সংবাদ শিরোনাম :
একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু ৭ নভেম্বর আবরার হত্যার প্রতিবাদে ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ বাবরি মসজিদ মামলার শুনানিতে তুমুল হট্টগোল, ম্যাপ ছিঁড়লেন আইনজীবী চালক-পথচারী উভয়কেই সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় কৃষক হত্যা মামলায় স্ত্রী-ভাইপোসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলা-ধুলার স্থিরচিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে সিরিয়া যুদ্ধের চিত্র ফতুল্লায় মা কর্তৃক শিশুপুত্রকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ ঘুমন্ত শিশু তুহিনকে নিয়ে আসে বাবা, খুন করে চাচা : পুলিশ

বিলাসবহুল গাড়ি মালিকদের আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখছে এনবিআর

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ বিলাসবহুল ও দামি গাড়ির মালিকদের আয়কর ফাইলের বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানে নেমেছে। প্রাথমিকভাবে কর বিভাগ এক হাজার বিলাসবহুল গাড়ির মালিকের তথ্য বিআরটিএর (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। ওসব গাড়ির মালিকের আয়ের উৎস, গাড়ি ক্রয়ের অর্থের উৎস, কী কী সম্পদ আছে, ওই সম্পদের সঙ্গে কর ফাইলে দেয়া আয়ের তথ্য ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা হবে। তাছাড়া কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের কত অংশ গাড়ি কেনায় ব্যয় করা যাবে, তা মানার একটি শর্ত রয়েছে। কোম্পানিগুলো তা মেনেছে কিনা- এসব বিষয়েও ওই কোম্পানিরও বিস্তারিত আয়-ব্যয়ের তথ্য নেয়া হবে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিআরটিএ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এক হাজার গাড়ির মালিকের স্ব-স্ব কর অঞ্চলের কর অফিসে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের কর অফিসগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে। সূত্র জানায়, বিলাসবহুল এবং দামি গাড়ি ব্যবহারকারীদের কর ফাইলে দেয়া তথ্য অনেক সময় তাদের আয় ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের গাড়ির ব্যবহারকারীদের যে আয় থাকার কথা, কর ফাইলে তা দেখা যায় না। ধারণা করা যায়- সঠিকভাবে অনুসন্ধান চালালে তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত দামের গাড়ির মালিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেয়া শুরু হবে। অবশ্য এ তালিকার আওতায় সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত-সুবিধায় আনা গাড়ি নেই। সূত্র আরো জানায়, এনবিআর আয়কর বাড়ানো নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (ই-টিআইএন) বাড়ছে। কিন্তু এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয়করের হিসাব জমা দেওয়ার হার বা রিটার্ন দাখিল কাক্সিক্ষত হারে বাড়ছে না। এনবিআরের হিসাবে বর্তমানে ই-টিআইএনধারী ৪০ লাখ হলেও এর অর্ধেকের বেশিই রিটার্ন জমা দেন না। অন্যদিকে যারা রিটার্ন জমা দেন, এর মধ্যেও বড়ো অঙ্কের আয়কর ফাঁকির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে টিআইএন জমা দেয়া ও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ পর্যন্ত গাড়ি কেনায় ব্যয় করা যায়। অন্যদিকে গাড়ির অবচয়নের ভিত্তিতে ক্রয়ের একটি সীমারেখা দেয়া রয়েছে। এসব নিয়ম মানা হয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করা হবে। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য মেফতা উদ্দিন খান জানান, যারা বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাদের অনেকেরই আয়কর ফাইলে দেয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিআরটিএর কাছ থেকে এরকম প্রায় এক হাজার গাড়ির মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে কর অফিসগুলোতে যাচাই-বাছাই করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত তথ্য, টাকা কোথায় পেল, তার কর ফাইলে কী দেখানো রয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..