নরসিংদীতে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে সবজির দাম, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী সবজি উৎপাদনে দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে নরসিংদী জেলার। অতি বৃষ্টিসহ বিভিন্ন অজুহাতে জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে সবজির দাম । প্রতিটি সবজির দাম হু হু করে বাড়ছে। পিয়াজ-মরিচের সাথে পাল্লা দিয়ে এবার আলুতে যেন আগুন লেগেছে।

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে কেজিতে ১২০ টাকা বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও এখনো খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত ও দরিদ্রের মধ্যে চরম অসন্তোষ শুরু হয়েছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের মিল না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। তাদের মধ্যে চরম ও ক্ষোভ হতাশা বিরাজ করছে। সংসার কিভাবে চালাবে এ নিয়ে দুশ্চিতনায় পড়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা শহরের বিভিন্ন খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে, এমন চিত্র দেখা গেছে, বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, সিম ২০০ টাকা, শ্বশা ৮০ টাকা, ঢেড়শ ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, লাউ প্রতিপিছ ৩০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, কঁচুর লতি ৬০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা, ফুলকপি ছোট প্রতি পিছ ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, লাল শাখ ৭০ টাকা, গাজর ৮০, চালকুমড়া ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, চিচিংগা ৮০ টাকা, কড়লা ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, বাধাকপি ছোট ৪০ টাকা, বটবটি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কোন সবজিই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে নেই। সবজি বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাত দেখালেও সাধারণ ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নরসিংদীর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন ও আবুল হোসেন জানান, পাইকারী আড়তে সবজি সরবরাহ কমেছে বলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। আর এতে সবচেয়ে বেশী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর। খলিল নামে এক সবজি ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে দিগুনেরও বেশী দাম দিয়ে পাইকারী বাজার থেকে কাঁচা মরিচ আনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরায় বেশী দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। অধিকাংশ সবজি ব্যবসায়ী জানায়, বাজারে চাহিদার চেয়ে কাঁচা মরিচ কম আসায় হঠাৎ করেই দাম বেড়ে গেছে। মূলকারণ হচ্ছে, অবিরাম ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া নতুন করে আবাদ করা সবজি এখনো পুরোপুরী বাজারে আসেনি। তারা আরো জানান, বন্যার অজুহাতে অনেক দিন ধরে কিছুটা চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছিল সব ধরনের সবজি। এরপরও গত ১০ দিনে নতুন করে সবজির দাম আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (০৫ জুন) জেলার অন্যতম পাইকারী সবজির হাট জেলার বেলাব উপজেলার বারৈচা বাজারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে বাজারে আসার আগেই কৃষকদের ঘিরে ধরছেন পাইকারী ক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন ৩ হাজার ২০০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে, সিম প্রকার বেদে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা মন, শ্বশা ২ হাজার ৪০০ টাকা, ঢেড়শ ২ হাজার ৪০০ টাকা, লাউ আকৃতি বেদে প্রতিপিছ ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, কঁচুর লতি ১ হাজার ৮০০ টাকা, ফুলকপি ছোট প্রতি পিছ ৪০ টাকা, কাঁকরোল ২ হাজার টাকা, পুঁইশাক ১ হাজার ২০০ টাকা, লাল শাক ১ হাজার ৪০০ টাকা, জালি (চালকুমড়া) ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, পটল ২ হাজার ২০০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ঝিঙ্গা ২ হাজার ৮০০ টাকা, পেপে ৯০০ টাকা, চিচিংগা ২ হাজার ৪০০ টাকা, কড়লা ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নরসিংদীতে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এক কথায় নরসিংদী সবজির জন্য বিখ্যাত।

 

এখানে বর্তমানে সব্জীর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নরসিংদী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শোভন কুমার ধর জানান, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সবজি বীজ তলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে পানি উঠায় অনেক জমির সবজিই নষ্ট হয়ে গেছে। সিন্ডিকেটে বিষয়য়ে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষি খাতকে ধ্বংস করছেন।

এতে একদিকে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চাষিরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, অন্যদিকে উচ্চমূল্যে সবজি ক্রয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তার পরও কৃষকরা উৎপাদিত মূল্য পেয়েও লাভবান হচ্ছেন। তবে সবজি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় এবং সেই সঙ্গে সামপ্রতিক সময়ে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় পাইকারি সবজির বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের ব্যাপক তারতম্য হচ্ছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..