রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জোট বাঁধছে তিন দেশ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: – ফের চীনের মধ্যস্ততায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তিন দেশের মধ্যে একটি ওয়াকিং গ্রুপ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষ্যে সকল দেশের নেতারা সেখাতে উপস্থিত থাকায় এক আলোচনায় ত্রিদেশীয় নেতাদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ত্রিপক্ষীয় দলটি যৌথভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এর প্রথম বৈঠকটি অক্টোবরে হবার কথা রয়েছে। তবে ওই বৈঠকের তারিখ কিংবা স্থান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে পুরো অঞ্চল জুড়ে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে; এ বিষয়েও চীন ও মিয়ানমার একমত পোষণ করেছে বলে মন্তব্য করেন ড. আবদুল মোমেন।

তাঁর মন্তব্যটি নিউ ইয়র্ক থেকে নিউজটুয়েন্টিফোর চ্যানেল প্রচার করেছে।

‘আমার ধারণা যে, চীন পুরোপুরি কমিটেড। তারা বলেছে, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় তারা। চীন ও মিয়ানমারও মনে করে, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে এ এলাকায় রেডিক্যালিজম হবে,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মিয়ানমারের বরাত দিয়ে জানান আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমার বলেছে ‘ডেঞ্জার,’ বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং এই অঞ্চলের জন্য।

পরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের ভেতর আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি স্বীকার করে বৈঠকে মিয়ানমার দাবি করেছে, নিজের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দেশটি।
পাশাপাশি, দেশে ফেরার পর রোহিঙ্গারা নিরাপদ থাকবে ও স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারবে বলেও বৈঠকে জানায় মিয়ানমার।

তবে দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমার ফিরে যেতে রাজি হননি। রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, ফিরে যাবার জন্য রাখাইনের পরিবেশ এখনো উপযুক্ত নয়।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য চীনের উদ্যোগে মিয়ানমারের সাথে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের কথা চলতি মাসের ১৭ তারিখ জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ৩০ আগস্ট তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে এই প্রস্তাব দেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সময়, রাখাইন পরিস্থিতি দেখতে সেখানে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদল পাঠানোরও প্রস্তাব করেন লি জিমিং। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে রাজি করাতে চীনের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রধান মুনশী ফায়েজ আহমদ বলেন, মিয়ানমারকে সকল আন্তর্জাতিক চাপ থেকে রক্ষা করছে চীন। তাই আমরা যদি চীনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে বোঝাতে পারি যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের জন্য মঙ্গল, তাহলে মিয়ানমার তার জনগণকে ফিরিয়ে নেবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..