মমতার পদত্যাগ প্রস্তাব

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ মে, ২০১৯
  • ১০ বার পঠিত

ভোটে হারার পর পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল শনিবার তাঁর দলের নির্বাচন-পরবর্তী বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষ করে নিজেই এ কথা জানালেন। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। মমতা বলেন, চেয়ারের আমাকে প্রয়োজন, আমার চেয়ারের প্রয়োজন নেই।

বিজেপির কাছে তৃণমূলকে কেন এত বেশি আসন খোয়াতে হলো, কোথায় কী ত্রুটি হয়েছিল এবং এই ক্ষয় মেরামত হবে কিভাবে, সব নিয়েই এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রের খবর।

মমতা অভিযোগ করেন, পাঁচ মাস রাজ্য সরকারকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, উন্নয়নের কোনো দাম নেই। এত কিছু করেও আমাদের ভোট ৪ শতাংশ বেড়েছে। ওরা জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। তবু গণতন্ত্রে সংখ্যা জরুরি বিষয়। প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। কিন্তু মনে রাখতে হবে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়িয়ে জিতেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। হিন্দু-মুসলমান ভোট ভাগাভাগি করেই ওরা জিতেছে। আমি কখনো এসব করি না। দরকার হলে একা থাকতে রাজি আছি। আমি নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। ভাটপাড়ায় দাঙ্গা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে কমিশন। তাঁর দাবি, পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়ে বিজেপি ভোট কিনেছে। পরিবারে পাঁচজন ভোটার থাকলে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে টাকা ঢুকিয়ে দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করেছে কমিশন। মমতা বলেন, ‘আমরা এখনো রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তবু বিজেপি ভাঙচুর করেছে। কংগ্রেস কখনো কখনো আত্মসমর্পণ করে। আমি করি না।

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, পাকিস্তানকে সাহায্য করছে বিরোধীরা। সেই বিষয়ের উল্লেখ করে মমতা বলেন, পাকিস্তানকে শপথ গ্রহণে ডাকা হচ্ছে আর নির্বাচনের সময় সবাইকে পাকিস্তানের চর বলা হয়েছে। এই দ্বিচারিতার কারণ কী? ইভিএমে কারচুপি হয়েছে বলে মমতার অভিযোগ। তাঁর প্রশ্ন পাঁচ-ছয়টা রাজ্যে বিরোধীরা একটা আসনও পায়নি। সেটা হয় কী করে? ইভিএমে কারচুপি করা হয়েছে অভিযোগ মমতার। যেসব আসনে আমরা এক লাখ ভোটের কমে হেরেছি সেগুলো নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও লড়াই করেনি সিপিএম। পুরো ভোট বিজেপিকে দিয়ে দিয়েছি।

বৈঠকে কয়েকটি আসনের পরাজিত প্রার্থীকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। মালদার তৃণমূলের সভাপতি হলেন মৌসম বেনজির নূর। একই ভাবে পদ পেলেন অর্পিতা ঘোষ ও বীরবাহা সোরেন। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা নির্বাচিত হলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলের দায়িত্ব পেলেন শুভেন্দু অধিকারী। আগে এই দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য মন্ত্রিসভায় নিজের দপ্তর ফিরে পাচ্ছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..