সংবাদ শিরোনাম :
স্বপ্ন পূরণের সিঁড়িতে এ সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা লোকমান রায়পুরায় কালের কন্ঠ শুভ সংঘের পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ আসছে কামরুল জামান কায়েস এর ‘তোমার ভালোবাসা’ মনির হোসেনের মাঝে হুমায়ুন আহমেদ কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন আজ পঞ্চগড়ে সবুজ আন্দোলনের উদ্যোগে জলবায়ু সমস্যা ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রায়পুরায় আন্ত:গ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট দ্বিতীয় দিনের খেলা অনুষ্ঠিত আল্লামা অলিপুরীর উপস্থিতিতে রাবেতাতুল ওয়ায়েজীনের বিশেষ বৈঠক বেনাপোল কাস্টম হাউসের ভল্ট ভেঙ্গে ১৯ কেজি স্বর্ণ চুরি মনোহরদীতে মাদক বিরোধী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে হাজারো মানুষের ঢল

পৌরমেয়র লোকমানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ,উচ্চ আদাল হত্যা মামলা পূণ:তদন্তের নির্দেশ দিলেও থমকে আছে বিচার কার্য

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯
নরসিংদী প্রতিনিধি : সালফি ও নাজা আজো খুঁজে তাদের বাবাকে । নরসিংদীর প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেন তাদের বাবা। ছোট শিশু নাজার মায়ের, দাদু ও চাচাদের কাছে একই কথা -তার বাবা কবে, কখন ফিরে আসবে। চোট্ট এই শিশুর এই প্রশ্নের জবাব কে দিবে? কিভাবেই বা বলবে তার তাদের আদরে বাবা সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে অন্য দুনিয়ায়। অপরদিকে সালফির সময় কাটে বাবার ছবি দেখে।
১ নভেম্বর শুক্রবার নরসিংদীর জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ত্রাসীরা শহরের জেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে তাকে।
লোকমান হত্যাকান্ডের ৮ম বর্ষে জনবন্ধু লোকমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি।
এদিকে প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের বিধবা স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলির প্রতি সহানুভুতিশীল হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা  সাংসদ করে নেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কতটা দিতে পেরেছে তা আজ নরসিংদীবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি তার নিজের পরিক্ষা অন্যকে দিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়া লোকমানের জনপ্রিয়তায় দাগ কেটেছে বলে মনে করছেন নরসিংদীবাসী।
জানা যায়, ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে দ্বিতীয় বারের মতো পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাসের মাথায় খুন হন লোকমান হোসেন। নির্মম হত্যার এই ঘটনা আজো মেনে নিতে পারেনি নরসিংদীবাসী।
এদিকে লোকমান হোসেনের ছোট দুই শিশু সন্তান সালফি এবং নাজার আজও অপেক্ষায় আছে তাদের বাবা ফিরে আসবে। লোকমানের পত্নী তামান্না নুসরাত বুবলী এমপি চোখের পানিও এখন শুকিয়ে গেছে। স্বামীর চলে যাওয়ায় তার স্মৃতি বুকে নিয়ে বিচারের অপেক্ষায় দিন গুণছেন।
উল্লেখ্য, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ নেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে লোকমান হোসেন কলেজ জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৪ সালে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন  পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিশাল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। জনপ্রিয়তার কারণে ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন লোকমান হোসেন। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সরকারকে ১৯ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি।
মেয়র লোকমান নরসিংদী পৌরসভায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন কাজ করে শহরকে সুন্দর ও আধুনিক রূপ দেন। আবার ট্যাক্স আদায়ে সরকারের পৌরসভা পারফরমেন্স রিভিউ কমিটির বিবেচনায় ২০০৬ সালে নরসিংদী পৌরসভা শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে। ফলে ২০০৮ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি’র বিবেচনায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মেয়রের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিভাগীয় মেয়র সমিতির সভাপতিও ছিলেন।
দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৮ মাস পর ২০১১ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় সংঘটিত লোকমান হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে অস্থির হয়ে উঠে গোটা নরসিংদী জেলা, আলোচনার ঝড় উঠে দেশজুড়ে। হত্যাকান্ডের দুই দিন পর লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল বাদী হয়ে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দুই মাসের মধ্যে একমাত্র বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত মামলার অন্যতম আসামী মোবারক হোসেন মোবা ছাড়া একে একে সকল আসামীরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বের হয়ে যায়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি দীর্ঘ ৮ মাস তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত ১৪ জন আসামীর মধ্যে প্রধান আসামীসহ ১১ আসামীকে বাদ দিয়ে এজাহার বহির্ভূত ১২ জনকে অভিযুক্ত করে নরসিংদী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল। কিন্তু এজাহারভুক্ত আসামীদের বাদ দেওয়ায় এ অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হতে পারেননি লোকমানের পরিবার। বাদী পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নারাজি আবেদন জানানো হলে বিজ্ঞ আদালত উক্ত নারাজি আবেদন খারিজ করে দেন। পরে বাদী জেলা জজ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করলে তাও খারিজ হয়ে যায়।
আবেদন খাজির হওয়ার পর উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয় মামলার বাদী নিহত লোকমানের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল। তবে পুলিশী তদন্তে এ হত্যা মামলার এজাহার বহির্ভূত আসামী কিলার শরিফ বলে খ্যাত শরিফুল ইসলাম শরিফসহ তার অপর ৩ সহযোগীকে অস্ত্র মামলায় আদালত ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে। এদিকে হত্যামামলার প্রধান আসামী মোবারক হোসেন মোবা গতবছর মেয়র লোকমানে মৃত্যূবার্ষিকীর আগের দিন (৩১ অক্টোবর ২০১৮) গ্রেফতার হয়।
লোকমান হত্যা মামলার বাদী ও নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে জুডিশিয়াল তদন্তে রয়েছে মামলাটি। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকমান হত্যার যথাযথ বিচার না হবে ততক্ষণ আইনী লড়াই চালিয়ে যাবো। এজন্য নরসিংদীবাসী আমার পাশে আছে।’
নিহত লোকমানের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী বলেন, মেয়র লোকমান হত্যার বিচার না হলে মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে। আমার মত প্রত্যেক নরসিংদীবাসীই চায় লোকমান হত্যার সঠিক বিচার। স্বামী হারানোর পর তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন বলেও তিনি জানান। এ জন্য আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ তার পাশে রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।
লোকমান হত্যাকান্ডের ৮ম বর্ষে জনবন্ধু লোকমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে,  পৌর কববস্থানে লোকমানের সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন। মিলাদ, দোয়া, গণভোজ ও স্মরনসভা।
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালত হতে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির পূন:তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পর থমকে যাওয়া মামলাটি আবার গতি ফিরে পাবে এটাই
প্রত্যাশা করছে জনবন্ধু লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশনসহ নরসিংদীবাসী।
Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..