নওয়াজ শরিফকে সাজা দিতে বাধ্য করা হয়েছিলঃ মরিয়ম নওয়াজ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯
সংবাদ সম্মেলনে মরিয়ম নওয়াজ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সাজা দিতে বিচারককে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। পাকিস্তান মুসলিম লিগের-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এই নেত্রী তার বাবাকে দেয়া আদালতের বিচারকের সাজা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। মরিয়মের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আপস করা হয়েছে। চাপের মুখে পড়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে তার বাবাকে। সংবাদসূত্র : পিটিআই, এবিপি নিউজ

দুর্নীতির মামলায় নওয়াজ শরিফকে সাজা দিতে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা ‘ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টাবিলিটি বু্যরো’র (এনএবি) একজন বিচারকের দেয়া স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মরিয়ম নওয়াজ। এতে ওই বিচারক স্বীকার করেছেন, দুর্নীতির মামলায় সাজা দিতে তাকে (বিচারককে) বস্ন্যাকমেইল এবং বাধ্য করা হয়েছে। লাহোরে শনিবার দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মরিয়ম। এ সময় তিনি বলেন,

তার বাবার বিচারপ্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে সাজানো।

প্রমাণ স্বরূপ শনিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেত্রী মরিয়ম। পরে দলের পক্ষ থেকে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও (সোশ্যাল মিডিয়া) সেটি পোস্ট করা হয়। তাতে পিএমএলএন নেতা নাসির বাটের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় ইসলামাবাদ আদালতের বিচারপতি আরশাদ মালিককে। দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা চলাকালীন আরশাদ জানান, বাইরে থেকে চাপ আসছিল। বস্ন্যাকমেইল করা হচ্ছিল তাকে, যাতে কোনোভাবেই রেহাই না পান নওয়াজ। শেষমেশ চাপের মুখে নতিস্বীকার করেন তিনি। দুর্নীতির সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও নওয়াজ শরিফকে কারাদন্ড দেন।

মরিয়ম বলেন, আদালতে ন্যায্যবিচার পাননি তার বাবা। এই ভিডিওটিই এখন সহায়। মরিয়ম আরও বলেন, ‘বাবার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ এবং বেআইনি লেনদেনের কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে সাফ জানিয়েছেন বিচারপতি মালিক। একটি ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে তাকে লাগাতার বস্ন্যাকমেইল করা হচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে বাবাকে ওই সাজা শোনান তিনি।’

নওয়াজ শরিফকে সাজা শোনানোর পর ওই বিচারপতি একাধিকবার আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছেন বলেও দাবি করেন মরিয়ম। ভিডিওটি সামনে আসার পর তার বাবাকে আর জেলে রাখা ঠিক হবে না বলে মনে করেন মরিয়ম। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টে নওয়াজ শরিফের জামিনের মামলায় ভিডিওটি ব্যবহার করা হতে পারে।

তবে যে ভিডিওকে অস্ত্র করে নওয়াজ শরিফের মুক্তির দাবি তুলছেন মরিয়ম, সেটিকে বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে পাল্টা দাবি তুলেছে ইমরান খান সরকার। তাদের দাবি, বিকৃত ভিডিও প্রকাশ করা অপরাধ। এতে বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। ভিডিওটি পরীক্ষা করে দেখারও দাবি তুলেছে তারা।

এদিকে, ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে বলে রোববার দাবি করেন বিচারপতি আরশাদ মালিকও। পাক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমি রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দা। বিচারপতি হওয়ার আগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছি সেখানে। নাসির বাটও সেখানকারই বাসিন্দা। অনেকদিনের পরিচয় আমাদের। তার ভাই আবদুলস্নাহর সঙ্গেও একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে।’ তিনি বলেছেন, মরিয়ম যা বলছেন, তা মোটেও সত্যি নয়। নাসিরের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছিল। তারই কিছু অংশ বিকৃত করে সামনে আনা হয়েছে।’ মামলার শুনানি চলাকালীন নওয়াজ শরিফের পরিবারই বরং তাকে ঘুষ দিতে চেয়েছিল বলেও উল্টো দাবি করেন আরশাদ মালিক। চাপে পড়ে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার অভিযোগকেও খারিজ করেন তিনি।

দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ বর্তমানে একটি দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদন্ড ভোগ করেছেন। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি লাহোরের কোট লাখপাত কারাগারে বন্দি। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নাম আসা সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও দুটি দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন। তবে নওয়াজ শরিফ এবং তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..