এফডিসিতে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন শুরু

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৪৩ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক:-  এফডিসিতে নানা বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে আজ সকাল থেকে উদযাপিত হচ্ছে সপ্তম জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। সকাল থেকেই চলচ্চিত্রের বেশকিছু শিল্পী, কলাকুশলীতে মুখর হয়ে উঠেছে এফডিসির আঙ্গিনা। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘চলচ্চিত্র বাঁচলে সংস্কৃতি বাঁচবে’। এফডিসির প্রধান গেইটে ও এফডিসির ভেতরে নানা জায়গায় হারানো দিনের ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের নানান পোস্টার এফডিসিজুড়ে ভিন্নরকম রং ছড়ায়। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এফডিসি’র ঝর্না স্পটের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়ানোর মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন আয়োজনের পর্দা ওঠে। উদ্বোধনের সময় তথ্যমন্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ হাসান ইমাম, জনপ্রিয় অভিনেতা ড. ইনামুল হক, চিত্রনায়ক আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, চিত্রনায়িকা অঞ্জনা, রোজিনা, শাহনূর, তথ্যমন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক, এফডিসি’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, চলচ্চিত্রের অভিনেতা সুব্রত, সম্রাট, চিত্রনায়িকা আইরিনসহ অনেকে। উদ্বোধনের পর এফডিসির প্রশাসনিক ভবনের পাশে মূল মঞ্চে সকলে আসন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, চলচ্চিত্রের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদে বিল উত্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন। সে সময় যদি তিনি চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা না করতেন তাহলে আমাদের দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হত না। আমাদের দেশে সেসময় যেভাবে কলকাতার ছবি, হিন্দী ছবি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ছবির বাজার তৈরি হয়েছিল সেটির ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশে আর চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে উঠত না।

এজন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আজকের চলচ্চিত্র দিবসের মত বিশেষ দিনে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এফডিসি প্রতিষ্ঠার পর আমাদের দেশে বহু কালজয়ী ছবি নির্মাণ হয়েছে। এমনকি স্বাধীনতার আগে ও স্বাধীনতার পরে অসংখ্য ভালো মানের ছবি নির্মাণ হয়েছিল। যেগুলো পরবর্তীতে দেশগঠন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরো বলেন, একটি চলচ্চিত্র সমাজের ক্যানভাস পরিবর্তন করে দিতে পারে। একটি চলচ্চিত্র মানুষকে কাঁদায়, মানুষকে হাসায়। সমগ্র বিশ্বে চলচ্চিত্র শিল্পের কোনো বিকল্প কিছু নেই। চলচ্চিত্রশিল্পের বিকল্প টেলিভিশন নয়, নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখা নয়, ইউটিউবে কোনো সিনেমা দেখা নয়। চলচ্চিত্রের বিকল্প চলচ্চিত্র অন্য কিছু হতে পারে না। এক সময় চলচ্চিত্র শিল্পের স্বর্ণযুগ ছিল। মঞ্চে আজ যারা বসে আছেন তারা সকলে স্বর্ণযুগের শিল্পী। তখন প্রতি সপ্তাহে দুটি করেও ছবি মুক্তি পেত। বছরে ১২০টির বেশি সিনেমা মুক্তি পেত, যা এখন নেই। কেনো নেই? সেটির অনেক উত্তর আছে। আমি মনে করি, আমাদের সবার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা রয়েছে।

সম্মিলিত দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে চলচ্চিত্রকে আবার সেই স্বর্ণযুগে নিয়ে যাবার জন্য, মানুষকে সুস্থ বিনোদন দেয়ার জন্য, মানুষকে হলমুখী করার জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এজন্য এরইমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই যে এফডিসি চত্বর ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। আধুনিক ঢাকা শহরের সাথে এই চত্বরের মিল একটু কম। সেজন্য আমরা এফডিসিকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও লেন্স কেনার জন্য যা ইতিমধ্যে করাও হয়েছে। এছাড়া আমরা এফডিসিতে ৩২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি। যেখানে শুধুমাত্র এফডিসির অফিসগুলো শুধু থাকবে তা নয়, সেখানে আধুনিক সিনেমা হল থাকবে, সেখানে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট নানা অফিস থাকবে। এই ভবনটি নির্মাণ হলে এফডিসি লাভবান হবে এবং এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এদিকে চলচ্চিত্র দিবসের আয়োজন হিসেবে আজ  বেলা ৩টায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপ্তির একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে আট নম্বর ফ্লোরে। এছাড়া বিশেষ টক শোর পাশাপাশি আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র ও সংগীত শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে নাচ ও গানে পারফর্ম করেন শোবিজ তারকারা। পুরো আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর করেছে বেক্সিমকো। সূত্র:- মানব জমিন

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..