কুরআন-হাদীসের আলোকে কেয়ামতের পূর্বাভাস

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৯

মোঃ ফরহাদ আলম:-  আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সৃজিত অপরূপ, অতুলনীয় পৃথিবী একদিন তাঁরই ইচ্ছায় ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে তার সুপরিকল্পনার অংশস্বরূপ তার আগে কিছু নিদর্শনও পরিদৃষ্ট হবে। যদিও মানুষ তা বুঝতে পারবে, কিন্তু সে ধ্বংশলীলা ঠেকানোর সাধ্য কারো থাকবেনা। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন

                                                                                                                                    إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١)

                                                                                                                                       وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾

                                                                                                                                              وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا ﴿٣﴾

অর্থাৎঃ-যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? (সূরা যিলযাল ১-৩)

সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষে বলা হয়েছে জগতের প্রলয়ের জন্য প্রথমবার শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া থেকে জান্নাতবাসীগণের জান্নাতে প্রবেশ ও জাহান্নামিদের জাহান্নামে গিয়ে স্থির হওয় পযন্ত সময় হচ্ছে ইয়াওমুল কেয়ামত বা কেয়ামত দিবস।

কেয়ামতের পূর্বাবাস বা আলামতঃ কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-

                                                                        فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا فَأَنَّى لَهُمْ إِذَا جَاءَتْهُمْ ذِكْرَاهُمْ ﴿١٨﴾

অর্থাৎঃ- তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে পড়ুক। বস্তুতঃ কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে ? (সূরা মুহাম্মদ-১৮)।

আমরা বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের মুখে শুনতে পাই যে, কেয়ামত! তাতো অনেক পরের কথা, ইমাম মাহদীর আগমন হবে, দার্জ্জালের আবির্ভাব হবে, হযরত ঈসা(আ) এর আগমন ইত্যাদি। কিন্তু আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে সে সম্পর্কে মানুষদের সতর্ক করেছেন।

আলামতে সুগরা (ছোট আলামত), সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফে চয়নকৃত একটি হাদিসে হযরত আনাস(রা) বলেছেন, নবী করীম (স) ইরশাদ করেছেনে যে, “কেয়ামতের পূর্ব লক্ষনসমূহ হলো ইলমে দ্বীনের চর্চা হ্রাস পাবে, দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে, মদ্যপান বেড়ে যাবে, পুরূষের সংখ্যা কমে মহিলাদের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পাবে যে, প্রায় পঞ্চাশজন মহিলার জন্য মাত্র একজন পুরুষ খাকবে”।

জামে তিরমিযী ও মিশকাত শরীফে সংকলিত অপর এক হাদিসে হয়রত আবু হুরায়রা(রা) বলেছেন “রাসূলুল্লাহ(স) ইরশাদ করেছেন, “*যখন লোকেরা ওয়াকফ সম্পত্তিকে নিজের সম্পদে পরিণত করবে *আমানতের মালকে গণিমতের মাল মনে করবে, *যাকাত প্রদানকে জরিমানা মনে করবে, *দ্বীনের উদ্দেশ্য ছাড়া ইলম হাসিল করা হবে, *স্বামীও তার স্ত্রীর তাবেদারি করবে এবং নিজ মায়ের অবাধ্য হবে, *বন্ধুবান্ধবকে ঘনিষ্ঠ করে নেবে আর পিতাকে দূরে সরিয়ে রাখবে, * মসজিদের মধ্যে শোরগোল প্রকাশ পাবে, *সমাজের ফাসিক লোকজন সমাজের নেতৃত্ব দেবে, *নিকৃষ্ট লোক দেশের কর্ণধার হবে, *অনিষ্টতার আশঙ্কায় মানুষের সম্মান করা হবে, গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রভাব ব্যাপকতর হবে, * মদ্যপান ব্যাপক আকার ধারণ করবে এবং এ উম্মতের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের নিন্দায় মুখরিত হবে তখন তোমাদের প্রতিক্ষায় থাকবে অগ্নিবায়ু, ভূমিকণা, আকৃতির পরিবর্তন, পাথর বৃষ্টি এবং ধারাবাহিক আলামত সমূহ।

হাদিসে উল্লেখিত কেয়ামতের ছোট আলামত সমূহ পড়ে আমার মনে হলো এখানকার অধিকাংশ আলামত গুলো দুনিয়াতে প্রকাশ পাচ্ছে।

তা ছাড়াও কেয়ামতের বড় আলামত তথা আলামতে কুবরা কেয়ামত পূর্বে প্রকাশিত হবে। আমাদের পূর্বসূরি যারা ছিলো তারা আজ আমাদের মাঝে নেই, ঠিক তেমনি আমাদের কেও একদিন এই দুনিয়ার সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি দিতে হবে। সেদিন টাকা,পয়সা, বাড়ী-গাড়ী, বিদ্যা-জ্ঞান সন্তান-সন্ততি কেও আমাদের সাথে যাবেনা। শুধু সঙ্গে যাবে ঈমান ও আমল তথা ভালো কাজ। তাই আসুন কেয়ামত তথা মৃত্যু আসার পূর্বে আমরা আমাদের সময়কে আল্লাহ ও তার রাসূল(স)এর দেখানো পথে পরিচালিত করি। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন

()  وَالْعَصْر

 ()إِنَّ الإِنْسَانَ لَفِيْ خُسْرٍ

 (৩)إِلاَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

অর্থ:- মহাকালের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনে সৎকর্ম করেছে এবং একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। (সূরা আসর ১-৩)

লেখকঃ মো: ফরহাদ আলম, শিক্ষার্থী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, সরকারী তিতুমীর কলেজ ,ঢাকা

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..