সংবাদ শিরোনাম :
রায়পুরায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের চেক বিতরণ বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু বাংলাদেশ ডেন্টাল এসোসিয়েশন নরসিংদী জেলা শাখার ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও সংবর্ধনা আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব সিটি নির্বাচন স্থগিতের আবেদন, খারিজ হওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১০ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু বার্ষিকীতে নরসিংদী জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ বাতিল হলো প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণীতে বহিষ্কারের নিয়ম ১৭ মার্চ সন্ধ্যা থেকে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি শুরু করবে ১৪ দল আগামী ২৩ জানুয়ারি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার রায়

ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

প্রাথমিক শিক্ষা হলো সকল শিক্ষার ভিত্তি। মূলত জন্মের পর হতেই পরিবার হতেই শুরু হয় এই শিক্ষা। মা হলো প্রথম শিক্ষক। হাটি হাটি পা পা করে বয়স যখন পাঁচে উত্তীর্ণ হয়, তখন তার প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি হতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। এ সময় তাদের খেলাধুলার ছলে বর্ণের পরিচয় ঘটে। শিশুর বয়স, মেধা ও সামর্থের বিবেচনায় পাঠ্যপুস্তকগুলো প্রনয়ণ করা হয়ে থাকে।
সময় পরিবর্তন হয়। শিক্ষার প্রসারের সাথে গুণগত মানকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয় বর্তমানে। জাতীয় উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও গতিশীল আনয়নের জন্য এ শিক্ষা চালকের ভ‚মিকা পালন করে। গুণগত এ শিক্ষার শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষা হতে। শিক্ষার প্রকৃত বীজটা বপন শিশুর কচি মনেই। তাই প্রারম্ভিক পর্যায়টা গুরুত্বপূর্ন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই জন সম্পদের উন্নয়ন। তাই বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাই প্রাথমিক শিক্ষা ভিতটা হতে হবে মজবুত এবং শিক্ষার মান হবে উন্নত। এক সময় মা-বাবার ব্যস্ততা কম থাকার কারণে তারা সন্তানদের অধিক সময় দিতে পারতো। বর্তমানে তাদের ব্যস্তময় সময়ে ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময় দিতে পারেন না। এ দিক বিবেচনায় চালু করা হয়েছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা এবং বাড়ানো হয়েছে কর্মঘন্টা। শিশুরা চারদিক যা দেখে, তার থেকেই প্রথম শিক্ষা শুরু হয়। এরপর দেখে, শুনে এবং পড়ার মাধ্যমে এ শিক্ষণ সম্পন্ন হয়ে থাকে। বর্তমান সচিব মহোদয়ের একটি উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন চালু রয়েছে। তাহলো- “ওয়ান ডে এয়ান ওয়ার্ড” এর অর্থ একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১ টি করে বাংলা ও ১ টি করে ইংরেজি শব্দ শিখবে। শিক্ষক প্রতিদিন তার পাঠ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ নির্বাচন করবেন। তিনি তার শব্দ উচ্চারণ, শব্দার্থ এবং একটি বাক্য শেখাবেন। ১ম এবং ২য় শ্রেণি শুধুমাত্র শব্দ এর উচ্চারণ ও অর্থ শিখবে। এ উদ্যোগটি মাঠে প্রয়োগের ফলে শিক্ষা শিখন ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। তা হলো- শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১ টি করে নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হচ্ছে গুরুত্ব সহকারে। সারাদিন ঐ শব্দটি তার অনুশীলন হচ্ছে। বোর্ডে বা কোথাও তা দৃশ্যমান থাকছে দিনব্যাপি। এর ফলে শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে তা দৃঢ়ভাবে গেথে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে তার পাঠের বোধগম্যতাও সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীর পাঠে মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং অধিক সে পাঠে নিমগ্ন থাকবে। ফলশ্রæতি শিক্ষার্থীর বই পড়তে ভাল লাগবে, এক সময় সে একজন সাবলীল পাঠক হয়ে উঠবে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়বে এবং সর্বোপরি প্রাথমিক শিক্ষার ঝরে পড়ার হারও কমে আসবে।

মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার
পলাশ, নরসিংদী

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..