কথাগুলো কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, স্লিপ অব টাঙ : তাহেরী

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন দাওয়াতে ইমানী বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী। এরইমধ্যে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে আদালতে। মাজার পূজা, ওয়াজে নাচ-হাস্যরসসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে এই ইসলামি বক্তার বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে সবিস্তারে কথা বলেছেন আমাদের সাথে।

আপনার বিরুদ্ধে ওয়াজ নিয়ে একটি মামলা র আর্জি করা হয়েছে? 
আপনি তো মনে হয় মামলা হওয়ার যে আর্জি- সেটা শুনেছেন।  আপনি বাংলাদেশের নাগরিক ও একজন মুসলিম হিসেবে যে কথাগুলো নিয়ে, যে শব্দগুলো নিয়ে মামলা হয়েছে- সেসব কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কি না যাচাই করে দেখবেন। এসব হয়তোবা ওয়াজের প্রেক্ষাপট বা সভার আলোকে বলা হয়েছে। একটা মানুষ যখন দুই-আড়াইঘণ্টা ওয়াজ করলে তখন অপ্রাসঙ্গিক কিছু কথা চলে আসে। এটা স্লিপ অফ টাঙ হতে পারে। কন্ট্রোল ডিভাইস করার জন্য হতে পারে। এসব কথার জন্য মামলা হবে বা ধর্ম অবমাননা হবে বলে আমি মনে করি না।

আপনি বলতে চাইছেন ধর্ম অবমাননার যে বিষয় অভিযোগ পত্রে এসেছে-সেটা হয়নি?
যিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তাঁকে আমি চিনি না। আপনি কথাগুলো শুনবেন, আমার কথাগুলো বক্তার সঙ্গে শ্রোতাদের একটি সম্পর্ক  তৈরির প্রয়াস। সম্পর্ক হলে উপস্থিত অনেক কথাই বলে। সেসব কথা ইসলাম কিংবা কুরআন সুন্নাহর সাথে  সংঘর্ষ কি না, এই কথাটা উনি বুঝতে পেরেছেন কি না- আমি জানি না। সম্পর্ক আর সংঘর্ষ এক জিনিস না। কোন কথার দ্বারা ইসলামের অবমাননা হয়, কোন কথার দ্বারা অবমাননা হয় না- আমার মনে হয় উনি জানেন না।

তাহলে কী কারণে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হলো বলে আপনার মনে হয়? 
কেউ যদি কাউকে না পছন্দ করে, দেখতে না পারে- সেক্ষেত্রে তিনি অনেককিছুই করতে পারেন। কোনো আলেম-ওলামার ওয়াজের অংশ নিয়ে ট্রল করা, মজা করা এসব কুফর। উনারা যারা হুজুরদের, শুধু আমি তো একা না। আমার কথাগুলো তো শুধু সাধারণ কথা। বাংলা শব্দ, এরকম অনেকের মুখ থেকে এসব শব্দ বেরিয়ে যায়। এ সমস্ত হুজুরদের কথা নিয়ে যারা ট্রল করছে, মুসলিমদের অনুভূতিতে তারাই আঘাত করছে। যারা এসব বিষয়কে পুজি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায় তারা ইসলামের ক্ষতি করছে। ট্রলকারীরাই ইসলামকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করছে। আমি মনে করি তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া উচিৎ।

তার মানে বলছেন ‘ঢেলে দেই, বসে বসে যান’ এসব শব্দ-বাক্য নিয়ে যারা ট্রল করে তাদের বিচার করা উচিৎ? 
ওলামায়ে কেরামগণ বিভিন্ন সময় কথা বলেন। ওই যে বললাম দুই আড়াই ঘণ্টা কথা বললে একটু ক্লান্ত লাগে- দু একটি শব্দ স্লিপ অফ টাঙ হয়। কিনহতু এসব দুই আড়াই ঘণ্টা ওয়াজের মধ্যে কিন্তু সামান্যতম সময়- আর এই সময়ের বিষয়গুলোকে নিয়ে ট্রল করা হচ্ছে। সেগুলো অতিরঞ্জিত করে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে প্রচার করা হচ্ছে। একজন মুসলমান হিসেবে আপনিও নিশ্চই এসব কামনা করবেন না। যারা এসব করছে তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিৎ।

তাহলে  বলছেন ক্লান্তি দূর করার জন্য এসব শব্দ মাঝে মাঝে ব্যবহার… 
দেখেন আমি ১৭ বছর ধরে ওয়াজ করি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ঢেলে দেই’, ‘কোনো হইচই আছে?’ ‘পরিবেশটা সুন্দর না?’  এসব শব্দ বা বাক্য আমি কি অন্য সেন্সে বলতে পারি? আপনাদের বিবেক তো অবশ্যই আছে। আমি তো অন্য কোনো সেন্সে বলিনি, আমি তো উপস্থিতির আলোকেই বলবো। আমি শরীয়ত সম্মত, যেসব কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক নয় সেসব বলবো। হয়তো বা আমরা কখনো আবেগতাড়িত হয়ে কখনো এসব দু-একটি শব্দ বলে ফেলি। অনেক সময় অনেকেই তো এরকম দু-একটা কথা বলে ফেলে- তাই বলে একেবারে ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত এটা বলা ঠিক নয়।

অনেকেই আপনাকে মাজার পূজারি বলে- এই প্রসঙ্গ কোথা থেকে এল? 
মাজার আমরা পূজা করি না। মাজার আমরা জিয়ারত করি। অর্থাৎ আল্লাহ একজন এবং রাসুল (সাঃ) উনার বন্ধু। আমরা এক আল্লাহকে আল্লাহই জানি। মাজার কিন্তু এম্নিতে হয় না। একজন মানুষ যখন তাকওয়ার মাধ্যমে স্বীকৃতি লাভ করে, তখন তাঁকে খাটি মোমিন ও আল্লাহর অলি বলে। এভাবে অলি আউলিয়াদের ধারাবাহিকতা চলে আসছে। কোরআন শরীফেও আছে ‘তোমরা উছিলা তালাশ করো’ তখন আমরা আল্লাহর অলিদের মাধ্যমে বলি আল্লাহ, তোমার বন্ধুদের উছিলায় আমাদের কবুল করো। আমাদেরকে যারা মাজার পূজারি বলে তারা আমাদেরকে ডাহা মিথ্যা একটা উপাধি দেওয়ার চেষ্টা করে। খোঁজ নিয়ে দেখেন উনারাও তো হযরত শাহজালাল (রঃ), হযরত শাহ পরাণ (রঃ) মাজার জিয়ারত করতে যায়।

নাচানাচির অভিযোগ করা হয়েছে আপনার বিরুদ্ধে- এ প্রসঙ্গে কী বলবেন? 
আসলে নাচটা- আমারটাই শুধু অনেকে দেখল। ইসলামে জিকির আছে। যার যার হালত নিয়ে জিকির করা হয়। কোরআনে আছে, দাঁড়িয়ে বসে শুয়ে আল্লাহকে ডাকার জন্য। আমার আন্তরিকতাটা আমার মাঝে আছে। আমার এক ওয়াজে জিকিরের মধ্যে দেখলাম লম্বা চুলওয়ালা কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়েছেন। আমি তখন বলেছিলাম বসে যান। সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। ‘বসেন বসেন’ আমি ওই প্রসঙ্গে বলেছি। আমরা নামাজ দাঁড়িয়ে পড়ি। জিকির করার সময়  আল্লাহর একাগ্রতা চলে যাবো, তখন যদি ওইসব প্রেম ও ভক্তির চোখে দেখি তাহলে কিন্তু এই বিষয় নিয়ে সমালোচনা করার কথা নয়। তবে জিকির করলে আদব লাগবে। আর আদব যেন লঙ্ঘন না হয় এই মেসেজটাই আমি সবাইকে দেই এবং দেওয়ার চেষ্টা করি।

এই যে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে- কীভাবে মোকাবিলা করবেন? 
এখনো মামলা হয়নি। গতকাল মামলার আর্জি জানানো হয়েছে। তার ওপর আজ শুনানি রয়েছে। যদি মামলা হয়- তাহলে সেটা আইনি প্রক্রিয়ায় আমাকে মোকাবিলা করতে হবে।

আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে একটু জানালে ভালো হয়
আমি পড়েছি আলিয়া মাদরাসায়। মাদরাসা থেকে আমি সর্বোচ্চ পড়াশোনা করেছি। ছাত্র থাকা অবস্থায় আমি বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ করতে শুরু করি। এখন হয়তো একটু বেশি করছি। যাই হোক আমি কামিল পাশ করেছি, দুইবার টাইটেল করেছি।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..