষি বিভাগ।
নরসিংদী কৃষি বিভাগের দাবী এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া রকমেলন ফল চাষের জন্য খুবই উর্বর এবং উপযোগী পরিবেশ। প্রথমবারের পরীক্ষাতেই রকমেলন ফলনে সফলতার মুখ দেখছেন। তাই বলা যায়, এই অঞ্চলের কৃষকদের উদ্বোদ্ধকরনের মাধ্যমে ফলটির বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু করা যেতে পারে। নরসিংদীতে বিদেশী ফলের সফলতা হলেও সঠিক বাজারজাতের অভাবে কৃষকদের আগ্রহটা কিছুটা কম থাকে। তবে কিছু কিছু ফল স্থানীয় বাজার গুলোতে চাহিদা থাকায় কৃককরা এই ফলগুলো এখনো আগ্রহ নিয়ে চাষাবাদ করছেন। এগুলো হলো মাল্টা, রামবুটান ও ড্রাগন। এখন কৃষি বিভাগের আশা কৃষকদের উদ্বোদ্ধকরণ আর বাজারজাত সহজীকরণ করতে পারলে রকমেলন ফলটি চাষেও কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
রকমেলন বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি উপসহকারী মোশারফ হোসেন জানান, ২০১৬ সালে সুজন নামে এক বন্ধুর সাহায্যে থাইল্যান্ড থেকে কুড়িয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাত্র ১০/১২টি রকমেলনের বীজ আনা হয়। এই বীজ সদর উপজেলার পাইকারচর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে বপন করা হয়। এ থেকে ৮টি চারা অঙ্করোদগম হলে বৃষ্টির কারনে মাত্র ৫টি গাছে ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন দু’শ থেকে ৪’শ গ্রাম হবে। ফল গুলো ভেতরে দু-রকমের হয়ে থাকে। একটি কমলা রঙের, অন্যটি হলুদাব। রকমেলন বীজ বপনের চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দিনের মধ্যে ফল ধরে। আর ফল ধরার পর পনের থেকে বিশ দিনের মধ্যেই ফলটি পরিপক্ক হয়ে থাকে। ফল ধরার এক মাসের মাথায় গাছটি মারা যায়।
কৃষি বিভাগ আরো জানায়, রকমেলন চাষের জন্য এদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে চাষ শুরু করা উত্তম। বড়ো হাফ ড্রাম বা বড়ো বেড তৈরী করে তাতে রকমেলন লাগানোটাই উত্তম। রকমেলন চাষের জন্য মাটি প্রস্তুত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক মতো মাটি প্রস্তুত না করেই রকমেলন চারা রোপন করা হলে গাছের ফল ছোট থাকতেই গাছ ঢলে পড়বে ও মারা যেতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগে গাছ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে কম্পোষ্ট/র্ভামি আর সামান্য পরিমানে টিএসপি, এক মুঠো পটাশ, দু’মুঠো ইউরিয়া, এক কেজি কোকো ডাষ্ট, ৫০ গ্রাম বোরন- মিশ্রিতি শুকনো মাটির সাথে মিশিয়ে ড্রামে ভরে রাখতে হয় আর এই চারা রোপনের পর চার থেকে পাঁচটি পাতা গজালে ড্রামে দিয়ে দিতে হবে। রকমেলনের জন্য মাচা করাটা জরুরী। মাটি থেকে আনুমানিক ৫ ফুট উচুতে মাচা তৈরী করতে হবে। আর মাচাতে ফলটি ভালো হয়। একটি গাছে চার থেকে পাঁচ ফলের বেশি ফল রাখলে ফলের মান ভালো থাকেনা। গাছে সারা দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘন্টা রোদের ব্যবস্থা করে দিতে হয়।
রকমেলন প্রথম চাষী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত বছর নরসিংদী কৃষি অফিসের পরামর্শে রকমেলনের ১০টি বীজ বপন করা হয়। এই থেকে চারা অঙ্কুরোদগম হলে শেষ পর্যন্ত ৫টি চারায় ফলন দেখা দেয়। গাছে রকমেলন ফলন দেখে আমি খুবই খুশি। আর এই খবর শুনে এলাকাবাসী প্রতিদিনই বিদেশী এই রকমেলন ফরটি দেকতে বাড়িতে ভীড় জমায়। এই তেকে শিক্ষা নিয়ে আমি এবছর একটু বড় আকারে চাষের চিন্তা ভাবনা করছি।

নরসিংদী কৃষি অধিদপ্তরের নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিধ মোহাম্মদ আবদুল হাই বণিক বার্তাকে জানান, এই রকমেলন ফলটি এদেশে চাষাবাদের জন্য একটি উপযোগী এলাকা। যা নরসিংদী কৃষি বিভাগের পরিক্ষিত। প্রথমে একজন কৃষক এই রকমেলন চাষাবাদে সফল হলেও বর্তমানে নরসিংদী সদর উপজেলাতেই পাঁচজন কৃষক এই ফলটি চাষ করছেন। তারা হলেন, পাইকার চরের মোস্তাফিজুর রহমান, শেখেরচরের রানা আহমেদ, পাইকার চলের মিলন মিয়া, নরসিংদী শহরের ব্যাংক কলোনীর জাকারুল মোল্লাসহ শীলমান্দি এলাকার অপর এক কৃষক। এই ফলটি খেতে খুবই মিষ্টি এবং সু-স্বাধু। যদিও এই ফলটি এদেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে পাওয়া যাচ্ছেনা তবুও ধারনা করা হচ্ছে ফলটি বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করবে। এখন রকমেলন ফলের বীজ সরকারী ভাবে পাওয়া না গেলেও কুড়িয়ার সার্ভিস বা বিভিন্ন মাধ্যমে এদেশে পাওয়া যাচ্ছে। আশা করা যায় ফলটি চাষে দেশে একটি বাজার দখল করতে পারবে।
আলোকিত খবর ডটকম/১৪জানুয়ারী২০১৮/মোঃ মোস্তফা খান।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..