দিনাজপুরে রামসাগর উদ্যান থেকে পাচারের সময় বন বিভাগের গাড়িসহ কাঠ আটক 

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯
  • ২৬ বার পঠিত

 

মোঃ ওয়াহেদুর রহমান \ দিনাজপুরে রামসাগর জাতীয় উদ্যান থেকে কাঠ পাচারের সময় বন বিভাগের কাঠসহ গাড়ি আটক করে
পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে সহকারী বন সংরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত
কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮ টার দিকে বন বিভাগের পিকআপে বেশ কিছু সেগুন ও আকাশমনি গাছের কাঠ পাচার করে
স’মিলে নেয়ার সময় কাঠ ও চালকসহ গাড়িটি আটক করে স্থানীয়রা। আটক গাড়ী চালক মোঃ কোরবান আলী জানান, তিনি
শনিবার সন্ধ্যায় পিকআপে করে ঘাস নিয়ে রামসাগরে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার সময় রামসাগরের তত্বধায়ক আব্দুস
সালাম তুহিন তাকে কিছু কাঠ স‘মিলে নিয়ে যেতে বলেন।

এতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তাকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বাসার রান্না ঘরের দরজা জানালার কাজ হবে এ জন্য
কাঠ গুলো চিরাই করার জন্য পুলহাট একটি স‘মিলে নিয়ে যেতে বলেন। সে কারণে তিনি ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও কাঠ গুলো নিয়ে
যাচ্ছিলেন। গাড়ীর চালক কোরবান আলীর অভিযোগ তাকে চাকুরির ভয় দেখিয়ে গাছ পাচার করতে বাধ্য করা হয়েছে। এর আগেও তাকে
দিয়ে এ কাজ করানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় মনা মিয়া ও ফয়সাল হোসেন জানান এই পাচারের সঙ্গে রামসাগরের তত্ত¡াবধায়ক
আব্দুস সালাম তুহিন অনেক দিন থেকেই জড়িত। রাতের বেলা,দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান
ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক কাঠ, গাড়ী ও চালককে পুলিশের হেফাজতে দেন। তিনি বলেন, রামসাগরের তত্ত¡াবধায়ক আব্দুস সালাম
তুহিনের কাজ সরকারী সম্পদ গাছ রক্ষা করা, উল্টো তিনি কাঠ পাচার করে স’মিলে পাঠাচ্ছিলেন, এর বিচার হতেই হবে। তিনি
আরো জানান, তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে গতকাল রবিবার সহকারী বন
সংরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন
কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামসাগরের তত্ত¡াবধায়ক আব্দুস সালাম তুহিন
জানান, রামসাগর জাতীয় উদ্যানে অনেকে শ্যাড বানাতে চান, অনেকে মাদক বিক্রি করেন, আবার অনেকের অসামাজিক কার্যক্রমে
বাঁধা দেই, তাই আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমি ডিএফও স্যারের নির্দেশে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ গুলো ডিএফও
অফিসে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছি মাত্র। এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোঃ রেদওয়ানুর রহিম জানান, বিভাগীয় বন
কর্মকর্তা প্রথমে আটক কাঠ, গাড়ী ও চালককে পুলিশের হেফাজতে দেন। পরে গাড়ী চালককে তিনি নিজ জিম্মায় নিয়ে
যান। এখন কোন মামলা করেননি। ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। গাড়ী এবং কাঠ থানা হেফাজতে
রয়েছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..