‘অ্যাভাটার’ সিক্যুয়েলের আশা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’কে ঘিরে!

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’কে সিংহাসনচ্যুত করে শীর্ষস্থানে বসেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। সবাই ধরেই নিয়েছিল, এ নিয়ে বিতর্কিত কিছু বলে বসবেন ক্যামেরন। কারণ সুপারহিরো ছবিগুলোকে বরাবরই ধুয়ে দিয়েছেন তিনি। অথচ এবার হলো উল্টোটা। তার কণ্ঠে এখন অন্য সুর! ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ আয় করেছে ২৭৯ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার। এত বছর ২৭৮ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলারের ব্যবসা নিয়ে সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় এক নম্বরে ছিল ‘অ্যাভাটার’। রেকর্ড গড়া অর্জনের জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজনি ও মার্ভেল স্টুডিওসকে অভিনন্দন জানানোর পর জেমস ক্যামেরন এবার উল্লেখ করলেন, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজের এই ছবির সাফল্য তাকে অনেক আশাবাদী করে তুলেছে।
টুইটারে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর লোগো টাইটানিক জাহাজকে ডুবিয়ে দিচ্ছে এমন একটি গ্রাফিক্স পোস্ট করেছেন ক্যামেরন। প্রযোজক কেভিন ফাইগি ও মার্ভেল স্টুডিওর সবাইকে উদ্দেশ্য করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘একটি বরফখÐ সত্যিকারের টাইটানিককে ডুবিয়ে দিয়েছিল। আর অ্যাভেঞ্জার্স আমার টাইটানিককে ডোবালো! আপনাদের অসাধারণ সাফল্যকে স্যালুট জানাই। আপনারা দেখিয়ে দিলেন- চলচ্চিত্র শিল্প শুধু বেঁচে আছে তা নয়, বরং অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে! হলিউড ভিত্তিক অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট ডেডলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন বলেছেন, “অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিলো, মানুষ এখনও সিনেমা হলে যায়। ‘অ্যাভাটার টু’ ও ‘অ্যাভাটার থ্রি’ বানাতে গিয়ে সবচেয়ে যে ভয়টা পেয়েছি তা হলো, সিনেমার বাজার হয়তো অনেকখানি বদলে গেছে। এ কারণে অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে বসে অন্ধকার রুমে কিছু দেখার মতো উচ্ছ¡াস আর দর্শকের মধ্যে দেখা যাবে না। জেমস ক্যামেরনস¤প্রতি ৬৫তম জন্মদিনের কেক কেটেছেন ক্যামেরন। ক্যারিয়ারে মাত্র ১০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি। এর মধ্যে ‘অ্যাভাটার’ নির্মাণের পেছনে ব্যয় করেছেন ২১ বছরেরও বেশি সময়! এখন এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির শুটিং চলছে। এ ছাড়া ‘অ্যাভাটার ফোর’ ও ‘অ্যাভাটার ফাইভ’-এর প্রি-প্রোডাকশনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্যামেরনের কথায়, “অ্যাভাটার টু ও থ্রি কি যুগের ধারায় সেই রকম সাফল্য পাবে? কে জানে! আমরা চেষ্টা করছি। হয়তো পারবো, হয়তো ব্যর্থ হবো। মূল কথা হলো, এখনও তা সম্ভব। এখন সবাই স্ট্রিমিং সার্ভিস নিয়ে মেতে আছে দেখে দুশ্চিন্তা হয়, সিনেমা হলই বুঝি থাকবে না! তবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর অভাবনীয় সাফল্য দেখে খুশি হয়েছি। তবে স্ট্রিমিং সার্ভিস বিমুখ নন ক্যামেরন। তার কথায়, ‘আমি পুরোপুরি বড় পর্দা নিয়ে ভাবি। এখনও সিনেমা হল আছে বলে আমি আনন্দিত। এমন না যে, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য কখনও কিছু বানাবো না। তবে আমার চাওয়া, দুই-আড়াই ঘণ্টা মোবাইল ফোন বন্ধ করে দর্শক পর্দায় তাকিয়ে আছে। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার’। তখন চীনের চলচ্চিত্র বাজার ছিল নবজাতক পর্যায়ের। গত এক দশকে এটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ফলে আশা করা হচ্ছে, এর সুবাদে ‘অ্যাভাটার’-এর সিক্যুয়েলগুলো বক্স অফিসে নতুন নতুন রেকর্ড গড়বে। ‘অ্যাভাটার টু’ মুক্তি পাবে ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এর দুই বছর পর সিনেমা হলে আসবে ‘অ্যাভাটার থ্রি’।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..