সংবাদ শিরোনাম :
স্বপ্ন পূরণের সিঁড়িতে এ সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা লোকমান রায়পুরায় কালের কন্ঠ শুভ সংঘের পরীক্ষা উপকরণ বিতরণ আসছে কামরুল জামান কায়েস এর ‘তোমার ভালোবাসা’ মনির হোসেনের মাঝে হুমায়ুন আহমেদ কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন আজ পঞ্চগড়ে সবুজ আন্দোলনের উদ্যোগে জলবায়ু সমস্যা ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রায়পুরায় আন্ত:গ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট দ্বিতীয় দিনের খেলা অনুষ্ঠিত আল্লামা অলিপুরীর উপস্থিতিতে রাবেতাতুল ওয়ায়েজীনের বিশেষ বৈঠক বেনাপোল কাস্টম হাউসের ভল্ট ভেঙ্গে ১৯ কেজি স্বর্ণ চুরি মনোহরদীতে মাদক বিরোধী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে হাজারো মানুষের ঢল

পাঁচ দফা জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সাদেক হোসেন খোকা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে পাঁচ দফা জানাজা হয়। এসব জানাজায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে (নিউইয়র্ক সময় রাত ২টা ৫০ মিনিটে) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তার মরদেহবাহী কফিন ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে খোকার লাশ গ্রহণ করেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহবাহী গাড়ি সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা হয়। সঙ্গে হাজারও নেতাকর্মী। রাস্তার দুইপাশেও নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরদেহবাহী গাড়িটি পৌঁছায় সেখানে তার প্রথম জানাজার আগে বাবার জন্য দোয়া চান বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে মেয়র আতিকুল ইসলাম, এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বিএনপির সংসদ সদস্য এবং দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আরও অংশ নেন বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, হাজী সেলিম, আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, বিএনপি নেতাদের মধ্যে অংশ নেন মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, জমিরউদ্দিন সরকার, মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, জয়নুল আবদীন ফারুক, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।

দুপুর ১২টায় খোকার মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। আওয়ামী লীগের গোলাম দস্তগীর গাজী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাগপা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, তাঁতী দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মুক্তিযোদ্ধা দল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষথেকে খোকার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। এ সময় শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাবার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চান।

দেড়টার দিকে খোকার মরদেহবাহী কফিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে আসা মানুষের সমাগম নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, কাকরাইল এলাকার সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রয়াত নেতার কফিনটি দলীয় পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফুল দেয়া হয়। কালো কাপড়ে মোড়া অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয় কফিন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সবার প্রিয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা আমাদের ছেড়ে এমন একসময় চলে গেলেন, যখন আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি তাকে শেষ দেখা দেখতে পারলেন না। এই ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতনে সারা বাংলাদেশের মানুষ যখন অত্যাচারিত-লাঞ্ছিত, সেই সময়ে যে মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, খোকা তার অন্যতম। তার এই অকালে চলে যাওয়ায় যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হল, তা পূরণ হওয়ার নয়। পরে সেখানে দ্বিতীয় জানাজা হয়।

জানাজায় অংশ নেন বিএনপির শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আজম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবউন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনীর হোসেন, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার, জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, শামীম সাঈদী, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

পরে বিকাল ৩টায় খোকার মরদেহ নেয়া হয় তার সাবেক কর্মস্থল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে সেখানে তৃতীয় জানাজা হয়। এতে মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

পরে খোকার মরদেহ নেয়া হয় তার প্রিয় ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নে। কিছুক্ষণ রাখার পর সেখানে চতুর্থ জানাজা হয়। পরে কফিন গোপীবাগে পৈতৃক বাসভবনে নেয়া হয়। এ সময় আত্মীয়স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।

সেখান থেকে বাদ আসর ধুপখোলা মাঠে সর্বশেষ জানাজা হয়। পরে জুরাইন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তার লাশ। সেখানে পুলিশের ১৭ সদস্যের একটি চৌকস দল ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

পরে জুরাইনের পুরনো কবরস্থানে মা সালেহা খাতুন ও বাবা এমএ করীমের কবরের পাশে সাদেক হোসেন খোকাকে দাফন করা হয় ।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..