হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৯
  • ৩৪ বার পঠিত

মুফতী খন্দকার আজিজুল হক ইয়াকুবী : হালাল বা বৈধ উপায়ে রুযি উপার্জন করা প্রতিটি মানুষের উপর অপরিহার্য। কেননা আল্লাহ তায়ালা নিজে যেমন পবিত্র তেমনই তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারিমে নবী-রাসুলগণকেও পবিত্র খাদ্য গ্রহণের আদেশ দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওহে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্য হতে খাও এবং ভালো কাজ করো। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কর্ম সম্মন্ধে অধিক অবগত”। (সুরা মু’মিনুন:৫১) সকল মানুষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “হে লোকসকল ! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র খাদ্যদ্রব্য থেকে ভক্ষণ করো,আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সুরা বাকারা:১৬৮) অপর এক আয়াতে মুমিনদের উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্যদ্রব্য আহার কর, যা কিছু আমি তোমাদের রুযী হিসেবে প্রদান করেছি। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করো।” (সুরা বাকারা:১৭২) সম্পদ অর্জনের বৈধ পদ্ধতি সমূহের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, নিজ জমিতে উৎপাদিত ফসল, বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা, শ্রমের বিনিময়ে অর্থ অন্যতম। নিজের ও পোষ্যদের ভরনপোষণের জন্য বৈধ উপার্জনের পন্থা অবলম্বন করা নামাজ, রোযার মতই ফরজ ও ইবাদত তুল্য। যেমনটি রাসুল সাঃ বলেছেন, “ফরজ ইবাদত আদায়ের পর হালাল রুযী উপার্জন করা ফরজ “।

(শুয়াবুল ইমান,বায়হাকী) এইকথার মর্মার্থ এই যে,মানুষ আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগি করবে। ইবাদাত বন্দেগির জন্য প্রয়োজন শরীর ও সম্পদ। তাই ইবাদতের উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন মত সম্পদ থাকা দরকার। তাছাড়া দুনিয়ায় কেউ একাকী নয়। প্রত্যেকেরই রয়েছে মাতা -পিতা, স্ত্রী, পুত্র -কন্যা, ভাই-বোন, আত্মীয় -স্বজন এবং আরো অনেক হকদার ও দাবিদার। এদের ভরণপোষণ ও দাবি মিটানো অনেক ক্ষেত্রে ফরজও হয়ে থাকে। আর সম্পদ না থাকলে এ দায়-দায়িত্বগুলি পালন করা যায় না। তাই আল্লাহ তায়ালার ফরজকৃত ইবাদত আদায়ের পর নফল ইবাদত বন্দেগী করার পূর্বে আরেক ফরজ হলো প্রয়োজন মত নিজের ও পোষ্যদের ভরণপোষণের জন্য হালাল ও বৈধ পন্থায় উপার্জন করা। পবিত্র কুরআনুল কারিমের আয়াত সমূহ প্রধানত পাঁচ ভাগে বিভক্ত। হালাল, হারাম, মুহকাম, মুতাশাবিহ ও আমছাল।

এগুলির মধ্যে হালালকে হালাল বা বৈধ মনে করে গ্রহণ করা এবং হারামকে হারাম বা অবৈধ মনে করে পরিহার কর্তব্য। একজন মুসলমান ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুধু মাত্র তার ঈমান, নামজ, রোযা ইত্যাদির হিসাব দিতে হবেনা বরং সে দুনিয়ায় নিজে যা ভোগ করেছে, পোষ্যদের যা ভোগ করিয়েছে, ওয়ারিশদের জন্য যা কিছু রেখে গেছে, পাওনাদারদের পাওনা আদায় করেছি কি করে নাই ইত্যাদি সে কিভাবে উপার্জন করেছিল? কিভাবে ব্যয় করেছিল? আল্লাহ তায়ালার হক ও মানুষের হক যথাযথ ভাবে আদায় করেছিল কিনা? এসব বিষয়েও জবাবদিহি করতে হবে।

সুতরাং শতভাগ হালাল উপার্জন নিশ্চিত করার স্বার্থে হারামকে সম্পূর্ণ রূপে বর্জন করতে হবে এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয় পরিহার করে হারাম উপার্জন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে । হারাম বিষয় চাকচিক্য হওয়া সত্ত্বেও সংরক্ষিত এলাকার ঘাসের মত। তার পাশে পশু চরালে যেমন পশু সহ রাখালের জীবনও বিপন্ন হওয়ার আশংকা থাকে, তদ্রূপ হারামের মধ্যে পতিত হলে ধ্বংস অবধারিত। রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “সাবধান! নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে এক টুকরো মাংস আছে, যখন তা পরিশুদ্ধ হয় তখন সমস্ত শরীর পরিশুদ্ধ হয়। আর যখন তা বিনষ্ট হয় তখন সমস্ত শরীর বিনষ্ট হয়। সাবধান! তা হলো-‘ক্বলব’ (অন্তকরণ)”।

(বুখারী ও মুসলিম) এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, মানুষের মন যদি দ্বীন ও শরীয়ত মোতাবেক চলার জন্য উদ্বুদ্ধ হয় তাহলে শরীয়তের উপর সুদৃঢ় থাকা সম্ভব হয়। কেননা, অন্তঃকরণ হচ্ছে শরীরের চালক। তাই সকলের উচিৎ নিজ অন্তঃকরণের পরিশুদ্ধি অর্জনের বিষয়ে সচেতন হওয়া। কারণ, আত্মশুদ্ধি অর্জনের উপরেই নির্ভর করে মানব জীবনের সফলতা। এব্যপারে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ” যে ব্যক্তি তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করলো সে সফলতা অর্জন করলো। আর যে ব্যক্তি তার আত্মাকে কলুষিত করলো সে ব্যর্থ হলো।” (সুরা শামস) অন্যত্র রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, হালাল রিযিক দোয়া কবুলের শর্ত।

রাসুলুল্লাহ সাঃ আরও বলেছেন, “হারাম ভক্ষণকারীর শরীর জান্নাতে প্রবেশ করিবে না।”(মেশকাত শরীফ) নবী করীম সাঃ এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ” যে ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে ধুলা-মলিন চেহারা ও পোশাক নিয়ে আসমানের দিকে দু’হাত তুলে ইয়া রব!ইয়া রব! বলে দুআ করে অতচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক হারাম এবং তার জীবিকাও হারাম। তাহলে কিভাবে তার দুআ কবুল হতে পারে? ( মুসলিম শরীফ) এ হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে দুআ কবুলের অনেক শর্তই পূর্ণ মাত্রায় থাকা সত্ত্বেও শুধু মাত্র তার সাথে হারাম মালের সম্পর্ক থাকার কারণে তার দুআ প্রত্যাখ্যাত হল।

সুতরাং ইবাদাত ও দুআ কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন পূর্বশর্ত। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হালাল উপায়ে রিযিক উপার্জনের তাওফিক দান করুন -আমিন!! ইয়া রাব্বাল আলামীন। লেখক : প্রতিষ্ঠাতা মোহতামীম, মাদরাসায়ে মুহাম্মাদ সাঃ ঢাকা। দপ্তর সম্পাদক, ইত্তেফাকুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..