লোহাগড়ায় মধুমতি নদীর ভাঙনে আতঙ্কে ৯ গ্রামের মানুষ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ২৫৭ বার পঠিত

আবু আব্দুল্লাহ, লোহাগড়া প্রতিনিধি : কিছুতেই থামছে না মধুমতি নদীর ভাঙন। প্রতিদিনই বাড়িঘর, গাছপালা ফসলি জমি বিলিন হয়ে যাওয়ায় নদীর পাড়ে চলছে কান্না,আহাজারি দুঃখ আর ক্ষোভ। রাক্ষুসী মধুমতি হিংস থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শত শত পরিবারের জীবন সংসার। সব কিছু হারিয়ে একটু মাথা গোজার ঠাই খুজতে দিশেহারা হয়ে ছুটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো। তার পরেও চোখের সামনেই বিলিন হয়ে যায় বাপ-দাদার কবর। এ সব ক্ষতিগ্রস্ত দের মধ্যে অনেকই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ।
গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার মহিশাহপাড়া, মঙ্গলহাটা, করফা, আতোষপাড়া, শিয়রবর, মাকড়াইল, রামকান্তপুর ও ঘাঘা গ্রামে মধুমতি নদী ব্যাপক হারে ভাঙনের রুপ নিয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বাড়ি ঘর। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক বাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে মধুমতিতে বিলীন হওয়া মহিষাহপাড়া গ্রামের সেলিম শিকদার,রকিব মৃধা, ইকরাম মৃধা, জাকির মৃধা, দিলু মৃধা, মরিয়ম বেগম, চায়না বেগম, জাহানারা বেগম, কুদ্দুস শেখ, হিলু মুসাল্লী ও শিয়রবর গ্রামে হাসান মুন্সী, আতিয়ার, দেলোয়ার, নিলু, রাজ্জাক, আক্তার, আক্কাস, মিন্টু, ইকবলসহ অনেকইর বাড়ি রয়েছে।
গত শুত্রুবার বিকালে মধুমতি নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা।
মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদ্যস জিন্নাত শেখ বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে মহিষাহপাড়া এলাকায় মধুমতি নদী ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি নিজেই আমার ৯টা বাড়ি সরিয়েছি। পরে সরকারি সিএন্ডবি (রাস্তার পাশে) কোন রকম ঘর তুলে বসবাস করছি। মাননীয় প্রধানন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা তিনি যেন মধুমতি নদীর তীর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে। শিয়রবর গ্রামের রওশন শিকদার বলেন, আমাদের বাড়ি চার বার মধুমতী নদীতে বিলীন হয়েছে। এ বছর নদী যে ভাবে ভাঙছে তাতে মনে হয় এবারও বাড়ি সরাতে হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এম.এম. আরাফাত হোসেন বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সাহায্যের জন্য যারা আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠিয়ে দিয়েছি। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওযার জন্য লিখিত ভাবে জানিয়েছি।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, আমরা শিয়রবর বাজার এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু মহিষাহপাড়া, মঙ্গলহাটা, করফা, আতোষপাড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার না থাকায় কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আলোকিত খবর/১১সেপ্টেম্বর২০১৮/মোঃ মোস্তফা খান।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..