তিস্তা অববাহিকায় রেড এলার্ট জারি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৯
,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ঃ— একটানা ভারি বর্ষণ ও উজান(ভারত) থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । তাই তিস্তা অববাহিকায় রেড এলার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড । আজ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।  গত বৃহস্পতিবার থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেদিন তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেঃমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ক্রমান্বয়ে ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রকট বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় জেলার তিস্তা অববাহিকার ২টি উপজেলার প্রায় ১১টি ইউনিয়নের ২২/২৩ টি গ্রাম ও চরাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্রায় বিশ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে
 ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত রাত থেকে আমরা তিস্তা অববাহিকায় অবস্থিত চরাঞ্চল ও গ্রাম গুলোতে মাইকিং করে রেড এলার্ট জানিয়ে দিয়েছি। তাদেরকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন । কেউ কেউ তিস্তা বাঁধে ও বেরি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
 আজ শনিবার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এর সচিব কবির বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহিনুর আলম ও আজাহারুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তাঁরা বন্যার্তদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সরকারীভাবে ১শত ৫০ মেঃটন চাউল, ২০০০ প্যাকেট শুকনা খাবার  ও দেড় লাক্ষ টাকা বিতরণ করা হবে। আজ শনিবার ডিমলা উপজেলার খালিসা চাপানীতে ২০০ প্যাকেট ও পুর্বছাতনাই ইউনিয়নে ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আগামীকাল বাকী ইউনিয়ন গুলোতে বিতরণ অব্যাহত থাকবে ।
 ডিমলা উপজেলার পুর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, শোলমারী, ডাউয়াবাড়ী ও কৈমারী ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। বন্যার ফলে বিশুদ্ধ পানি ও জলের অভাব দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি এলাকাজুড়ে মেডিকেল টিম ওয়ার্ক করছেন। বন্যাদুর্গত এলাকায় তাৎক্ষণিক মনিটরিং এর জন্য ৫ সদস্যের মনিটরিং সেল ও কন্ট্রোলরুম করা হয়েছে মর্মে উপজেলা প্রশাসন জানান।
অপরদিকে বন্যার কারনে সরীসৃপ জাতীয় জীবের আবির্ভাব ঘটেছে । গত রাতে খালিসা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামের আমিনুর রহমান লংগুর স্ত্রী মোরশেদা বেগমকে তাদের টিউবওয়েল পাড়ে সাপ দংশন করলে তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে রাত দেড়টায় সে মারা যান।
Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..