সংবাদ শিরোনাম :
সবুজ আন্দোলন ছাত্রফ্রন্ট রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রায়পুরায় জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা আন্ত:ফুটবল খেলোয়ারদের উপর হামলায় আহত ২০ নরসিংদীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই-পুলিশ সুপার ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার আশা এডওয়ার্ড স্নোডেনের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৩ কাচপুরে গার্মেন্ট শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ জনগণ যেন বন্ধু ভাবতে পারে, পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী রংপুর উপনির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ-অস্থিরতা ময়মনসিংহে নারী সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার স্বস্তিতে পূজা চেরি

রায়পুরায় আওয়ামীলীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী ॥ জাপার একক

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ জুলাই, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক. রায়পুরা (নরসিংদী) থেকে : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাপ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দলীয় মনোনয়ন পেতে তাদের দৌড়ঝাপ তোড়জোরে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যেকেই দলের এবং নিজ নিজ অবস্থান জানান দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে পোস্টার-ফেস্টুনসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চলছে লবিং-তদবির।
নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্যতম রায়পুরা। ৩১২.৫০ বর্গমাইলের এ উপজেলায় ১ টি পৌরসভা এবং ২৪ টি ইউনিয়ন রয়েছে এবং এটি দেশের বৃহৎ উপজেলা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায় ৬ লাখ লোকের বসবাস। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ জন। ১৯৭৩ সালে এ আসনে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ভুইয়া। ১৯৭৯ সালে ২য় সংসদ সদস্য ছিলেন, বিএনপির মোঃ মাঈন উদ্দিন ভুইয়া। ১৯৮৬ সালে ৩য় সংসদ সদস্য ছিলেন, আওয়ামী লীগের আসাদুল হক খসরু। ১৯৮৮ সালে ৪র্থ সংসদ সদস্য ছিলেন, জাতীয় পার্টির মোঃ মাঈন উদ্দিন ভুইয়া (তৎকালিন কৃষি উপমন্ত্রী)। ১৯৯১ সালে ৫ম সংসদ সদস্য ছিলেন, বিএনপির আব্দুল আলী মৃধা। ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ট সংসদ সদস্য ছিলেন, বিএনপির আব্দুল আলী মৃধা। একই সালের জুনে অনুষ্ঠিত ৭ম সংসদ সদস্য ছিলেন, আওয়ামী লীগের রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। এরপর ২০০১ সালে ৮ম সংসদ, ২০০৮ সালে ৯ম সংসদ এবং ২০১৪ সালে ১০ম সংসদ সদস্য নির্বাচন হয়ে অদ্যাবদি এ আসনটি দখল করে রেখেছেন সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু।
আওয়ামী লীগ: রায়পুরায় বর্তমান সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। এর আগে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ, পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। আগামী নির্বাচনেও তিনিই মনোনয়ন পাবেন এমন প্রত্যাশা তার থাকলেও দলের মধ্যে আরো একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। যারা বিভিন্নভাবে তাদের যোগ্যতার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি তার নিজ পরিবারের মধ্যেই রয়েছে প্রার্থী। তার ছোট ভাইও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
এ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের অন্যতম সদস্য। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দলের কেন্দ্রীয় নেতা, আমার জন্য মনোনয়ন মূখ্য বিষয় না। জননেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই ধারাবাহিকতায় উনি এক ঝাঁক যুবককে নিয়ে আগামীদিনে দল, সংসদ ও সরকারের সন্নিবেষ্টিত করতে চায়’।
কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সামছুল হক। তিনি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের তৃণমূলের ভোটে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সাংসদ অপর প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করায় তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সামছুল হক একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি। তিনি আলোকিত খবরকে-কে বলেন, ‘রায়পুরার জনগন পরিবর্তন চায়। জনগনের মনের ভাষাকে অনুধাবন করে, রায়পুরার মানুষের আকাঙ্খা পুরণের জন্য আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একাদশ সংসদ নির্বাচনে যদি আমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি রায়পুরার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন সমূহ এবং সর্বস্তরের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ্ নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করব’।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হারুন অর রশিদ। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক। মনোনয়ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থী হয়। নেত্রী যাকে নৌকা দিবেন আমরা সবাই নৌকার পক্ষে কাজ করবো। নৌকার বিজয় সুনিশ্চত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নতি অগ্রগতির অগ্রযাত্রা যেন অব্যহত থাকে এবং মুক্তিযোদ্ধের চেতনা যেন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়’।
মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। মনোনয়ন বিষয়ের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের একটাই টার্গেট মহান জাতীয় সংসদের সম্মানীত সদস্য হওয়া। আমার এ স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন আমার সরকারপ্রধান যিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী। উনার আন্তরিকতার উপর নির্ভর করে আগামী সংসদ নির্বাচনে কে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। আমি একটা জিনিস বুঝি সেটা হলো- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা দেন সাথে কিন্তু ৮০/৮৫ হাজার ভোটও দিয়ে দেন। পাশ করতে এক লাখ দশ বা এক লাখ বিশ হাজার ভোট লাগে। যাদের ব্যক্তিগত কারিশমায় ২০/৩০ হাজার ভোট জোগার করতে পারে তারাই এমপি নির্বাচিত হয়। রায়পুরার জনগণ মনে করে সেই কারিশমা নাকি আমার আছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে নৌকা উপহার দেন তাহলে নিশ্চিত আমি উনাকে এই আসনটি উপহার দিতে পারবো’।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। তিনি সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই। এছাড়া, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য।
ব্যারিষ্টার তৌফিকুর রাহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের অন্যতম সদস্য এবং কবি সামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।
বিএনপি: রায়পুরার সাধারণ মানুষ মনে করেন, এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি পিছিয়ে নেই। তারাও দলের চরম দূর্দিনে সরকারী দলের হামলা মামলার মধ্যেও নিরব প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, দল বর্তমান যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পার হচ্ছে সেটা থেকে উত্তোলনের জন্য সঠিক নেতৃত্ব দরকার। যে নেতৃত্বের মাধ্যমে এ আসনটি উদ্ধার করা সম্ভব। আগামী দিনে দল থেকে সঠিক নেতৃত্বের হাতে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আমার বিশ্বাস’।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এ. কে. নেছার উদ্দিন। তিনি কেন্দ্রীয় যুবদল কমিটির সহ-সভাপতি ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহমান খোকন আলোকিত খবরকে বলেন, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রত্যেকে মাঠে আছেন এবং তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইফতেখার আহমদ ভুইয়া ইতু। তিনি আরাফাত রহমান যুব ও ক্রীড়া সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি। মনোনয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা মরহুম মতলেব ভুইয়া পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী ও সাবেক এমপি ছিলেন এবং বড় ভাই মরহুম আব্দুল মোমেন ভুইয়া রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি রায়পুরায় বিএনপির হারানো এ আসনটি পূণরুদ্ধার করতে কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে হারানো এ আসনটি ফিরিয়ে আনতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস’।
আলহাজ্ব জামাল আহমেদ চৌধুরী। তিনি রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি আলোকিত খবরকে বলেন দলের দূর্দিনে নেতাকর্মীদের সুখে দুখে পাশে ছিলাম, আগামী দিনেও থাকবো। গত প্রায় দুই বছর পূর্বে আমার অজান্তে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়। রাজনৈতিক মাঠে তাদেরকে খুজে পাচ্ছেনা সাধারণ নেতাকর্মীরা। তাই দূর্দিনেও যেহেতু আমি ছিলাম সেহেতু আগামীদিনেও দল আমাকেই মনোনীত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
জাতীয় পার্টি : বড় দুটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলকে পুজি করে এ আসন দখলের স্বপ্ন দেখছেন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। এখানে জাতীয় পার্টির ব্যানারে কাজ করে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার এম.এ.সাত্তার। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও রায়পুরা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ রায়পুরা উপজেলায় জাতীয় পাটির সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও শারীরিকভাবে সহযোগিতা করিয়া আসছি। গত নির্বাচনে পার্টি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল, পরে পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের নির্দেশক্রমে মনোনয়ন প্রত্যাহার করি। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়, তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্টি আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি জয়ী হবো বলে আশাবাদী।
ভোটাররা যে যে দলের সমর্থকই হোক না কেন তাদের প্রছন্দের প্রতীকের সাথে যোগ্য প্রার্থীও হওয়া চাই। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশ পরিচালনা তথা এ উপজেলার অভিভাবক হবেন একজন যোগ্যতাসম্পন্ন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন রায়পুরার জনগণ।
আলোকিত খবর ডটকম/০২জুলাই১৮/মোঃ মোস্তফা খান।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..