মায়ের হাতে এক কাপ চা…..

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৯

সোহরাব হোসেন চৌধুরী

আজ ১০ জুন আমার মায়ের  ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী। মা শব্দের এই ছোট্ট ধ্বনিটি শুনতে ও ডাকতে যেমন মধুর লাগে। তেমন টিকমত শুনতে বা ডাকতে না পারলে তার কষ্ট লাগে বহু গুন। যে কষ্টের কথা নিজেকে একা মনের মাঝে লুকিয়ে দুই চোখের জলে বিলিয়ে দেওয়া ছাড়া গতি নেই। আজ আমাদের মাঝে মা বেঁচে নেই, আছে শুধু মায়ের স্মৃতি ও আদর্শ। চলতি জীবনে চলার পথে প্রতিদিন মায়ের অনেক স্মৃতির
কথা মনে পড়ে, মনে পড়া স্মৃতি শুধু ছবি হয়ে চোখের সামনে ভাসে। মায়ের একটি স্মৃতির কথা আমাকে প্রতিটি মূর্হুতে নাড়া দেয়। তাহলো “আমার মায়ের হাতে এক কাপ চা” আমি খুব চা পান করি।প্রতি দিনের মত আজও মায়ের হাতের এক কাপ চায়ের জন্য মনটা চটপট করে করে। প্রতিদিন সকালে ‘মা’ আমার ঘুমের বিছানার কাছে এসে আমার কানে ও মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলত ওঠ নামাজ পড়ে, চা খেয়ে
নে এক নাম্বার চা, খুব মাজার চা, পরে পাবি’না, প্রায় সময় আমি ঘুম থেকে জাগতে দেরি হত। ঘুম থেকে জেগে দেখি “মা” আমার জন্য এক কাপ চা লুকিয়েরাখেন।

আমি যখন প্রাথমিক বিদ্যারয়ে স্কুলের ছাত্র ছিলাম। সে সময় স্কুলে ক্লাসের যে কোন এক ফাঁকে আমি “মায়ের হাতের এক কাপ চা” খাওয়ার জন্য বাসায় ছুটে আসতাম। একদিন মা আমাকে বলল, তুই প্রতিদিন কেমনে জানতে পারিস আমি কখন চা রান্না করছি। আমি বলি জানি’না ,তবে আমার মন বলে এখন আপনি চা রান্না করছেন। আমি মাকে ছাড়া সহজে কোথাও বেড়াতে যেতাম না, কারণ মায়ের হাতে চা পাব না তাই। বেশির ভাগ মায়ের সাথে যেতাম বেড়াতে। আমি শহরের যেখানে থাকি’না কেন, যেমনে পারি মায়ের হাতের চা খাওয়ার জন্য মায়ের কাছে চলে আসতাম। মা শুধু আমাকে এক কাপ চা খাওয়ানোর জন্য অনেক সময় দুধ, চিনি, চা পাতা ও নাস্তা লুকিয়ে রাখতেন। যে দিন মায়ের হাতে শেষ চা খাব, তখন মা আমাকে এক কাপ চা দিয়ে, মাও চা পান করেন কিšু— কোন কথা বলেনি মা। এরপর
থেকে আর মায়ের হাতের চা খাওয়া ও মায়ের কন্ঠ শুনিনি। শুধু মা সবার দিক থাকিয়ে থাকত আর একা হলে চোখের জল ফেলত। আজ মাগো তোমার হাতের চা খেতে পারছি না কত দিন ধরে। কেউ মাগো আমাকে সকালে ডাকে না, তোমার হাতের চা পাই না।

 

মাগো তোমার রেখে যাওয়া পাঁচ সন্তানের মাঝে আমি সবার ছোট। তোমার রেখে যাওয়া ছোট ছেলেটি যেমন ছিল, তেমন আছে শুধু তোমার হাতের এক কাপ চায়ের আশায় বসে থাকে। মাগো তোমার যন্ত্রণা আমি অনেক উপভোগ করেছি এবং তুমি মাগো নিরবে প্রচুর কেঁদেছ তাও আমি দেখেছি এক সময় আমিও সামনে কেঁদেছি আর আমাকে আপনার বুকে আমার মাথা নিয়ে গিয়ে ছিলেন ও চোখে জল মুছে দেন, মাগো তো আমার চোখের জল কেউ মুছে না। মাগো তোমাকে আমি প্রায় রাতে স্বপ্নে দেখি তবে সকালে দেখি তুমি হৃদয়ে ছবির ফ্রেমে। একদিন আমার প্রথম একটি লেখা পত্রিকায় ছাপানো হয়েছিল লেখাটি দেখে তুমি মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ছিলে। তাই বুঝি
মা আজ তোমার কথা আমাকে লিখতে হচ্ছে। মাগো তুমি পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগের দিন রাতে আমি একটি চায়ের ‘মগ’ কিনে ছিলাম, তা দেখে ইশারায় বলেছিলে আরো বড় থেকে কেন কিনো নি, তাহলে কি আমার চোখের জল ঐ বড় মগে নেওয়ার জন্য কিনতে বলেছিলে। আসলে মা পরিবারে ছোট ছেলের প্রতি আলাদা একটা মায়া তা কি সত্যিই তুমি প্রমাণ করে দিলে। তুমি কখনো তোমার মনের কষ্ট কাউকে বুঝতে দাওনি এবং কাউকে আদর থেকে বঞ্চিত করনি ও কিছু চাওয়া থেকে কাউকে ফিরিয়ে দাওনি। যদি মাগো আমার সম্ভব হত তাহলে তোমাকে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে ভাল ডাক্টার দেখাতাম, আমি মাগো তোমার কাছে চিরদিন ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তোমার জন্য
কিছূই করতে পারিনি, কারণ আমার কিছু ছিল না এখনো নেই ।

তবে মাগো আলাহ্’র রহমতে আমি এই পৃথিবী যতদিন বেঁেচ থাকবো ততদিন তোমার মৃত্যু বার্ষিকীতে মানুষের মাঝে স্মরণ করিয়ে দেব এবং সবার কাছে প্রতিদিন তুমিসহ পৃথিবী মৃত ও জীবিত সকলের জন্য দোয়া চাইবো। পরিশেষে আমি আল্লাহর কাছে চাইবো হে
আল্লাহ, আমার জীবনে যদি একটি সুয়াব করে থাকি তা আপনি আমার মায়ের দরবারে পৌছে দিন এবং আমার মায়ের যদি গুনাহ থাকে সব গুনাহ আমাকে দিন। বিনিময়ে আমার মাকে জান্নাত দিন। সাবার জন্য দোয়া রইল। আল্লাহ হাফেজ।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..