1. mostafa0192@gmail.com : admin :
নরসিংদীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে বদলে যাচ্ছে আশ্রয়হীনদের জীবন - আলোকিত খবর
  • E-paper
  • English Version
  • বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ভেড়ামারা সরকারি কলেজে চুরি আমি চাঁদাবাজ নই, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে : যুবলীগ নেতা আতিক নরসিংদীতে মেঘনার পাড়ে বাউল সাধকদের পদচারণায় মুখোর ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা রায়পুরায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রায়পুরায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের অর্থায়নে শীত বস্ত্র বিতরণ রায়পুরা উপজেলা মডেল কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ৬ষ্ট বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্টশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন : আনোয়ারুল আশরাফ খান রায়পুরায় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে উপজেলা চেয়ারম্যানের কম্বল বিতরণ লায়ন মুজিব-মুনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে নেপালের রাষ্ট্রদূত ভৈরবে ১শকেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্য্যব-১৪

নরসিংদীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে বদলে যাচ্ছে আশ্রয়হীনদের জীবন

  • প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৫ সময়

মো. মোস্তফা খান:

পল্লী কবি জসীম উদদীনের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আসমানী রে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও/রহিমুদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি’।
কবির সেই আসমানীরা এখন নিজের ঠিকানা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবন-মানের এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায়।

জানা যায়, “দেশের একটি পরিবারও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নরসিংদী জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলায় ১হাজার ১শ ৬১ পরিবার পেয়েছেন দুই শতাংশ জমি ও একটি সেমিপাকা ঘর। সেই সাথে পাচ্ছেন বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপিয় পানির ব্যবস্থাসহ সকল ধরনের নাগরিক সুবিদা পাচ্ছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৭শ ২টি পরিবার আশ্রয়ণে বসবাস করছেন এবং ৪শ ৫৯টি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। এর তন্মধ্যে রায়পুরায় ৭৫টি, শিবপুর ৭৫টি, পলাশ ৯৫টি, বেলাব ১৩৯টি, নরসিংদী সদর ৪০টি ও মনোহরদীতে ৩৫টির নির্মাণ কাজ চলছে দ্রæত গতিতে। আসছে মার্চ মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ও হাইরমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে দেখা গেছে, সময়ের সাথে এখন বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের যাপিত জীবন। কবির ওই ভেন্না পাতার ছাউনি থেকে তারা এখন বসবাস করছে রঙিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে। সেই বাড়িতেই করছেন শাক-সবজির আবাদ। কেউবা করছে হাঁস মুরগি-ছাগল-গরু পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছেন স্কুলে। বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে মহাখুশি আশ্রয়হীন মানুষগুলো।

রায়পুরায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে গঠন করেছে অন্তত ৪টি সমবায় সমিতি। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ড্রাইভিং, কৃষি, মৎস্য, সেলাই কাজ সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষন নিচ্ছে তারা। অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও নানা প্রশিক্ষণে হয়ে উঠছেন স্বশিক্ষিত। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।

প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া রায়পুরা উপজেলার আশ্রয়ণের বাসিন্দা শাজাহান মিয়া, লাল মিয়া, লাকী বেগমসহ আরো অনেকেই জানান, ‘কিছু দিন আগেও ভাবিনি নিজের ভালো একটা ঠিকানা হবে। এখন সেটি হয়েছে, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি। নিজের হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি- সত্যিই এটা স্বপ্নের। এমনটি হবে ভাবিনি, সৃষ্টিকর্তার কাছে হাসিনার জন্য দোয়া করি।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় জেলায় হতদরিদ্র যাদের বসবাসের কোন ঠিকানা ছিল না, তাদের স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এটা সত্যিই বিস্ময়কর। ওই মানুষগুলো তাদের ভাগ্যে চাকা নতুনভাবে ঘুরাতে শুরু করেছে।

রায়পুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজগর হোসেন জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা তাদের জীবন মান উন্নয়নে নিজেরাই এগিয়ে এসেছে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করছি। চরসুবুদ্ধি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ইতিমধ্যে ২০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন আশ্রয়ণ কেন্দ্রের মধ্য থেকে ৮০জন কে ড্রাইভিং, কৃষি, মৎস্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষনের আওতায় নিয়ে এসেছি। তারা এখন অনেক ভালো আছে। এই প্রকল্প বিশে^ একটি রোল মডেল। কারণ এভাবে কোন দেশে আশ্রয়হীনদের জন্য সরকারিভাবে নিরাপদ ছাদ তৈরি করা হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, নরসিংদী জেলায় ১হাজার ১শ ৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রথম থেকে ৩য় পর্যায়ে ৭শ ২টি পরিবারকে জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। আরো ৪শ ৫৯টি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে আসছে ৩১মার্চ হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...