ভারতে চলছে বিজয় উৎসব

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯
  • ১২ বার পঠিত

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্র বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপির বিশাল জয়ের পর দলটির নেতাকর্মীরা রাজ্যে রাজ্যে উৎসবে মেতে উঠেছেন। গতকাল শুক্রবারও উল্লাস করেছেন তারা, গায়ে মেখেছেন আনন্দের আবির। মেতেছেন আতশবাজির উৎসবে। দলীয় কার্যালয়ে বইছে মিষ্টি আর ফুলের বন্যা।

নির্বাচন কমিশন গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে। এতে দেখা যায়, ৫৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ৩০৩টি। জোটসঙ্গীদের নিয়ে তা দাঁড়িয়েছে ৩৫৩-এ। কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৫২ আসন, মিত্রদেরসহ ৯১টি। অন্যান্য দল ও জোট পেয়েছে ৯৮ আসন। একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। খবর এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

ইতিমধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের পরবর্তী মন্ত্রিসভা গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। অন্যদিকে ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রপতি লোকসভা ভেঙে দেওয়ার পরই নবনির্বাচিত সাংসদদের তালিকা রাষ্ট্রপতিকে তুলে দেবে নির্বাচন কমিশন। এরপর সপ্তদশ লোকসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা। চলছে জল্পনা-কল্পনা। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পক্ষ থেকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী বুধবার রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নিতে পারে মোদির দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা। আজ শনিবার বিজেপি জোটের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

মোদি ২০১৪ সালের মে মাসে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোনকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে বিজেপি।

লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর কংগ্রেসে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা ও দোষারোপের রাজনীতি। পরাজয়ের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ভোটের ফল পর্যালোচনা করতে আজ কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি বৈঠকে বসবে দিল্লিতে। সেখানেই রাহুল পদত্যাগ করতে পারেন। লোকসভা নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর হতাশ হয়ে কংগ্রেস পার্টির নেতারা পদত্যাগ করছেন। এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশের সভাপতি রাজ বাব্বরসহ তিন রাজ্যের দলীয়প্রধানরা রাহুল গান্ধীর কাছে তাদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

এবার কংগ্রেসের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই নির্বাচনী বৈতরণি পেরুতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। হেরে যাওয়া নেতাদের মধ্যে দিল্লির তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিতও রয়েছেন। এদিকে ষোড়শ লোকসভার মতো এবারও বিরোধী দলের নেতা পাচ্ছে না লোকসভা। এবার কংগ্রেস পেয়েছে ৫২ আসন। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় বিরোধী নেতা নির্বাচন করতে হলে কোনো দলের অন্তত ৫৫টি আসন থাকা দরকার।

মন্ত্রিসভা নিয়ে জল্পনা :নতুন সরকার গঠনে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন মোদি। স্বভাবতই মন্ত্রিসভা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র- এই ‘বিগ ফোর’-এ কারা থাকবেন, সেসব নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিজেপির অন্দরের খবর, অমিত শাহকে দলের নেতৃত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিত্বে আনা হতে পারে। অসুস্থতার জন্য মন্ত্রিসভার বাইরে রাখা হতে পারে অরুণ জেটলিকে। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সাফল্যের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ওই রাজ্যের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

স্পিকার নির্বাচন নিয়েও জল্পনা রয়েছে। এবার লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। ফলে সপ্তদশ লোকসভার স্পিকার নিয়েও শুরু হয়েছে ভাবনা-চিন্তা।

এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পীযূষ গয়াল। অরুণ জেটলি বিদেশে থাকার সময় তিনিই এই মন্ত্রণালয় সামলেছেন। এমনকি, ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটও পেশ করেছেন। তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট। ফলে অরুণ জেটলি দায়িত্ব নিতে না চাইলে বা দলের সিদ্ধান্তে তাকে বাইরে রাখা হলে এ মন্ত্রণালয়ের হাল ধরতে পারেন মহারাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ গয়াল।

বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাজে সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী। মনোহর পারিকর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছেড়ে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন নির্মলা সীতারামন। তার পারফরম্যান্সও সন্তোষজনক। ফলে এই দুই দপ্তর পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা। রাজনাথ সিংকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে।

কংগ্রেস শিবিরের সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে আমেথিতে। প্রায় চার দশক ধরে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস তথা গান্ধী পরিবারের দুর্গ আমেথিতে এবার রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে জয়ের মাল্য পরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। পুরস্কার হিসেবে বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে তার পদোন্নতি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিরাট সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। দুই আসন থেকে এবার ১৮-তে পৌঁছে গেছে গেরুয়া শিবির। আগেরবার দার্জিলিংয়ের সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া এবং আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় দু’জনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাটা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কতজন বাড়বে এবং কারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

সূত্র:- সমকাল

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..