ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের সংবাদ সম্মেলন ও আনন্দ র‌্যালী

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৯

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন (GAVI) কর্তৃক “ভ্যাকসিন হিরো” পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পরে রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা আপনার শিশুকে টিকা দিন লেখা সম্মলিত তাদের এ মণিপতাকা নিয়ে এক র‌্যালী করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হয়ে অওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি এনায়েত রাব্বি লিটন বলেন, আমাদের তৃণমুল স্বাস্থ্য সহকারীদের অক্লন্ত পরিশ্রমের ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ, জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্বরূপ “ভ্যাকসিন হিরো” সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এর জন্য আমরা আজ গর্বিত ও আনন্দিত। শুধু তাই নয় আমাদের কাজের মিনিময়ে এর আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে এমডিজি-৪ পুরষ্কার, সাউথ সাউথ পুরস্কার, গ্যাভি কর্তৃক শ্রেষ্ঠ টিকাদানকারী দেশের স্বীকৃতি অর্জন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার টিকাদানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, ধনুষ্টংকার মুক্তকরন এবং পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে WHOকর্তৃক পুরস্কার প্রাপ্তিতে পেয়েছে আন্তজার্তিক স্বীকৃতি। একমাত্র স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের সফলতায় আন্তর্জতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তাছাড়াও জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের যে বড় বড় সফলতা এসেছে তা তৃণমূলের স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।

আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরা বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদার প্রদানের জন্য দীর্ঘ দিন যাবৎ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহাকারীদের এক মহা-সমাবেশে তৎকালীন ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দাবি সমুহ মেনে নিয়েছিলেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অতিব
দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা আমাদের প্রধান দাবি বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা বাস্তবায়ন চাই।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা আজ বাংলাদেশ সরকারে মুখ উজ্জল করেছেন ও গর্বিত করছেন স্বাস্থ্য বিভাগকে। কিন্তু আজ আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরাই সরকারের সকল কর্মচারী থেকে ঘৃণিত ও নানান বঞ্চনার শিকার।
প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারী পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে ২৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও পদোন্নতি ভাগ্যে জুটে না। তারপর স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে আরও কমপক্ষে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পান, যখন চাকরির বয়স থাকে ৬-৭ মাস। তাছাড়া পদোন্নতির সময় বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। তার পরও বদলি করা হয় অন্য জেলা-উপজেলায়।

তিনি আরো বলেন, আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরা সপ্তাহে ৬ দিন সরকারি ছুটি ব্যতীত বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ,ঝুঁকিপূর্ণ রোগী শনাক্তকরণ,দেশে থেকে মরণব্যাধি গুটিবসন্ত দূরীকরণ,ম্যালেরিয়ার মহামারি দূরীকরণ, ডাইরিয়া নিয়ন্ত্রণ, ডিপথেরিয়া পার্টোসিস ও ধনুষ্টংকার নিয়ন্ত্রণ, শিশুদের যক্ষা নিয়ন্ত্রণ, হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণ, হেপাটাইসিস-বি নিয়ন্ত্রণ, গর্ভবতী, প্রসব-পূর্ব এবং প্রসব পরবতী সেবা, নবজাতকের সেবা, কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে ৩দিন বিভিন্ন প্রকার রোগ শনাক্ত করে রোগীদের মধ্যে সরকার প্রদত্ত ২৮ ধরনের ওষুধ বিতরণ, জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পইন, স্কুল স্কুলে কৃমিনাশন ট্যাবলেট বিতরণ করাসহ পোলিও মুক্ত দেশ গঠনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। এ ছাড়াও আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরা কফ পরীক্ষার জন্য কফ কেন্দ্রে রোগী প্রেরণ ও ডটস পদ্ধতিতে য²া রোগের ওষুধ খাওয়ানো, নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া, স্যানিটেশনসহ ১৫-৪৯ বছর বয়সের সব নারীর পাঁচ ডোজ টিটি টিকা দেওয়া এবং ০ থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রাপ্যতা অনুযায়ী ১০টি প্রতিষেধক টিকা দিয়ে থাকেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলছেন। আমাদের অনবদ্য কাজের ফলেই দেশ থেকে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল ওয়ারেশ পাশা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর নবী, বিসার মহসচিব হাফিজুর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য,গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাপক সফলতার জন্য ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ইমিউনাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।’
প্রধান মন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পূর্ব অনুষ্ঠানে প্রশংসপত্র পাঠ করনে নাইজেরিয়ার সাবেক অর্থ মন্ত্রী গ্যাভি বোর্ডের সভাপতি ড.এনগোজি অকোনজো ইবিলা। পত্রে তিনি বলেন, এই পুরষ্কার তাদের জন্য যারা শিশুদের জীবন রক্ষা জন্য জরুরী টিকাদানে উদ্যোগী হয়েছেন এবং কোন শিশু যাতে বাদ না পরে, তা নিশ্চিত করে কাজ করেছেন।
এ সময় পুরস্কার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী সেটা দেশবাসীকে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, ‘ভ্যাক্সিনেশনের জন্য বাংলাদেশের কঠোর পরিশ্রম আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের সহায়তা নিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অধীনে ইমুনাইজেশনে সরকার প্রতিশ্রতিবদ্ধ।’

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..