চিত্ত চাঞ্চল্যের খিদা কমাতে করনীয়

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মন খারাপ, মানসিক চাপ, অতি আবেগ- এরকম অবস্থায় মুখরোচক খাবার খাওয়া সামলাতে রয়েছে উপায়। কারও সঙ্গে তুমুল ঝগড়া, অফিসে কোনো বাজে অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে প্রচÐ মন খারাপ। আর এই অবস্থায় বিশেষ কিছু খাওয়ার জন্য মন অস্থির হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি পরিচিত মনে হবে অনেকের কাছেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান যার নাম দিয়েছে ‘ইমোশনাল ইটিং’। তবে মানসিক অস্বস্তি কাটাতে অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবারের উপর জোর দেওয়া সামলানো আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এর পেছনে কাজ করে অনেকগুলো বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।
‘ইমোশনাল ইটিং’ কী?
মন খারাপ হলেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়া হল মানসিক চাপের প্ররিপ্রেক্ষিতে শরীরের ‘ফিজিওলজিকাল’ ও ‘সাইকোলজিকাল’ প্রতিক্রিয়া। মনের ভেতরে যে ঝড় বইছে তার প্রতি নিজেকে অমনোযোগী করে তুলতে বেশিরভাগ সময়ই মানুষ খাবারের আশ্রয় নেয়।
পুরুষের তুলনায় নারীরা এ ক্ষেত্রে বেশি ভুক্তভোগী। কেউ জেনে বুঝে সারাদিনের ধকল কাটাতে সুস্বাদু খাবার বেছে নেন, কেউ আবার মনের অজান্তেই। মানসিক দুরাবস্থা কাটাতে অতিরিক্ত খাওয়ার এই বদভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে নানান জটিলতা ডেকে আনতে পারে। যেমন- অতিরক্ত ওজন, খাওয়া নিয়ে অনুশোচনা, মানসিক চাপ কাটানোয় দুর্বলতা ইত্যাদি।
নিজেকে নিয়ন্ত্রণের উপায়: ক্ষোভ, হতাশা, দুঃখ- অনুভূতি যেটাই হোক, এর সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য মুখরোচক খাবার কেনার আগে ভাবতে হবে।
এই অবস্থায় প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একজন বন্ধুর শরণাপন্ন হওয়া, তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা কিংবা অন্য গল্প করা। প্রিয় লেখকের একটি বই নিয়ে বসে পড়তে পারেন কিংবা বাইরে হাঁটতে বের হতে পারে। খাওয়ার ইচ্ছে অদম্য হয়ে উঠলে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অল্প কিছু খেতে পারেন। আরেকটি কার্যকর উপায় হতে পারে পানি পান।
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা
খাবার দিয়েই কমানো যায় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে। আবার খাওয়ার অভ্যাস পাল্টেও আবেগতাড়িত খিদার অনুভ‚তি কমানো যেতে পারে।
* কমলালেবু হতে পারে এ ক্ষেত্রে সুন্দর সমাধান। মানসিক চাপে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে জাগে বেশি। একটা কমলায় প্রায় ৫০ ক্যালরি পাওয়া যায়। ফলে চিনি-জাতীয খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমাতে পারে কমলা। তাছাড়া এই ফলের খোসা ছাড়ানোর সময় যে গন্ধ বের হয়ে সেটাও মানসিক চাপে স্বস্তি দিতে পারে। আর ভিটামিন সি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করবে জোড়দার।
* যদি মচমচে খাবারের প্রতি বেশি আকর্ষণ জাগে তবে খাওয়া যেতে পারে বাদাম। পেস্তাবাদাম এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। এর খাস্তা স্বাদ কমাবে মুখরোচক খাবার খাওয়ার অনুভ‚তি। এছাড়াও রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশ। তাছাড়া রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে এই বাদাম।
* খাবার খেতে ব্যবহার করতে পারেন লাল রংয়ের পাত্র। কারণ লাল রং মস্তিষ্কে থেমে যাওয়ার সংকেত দেয়।
* ডান-হাতি হলে বাম হাতে আর বাম-হাতি হলে ডান হাতে খাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে খাওয়ার গতি কমানো সম্ভব।
* মানসিক চাপে থাকার সময়, ‘স্ট্রেস হরমন কর্টিসল’য়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার ফলে বাড়ে ওজন। কর্টিসলের মাত্রা কমাতে পান করা যেতে পারে চিনি ছাড়া রং চা। পাশাপাশি গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীর ছাড়তে হবে, শ্বাস প্রশ্বাসের এই ব্যায়াম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভুল করা থেকে বিরত থাকতে ফোন, ইমেইল, ফেইসবুক আপাতত বন্ধ রাখাই ভালো হবে। মানে যতক্ষণ না কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে।
আসল বিষয় হল
মানসিক অস্বস্তির সময় মূল কাজ হবে নিজের অনুভ‚তির প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং তা নিয়ে চিন্তা করা। সেই সঙ্গে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিজের যতœ নেওয়া।
আর বাস্তব জীবনে মানসিক চাপ আসবেই। সেটা মোকাবেলা করা শিখতে হবে আর সেই উপায় হতে হবে স্বাস্থ্যকর।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..