ভৈরবে প্রতিবেশিদের অপমান সইতে না পেরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৯
  • ৪৪ বার পঠিত

 

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥ কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যেরচর গ্রামে প্রতিবেশিদের অপমান সইতে না পেরে নিজ বসত ঘরৈ ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে ২২ বছরের অনার্স পড়োয়া শেষ বর্ষের কলেজ ছাত্রী তানিয়া। তানিয়া বেগম মধ্যেরচর
গ্রামের মীর বাড়ির মিলন মিয়ার কন্যা। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্বাজনরা পুলিশকে খবর দিলে বেলা পৌনে ২টার দিকে এসআই আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, প্রেমের টানে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের প্রবাসী কালাম মিয়ার মিজানুর রহমান (২৪) তানিয়ার সাথে দেখা করেত তাঁর বাড়িতে যায়। এমন সময় এলাকার কিছুলোকজন বাড়ি ঘেরাও করে মিজানকে আটক করে। পরদিন বেলা ১১ টার দিকে স্থানীয় নেতারা দুজনকে বিয়ে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ২শ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেখা নিয়ে কৌশলে মিজানকে ছেড়ে দেয়। মিজান ছাড়া পেয়ে বিয়ে করার কথা অস্বীকার করে। এদিকে এলাকার লোকজন এঘটনায় মেয়ের পরিবারকে গালাগালি, বাড়িতে ঢিল ছুড়া ও মানষিকভাবে টর্চার করাসহ পরিবারটিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।

প্রতিবেশীদের চাপের মুখে লাজ লজ্জার ভয়ে তানিয়া নিজ বসত ঘরে বাশের ধর্ণাতে উরনা পেচিয়ে আতœহত্যার পথ বেছে নেয়। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে স্থানিয় উৎসুক জনতা ভীড় জমায় নিহতের লাশ দেখতে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা
হবে বলে জানান নিহত নিহতের মা শেফালী বেগম। নিহত তানিয়ার গত কয়েক বছর আগে বিয়ে হলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ডিভোর্স হয়। পরে সে এক মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলো। নিজের এবং মেয়ের ভরণ পোষণের জন্য স্থানীয় একটি প্রাইভেট
হাসপাতালে নার্সের চাকুরির পাশাপাশি সরকারি জিল্লুর রহমান অর্নাস মহিলা কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিল।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোখরেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জে প্রেরণ করা হবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এঘটনায় কারো সংশিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..