বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা কারাগার

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
  • ৫০ বার পঠিত

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা কারাগারের চিত্র। ‘অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার উর্ধ্বে উঠে এ কারাগার বন্দীদের শিষ্টাচার, মার্জিত, সুন্দর ও মানবিক জীবনে ফিরতে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলা চলে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনও চাহিদা মাফিক হয়নি; রয়েছে জনবল সংকটও।

একারণে বেশ কিছু অভিযোগ পরোক্ষভাবে উঠে আসে।কক্সবাজার জেলা কারাগার নিয়ে ইতিপূর্বে প্রায় অভিযোগ আসতো- ক্যাশ টেবিলে অত্যাচার, ভিজিটর বাণিজ্য, খাবারের মান খারাপ, বন্দী স্থানান্তর ও হাসপাতালে সিট বাণিজ্য করা হয়। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে বেশ কয়েকজন জেল ফেরত ব্যক্তির সাথে খোলামেলা আলাপ হয়। তাদের মধ্যে রহমত উল্লাহর (ছদ্মনাম) সাথে আলাপকালে জানা যায়, তিনি (৪৫)
স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। চেক জালিয়াতি মামলায় জেলে যেতে হয়েছিলো।

কারা অভ্যান্তরের পরিবেশ নিয়ে তিনি জানান, সেখানে আসলে যে ধরণের অনিয়মের  কথা আমরা বাহিরে শোনে থাকি ওই ধরণের কোনো অনিয়ম নেই। স্বাভাবিক ভাবে ঘরোয়া পরিবেশ ছেড়ে আসামী হয়ে ভিন্ন একটি জায়গায় এলে স্বাভাবিক ভাবে মনে হবে খুব অশান্তিতে আছি। বিষয়টি আসলে তেমনই। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দীর বিষয়টি মূলত কক্সবাজার জেলা কারাগারের অন্যতম একটি দুর্ভোগের বিষয়।আর খাবার দেয় খুব মেপে মেপে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও বেশি যত্বামন হওয়া উচিত। অন্যদিকে কারা অভ্যন্তরে পরিপাটি পরিবেশ, সুন্দর সুন্দর দেয়াল লিখন, বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের দৃশ্য এবং শিক্ষণীয় নানা আলপনা,
বন্দীদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুব্যবস্থা, শিশুপার্ক, নতুন ভবন, রান্নাঘর, কেন্টিন, পতাকা মঞ্চ, দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগারসহ সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চমৎকার এবং সন্তোষজনক। এক কথায় একটি মানবিক কারাগারের উজ্জ্বল
দৃষ্টান্ত।

বন্দী এবং কারা ফেরত লোকজনদের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. বজলুর রশিদ আখন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৮ গুণ বন্দী থাকায় তাদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। তবে শীগ্রই বন্দীদের এই আবাসন সমস্যা সমাধান হবে। কারা অভ্যন্তরে নির্মাণাধীন ৬ তলা ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সম্প্রতি এক জটিকা সফরে এসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসময় আবাসন সমস্যা সমাধানে কারা অভ্যন্তরে নির্মাণাধীন ৬ ভবনের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

আলাপের এক পর্যায়ে খাবারের মান নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বন্দীদের খাবার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মাত্রার উপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়। এখানে কমবেশি করার কোনো সুযোগ নেই। টাকার উপর ভিত্তি করে খাবার দেওয়া হয়না। প্রতিজন বন্দী কতটুকু খাবার পারে এর একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়ে রেখেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ এই নির্ধারিত পরিমাণের কম-বেশি করার কোনো সুযোগ নেই। খাবারের নির্ধারিত পরিমাণ চলমান বাজারের দ্রব্যমূল্যের উপর হিসাব করে দেখা গেছে একজন বন্দী বর্তমানে সারাদিনে ৬৭ টাকার খাবার পেয়ে
থাকেন। একারণেই মূলত বন্দীরা কর্তৃপক্ষকে দারুণভাবে ভূল বুঝে থাকে। এছাড়াও বন্দী স্থানান্তরে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধারণ ক্ষমতার প্রায় আটগুণ বেশি এখন বন্দীর সংখ্যা। এক্ষেত্রে অনন্যোপায় হয়ে বন্দী স্থানান্তর করতে হয়। এখন এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অনেকেই মনে করে থাকেন এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে। আসল চিত্র কিন্তু তা না। এদিকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা তোলে ধরে প্রতিবেদককে তিনি আরও জানান- একজন সহ. ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে কারা হাসপাতাল। কারাগারের চিকিৎসা বিভাগে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। একারণে অনেক সময় বন্দীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করতে হয়। কক্সবাজার জেলা কারাগারের বিশেষ একটি আকর্ষণ হচ্ছে মহিলাবন্দীদের সাথে থাকা শিশুদের জন্য নির্মিত শিশুপার্ক। দৃষ্টিনন্দন এই শিশু পার্ক মহিলাবন্দীদের সাথে থাকা শিশুদের জন্য শুধু বিনোদনই নয়; এটি প্রতিটি নিরপরাধ শিশুকে মুক্ত জীবনের ছোঁয়া পেতে সহায়তা করে। বন্দীদের সাথে কর্তৃপক্ষের আচরণগত বিষয়ে জানতে চাইলে জেল সুপার জানান, বন্দীদের সাথে তিনি প্রতিদিন অন্তত দুইবার করে হলেও কথা বলেন। তাদের অপরাধ প্রবণতা কমাতে নিয়মিত দীক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি আরও বলেন, বন্দীদের তিনি এটা বুঝাতে চেষ্টা করেন কারাগার কখনওই আপন
নিবাস নয়; এটি সংশোধনের একটি রাস্তা মাত্র।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..