দারোগার দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় জামিনে থাকা আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ: অতঃপর

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯

থানায় জামিনে থাকা কাগজ জমা দেয়ার পরেও দারোগার দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় হয়রানীর উদ্দেশ্যে এক যুবককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে আদালতে জামিনের কাগজ দেখিয়ে মুক্তি পেয়েছেন ওই যুবক। ঘটনাটি জেলার উজিরপুর উপজেলার পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের।
শনিবার সকালে ওই গ্রামের দিনমজুর সোহরাব হোসেন বেপারী অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছর পূর্বে একটি সাজানো মামলায় তার পুত্র হাসান বেপারীকে (২১) গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ। ওই মামলায় দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছিলো হাসান। এরমধ্যে কয়েকটি তারিখে হাজিরা না দেয়ায় তার (হাসান) বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ওই মামলায় হাসান পূনরায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। গত ১৭ জুন ওই মামলায় পূনরায় হাসান জামিনে মুক্ত হয়ে ১৮ জুন উজিরপুর থানায় জামিনের কাগজ (রিকল) জমা দিয়ে রিসিফ কপি নিয়ে আসে।
সোহরাব হোসেন আরও জানান, গত ৮ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে থানার এসআই আইউবসহ কয়েকজন কনস্টবল তার বাড়িতে গিয়ে জামিনে থাকা মামলায় হাসানকে গ্রেফতার করে। এ সময় থানায় জমা দেওয়া জামিনের রিকলের কাগজ দেখানো হলেও তাতে কর্ণপাত না করে হাসানকে ছেড়ে দেয়ার জন্য এসআই আইউব ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। এসআই’র দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় বৃহস্পতিবার রাতভর হাসানকে থানায় আটক করে রাখা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে ওইদিন দুপুরে আইনজীবী সহকারী মনিরুজ্জামান ফরিদের সহায়তায় কোর্টের জিআরও’র কাছে জামিনের কাগজপত্র জমা দিয়ে হাসানকে মুক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে দিনমজুর সোহরাব হোসেন তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
টাকা দাবীর অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই আইউব জানান, আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, আসামি জামিনে থাকা কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..