টুকরো-টাকরা ভাবনা যত

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

জীবনকে মৃত্যুর নিকট একদিন পরাজয়বরণ করতেই হবে । এটিই প্রকৃ্তির অমোঘ নিয়ম । এর কোনো পরিবর্তন নেই । তাই বলে জীবন মৃত্যুর নিকট আত্মসমর্পণ করে বসে থাকবে না । Death should find life a hard nut to crack. শক্ত একটা লড়াই তো করতে হবে । তারুণ্যকে ধরে রাখুন । স্রষ্টায় বিশ্বাস রেখে সৎ্কর্ম করুন এবং পাপহীন অনাবিল আনন্দে থাকুন ।

জীবনকে জীবনময় রাখুন; মৃত্যুময় নয় । আর পরলোকে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে যদি নাও পারেন, তথাপি ধরে নিন যে পরলোক আছে এবং তার জন্য প্রস্তুতি নিন । সেই অজানা দেশে সঙ্গীবিহীন এক মহাযাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকুন ।এই প্রস্তুতি নিলে পরলোক নাইবা যদি থাকে তাতে আপনার কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই; কিন্তু পরলোক যদি থাকে তবে লাভবান হবার সম্ভাবনা আছে ।

বিবেককে সুস্থ ও সক্রিয় রাখুন । কারণ, যে মানুষের বিবেক নিষ্ক্রিয় বা মরে গেছে সে আর মানুষ থাকে না; পশুতে পরিণত হয় । অবশ্য পশুর কোনো বিবেক নেই; তাদের কোনো পাপ-পুণ্যও নেই । কিন্তু বিবেকহীন মানুষ পশুর চেয়েও বেশী পাশবিক হতে পারে । পাপাচারে যখন কারো বিবেক আর দংশিত হয় না, তখন তার আর পশুর মাঝে কোনো পার্থক্য বিরাজ করে না । সৃষ্টিকর্তা যাকে সৃষ্টির সেরা প্রাণী করে এ ধরায় প্রেরণ করলেন তার এই অধঃপতনের জন্য সে নিজেই দায়ী; এবং এর জন্য একটি শাস্তি তার প্রাপ্য হতেই পারে । তাকে সেই শাস্তি প্রদানের নিমিত্তে স্রষ্টা মৃত্যু-পরবর্তী আরেক জীবন মানুষের জন্য রাখতেই পারেন । তার কারণ, অনেকেই এ জগতে তাদের পাপের শাস্তি পেশীশক্তি ও অর্থশক্তি প্রয়োগ করে এড়িয়ে যেতে সক্ষম । আবার যাঁরা পুণ্যবান হয়েও ইহকালে তেমন কোনো পুরষ্কার বা সুখ ও স্বীকৃতিলাভ করেননি, তাঁদেরকে পুরষ্কৃত করবার জন্যও হয়তো পরলোক থাকবার প্রয়োজন আছে । তাই পরলোক থাকাটা অস্বাভাবিক নয় । সর্বশক্তিমান স্রষ্টা শূন্য থেকে আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন । মাতৃগর্ভে নিঃশব্দে তিনি আমাদের বিনির্মাণ করেছেন, আকার প্রদান করেছেন এবং যথাসময়ে আমাদের দেহে জীবন ফুঁকে দিয়েছেন । এ সব বিষয়ে একটু চিন্তা করলেই বিশ্বের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক যে একজন আছেন তা সহজেই উপলব্ধি করা যায় । এই সত্য উপলব্ধির জন্য খুব বেশি মেধার প্রয়োজন হয় না, শুধু যদি আত্মপ্রবঞ্চনার মোড়কে মনটা মোড়ানো না থাকে । সাধারণ মেধা ও বুদ্ধি দিয়েই তা বোঝা যায় । বারংবার সৃষ্টির সক্ষমতাসম্পন্ন স্রষ্টা মানুষের মৃত্যুর পর পুনরায় তাকে জীবন দান করতেই পারেন ।

লেখক

মুহম্মদ আজিজুল হক, লেখক ও গবেষক

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..