” আসুন পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখি,, ডেঙ্গু মুক্ত জীবন গড়ি “

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৯
  • ২৩ বার পঠিত

 ডালিয়া চৌধুরী।

ডেঙ্গু একটি ডেঙ্গু-ভাইরাস ঘটিত সংক্রামক রোগ। এটি দিনের বেলায় দংশনকারী Aedes aegypti মশা এসব ভাইরাসের বাহক। ডেঙ্গু ভাইরাস Flaviviridae গোত্রভুক্ত। ডেঙ্গুজ্বর প্রধানত এশিয়ার গ্রীষ্মন্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রামক ব্যাধি। সচরাচর দৃষ্ট ডেঙ্গুজ্বর,,,যাকে প্রায়ই ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু বলা হয়। এটি একটি তীব্র ধরনের জ্বর যা হঠাৎ জ্বর হওয়া ছাড়াও,,থাকে মাথার সামনে প্রচন্ড ব্যথা, চক্ষুগোলকে ব্যথা, বমি ও লাল লাল ফুসকড়ি চিহ্ন সারা গায়ে দেখা যায়। এই জ্বরের শুরুতে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে য়ায়, ( ৩৮০ –৪০০ সে,) এবং( ২–৭) দিন পর্যন্ত এই জ্বর চলতে থাকে।

 

Aedes aegypti মশা জনবসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকেই বংশ বৃদ্ধি করে। এদের লাভা– বেশির ভাগই – পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ফেলে দেয়া নারিকেলের খোল, ফুলদানি, ফুলের টবের নিচের থালায় জমে থাকা পানিতে, জমে থাকা গাছের গর্তে,,,এধরনের নানা প্রাকৃতিক স্হানে এরা বড় হয়।এরা দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। এরা বেশির ভাগ সকালের প্রথম দিকে ও বিকেলের শেষের দিকে কামড় দিয়ে থাকে। আরেক ধরনের ডেঙ্গু আছে, যাকে বলা হয়,,, ‘রক্তক্ষরা ‘ ডেঙ্গু। এটি দক্ষিন- পূর্ব এশিয়ার প্রধানত শিশুদের একটি রোগ। এই রক্তক্ষরা ডেঙ্গু একটি মারাত্নক রোগের ধরন। এই রোগের লক্ষন গুলে বয়স নির্বিশেষে সকলের ক্ষত্রেই অভিন্ন। এই ডেঙ্গু জ্বরের শুরুতে হঠাৎ দেহের তাপ বেড়ে যায় ( ৩৮০ -৪০০ সে,) এবং (২-৭) দিন পর্যন্ত চলে।

 

এতে মাথাব্যথা, ক্রমাগতজ্বর,, দূর্বলতা, অস্থিসন্ধি, ও মাংসপেশির তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে।এই রোগটি শ্বাসযন্রের উর্ধ্বাংশের সংক্রমন সহ রোগটি হালকা ভাবে শুরু হলেও আচমকা শক ওত্বকের অভ্যন্তরে রক্ত ক্ষরন ও কান দিয়ে রক্ত ক্ষরন শুরু হয় যা খুবই বিপদ জনক। ডেঙ্গু- সক সিনড্রম নামে আরেক ধরনের ডেঙ্গুজ্বর যা হলে সঙ্কুচিত নাড়ি চাপের সৃষ্টি হয়, নিন্ম রক্ত চাপ দেখা দেয়, অথবা সুস্পষ্ট শকসহ রক্ত সঞ্চালনের বৈকল্য তৈরী করে। দেহের বাইরে থেকে যকৃৎ স্পর্শ করাযায় ও তা নরম হয়ে ওঠে। তাছাড়া জন্ডিসের লক্ষনও দেখা যায়। অব্যাহত পেট ব্যথা, থেকে থেকে বমি, অস্হিরতা বা অবসন্নতা এবং হঠাৎ জ্বর ছেড়ে ঘাম সহ শরীর ঠান্ডা হওয়া ও দেহ সম্পূর্ন নেতিয়ে পড়া, এই ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষন। ডঙ্গুজ্বরের কোনো প্রতিষেধক নেই। এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ঔষধ বের হয়নি। তবে বর্তমানে,, থাইল্যান্ডে এই রোগের ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হয়েছে।

 

সাধারনত ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে দেহের রোগ প্রতিরোধ সামথ্য থাকে কিন্তু রক্তক্ষরা ডেঙ্গুতে বেশির ভাগ রোগীই মারা যায়। তাই পরিবেশ পরিচ্ছন্ন আর মশার বিরুদ্ধেই নিয়ন্ত্রন পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের মূলমন্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এ মশা যেনো কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্হা করা।প্রথমেই পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যেমন,,বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এই এডিস মশা স্বচ্ছপানিতে জন্মে থাকে তাই বাসার ফুলদানি, অব্যবহ্নত কৌটা, ডাবের খোসা পরিত্যক্ত টায়ার, দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে,,,যেনো পাঁচ দিনের বেশি পানি কোথাও জমে না থাকে। যমন,, অ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনারের নিচে পানি জমানো জাবে না।

 

দিনের বলায় ঘুমালেও,, মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। স্প্রে, কয়েল, মেট, ব্যবহার করতে হবে।ডেঙ্গু আক্রন্ত রোগীকে অবশ্যই মশারির নিচে রাখতে হবে। আক্রান্ত রেগীকে তরল জাতীয় খাদ্য খেতে হবে। এই জ্বরে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ খাওয়ানো যাবে। কিন্তু এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ঔষধ কোন ক্রমেই রোগীকে খাওয়ানো যাবে না। ঘরের বারান্দা, জানালায়,, নেট লাগালে মশা নিয়ন্ত্রনে সুবিধে হয়। এভাবে উপযুক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলে গন সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিরাময় করা সম্ভব। তাই,, আসুন পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখি ও ডেঙ্গু মুক্ত জীবন গড়ি।। ধন্যবাদ।

 

লেখক :  ডালিয়া চৌধুরী

সদস্য

পরিবেশবাদী সংগঠন

সবুজ আন্দোলন

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..