Headline :
বারৈচাতে উদ্বোধন হলো সুমন রেষ্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টার‘কাচ্চি ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেন নাঈমুল ইসলাম খান, প্রজ্ঞাপন জারি যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ ইউরোপে যুদ্ধের শঙ্কা, প্রস্তুত থাকতে বললেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে কাছে হেরে বোলারদের দুষলেন বাবর পাট উৎপাদন নিশ্চিত করণের পিছনে সকল বাধা অচিরেই দূর করা হবে: -বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী নানক নরসিংদীতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যাকান্ডে মাস্টারমাইন্ড রাসেল গ্রেফতার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জমি অধিগ্রহণের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে নরসিংদীতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ মঞ্চ মাতালেন তানিন সুবহা নরসিংদীর রায়পুরায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পিটিয়ে হত্যা
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা জনসমুদ্রে পরিনত

Reporter Name / ১১৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

সুমন হোসেন, যশোর:

রিজার্ভ নিয়ে অনেকে নানা সমালোচনা করছে। অনেকে প্রশ্ন করেন রিজার্ভ গেলো কোথায়? আমরা তো রিজার্ভ অপচয় করিনি। মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছি। জ্বালানি তেল কিনতে হয়েছে, খাদ্যশস্য কিনেছি। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। করোনার টিকা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছি। এসব কাজে রিজার্ভ থেকে খরচ করতে হয়েছে আমাদের। কারণ আমরা সবসময় মানুষের কথা চিন্তা করে উন্নয়ন কর্মকান্ড চালাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে। আর কোনো সরকার রিজার্ভ বাড়াতে পারেনি। পর্যাপ্ত রিজার্ভ হাতে রেখেই সব কাজ করছি আমরা। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই, আমাদের সব ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা আছে। সামনের দিনেও কোনো সমস্যা হবে না। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর আমাকে জানিয়েছেন। তাই দেশবাসীকে বলবো চিন্তার কোন কারণ নেই। ব্যাংক থেকে টাকা উঠানো লাগবে না। লাখ লাখ মানুষের জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞস্বীকার করে বলেন, গতবারের মত এবারও জেলার প্রত্যেকটি আসনে নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করুন। দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি যশোরে অনেক উন্নয়ন করেছি। আরো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি উপস্থিত জনতার কাছে ভোট চাইলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান বিরোধী যে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটেছিল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণ জাতির জনকের ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন সেই সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও লাখো লাখো মা বোনদের আত্মদানের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন রাষ্ট হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ উন্নয়ন ও জাতি গঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একটি চক্র এই দেশের উন্নয়নকে স্থগিত করে দিয়েছিল।

৭৫ পরবর্তী দেশের সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সদস্যকে হত্যা করেছিল। এসব হত্যাকান্ডের সাথে জিয়া মোসতাক সরাসরি জড়িত ছিল।’৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে কোন সরকারই উন্নয়ন করেনি। বিএনপি জামাত সরকার যখনই রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় এসেছে তখনই তারা দেশটাকে লুটপাটের কারখানা বানিয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। টাকা পাচারের ঘটনায় বিএনপি নেতা তারেক রহমান সাজা প্রাপ্ত হয়ে পলাতক জীবন যাপন করছে। খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজা ভোগ করছে। সেই দলের নেতারা বলে তারা নাকি ফের এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যার পর জীবনের ঝুকি নিয়ে আমি দেশে ফিরে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের ভোটে আমরা বার বার ক্ষমতায় এসেছি। আর যখই আমরা ক্ষমতায় এসেছি তখন দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছি। আর অতীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তারা জাতিকে একটি ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করেছিল। বিদেশ থেকে পুরোনো কাপড় এনে দেশের মানুষকে পরাতো। মানুষের পেটে খাবার ছিল না। মাথা গোজার ঠাঁই ছিল না, রোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। আমরা ’৯৬ সালে সরকার গঠন করে এদেশের মানুষের কল্যানে কাজ শুরু করেছি। ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি কিনিক করি। যেখানে আপনারা বিনা পয়সায় এখন চিকিৎসা পাচ্ছেন। বিএনপি জামাত ক্ষমতায় এসে ২০০১ সালে সেই কমিউনিটি কিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, কারও জমি যেন অনাবাদি না থাকে। প্রত্যকটা জমি আবাদ করতে হবে। যাতে করে আমাদের খাদ্য ঘাটতি না হয়। কারও কাছে হাত পাততে না হয়। কারো কাছে চেয়ে চলতে না হয়। যার কাছে যা আছে তা দিয়ে কিছু উৎপাদন করেন।

যশোরে জনসভা করতে পেরে আনন্দিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানের মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর ছিল তখন তিনি মারা যান। ওই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা এতই খারাপ ছিল, যে লাশ টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া যায়নি। তাই আমার নানাকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এখানে আমার নানার স্মরণে দারিদ্র্য বিমোচন ট্রেনিং সেন্টার হচ্ছে।’ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বিএনপি নিজেদের উন্নয়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি আর কিছু দিতে পারেনি। তারা (বিএনপি) কিছুই দিতে পারে না, শুধু পারে মানুষের রক্ত চুষে খেতে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। বিচার পাওয়ার অধিকার আমার ছিল না। বাবা-মা-ভাই-বোন সবাইকে হারিয়েছি। তারপরও এ বাংলায় ফিরে এসেছি।বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল আমার লক্ষ।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ছিল। এর সঙ্গে জিয়া মোশতাক সবাই জড়িত। জিয়া-মোস্তাক সবাই খুনি। আমি বিচার চাইতে পারিনি। তারপরও সবকিছু মাথায় নিয়ে ফিরে এসেছি একটাই কারণে, এই জাতির পিতা আমার পিতা সারাজীবন সংগ্রাম করেছে। সেজন্য আমার ল্য ছিল, এই দেশের মানুষের জন্য কিছু করা। বার বার মতায় এসেছি বলেই উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ মতায় এসে কমিউনিটি কিনিক করেছে। বিনা পয়সায় ৩০ ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। বিএনপি দিয়েছে অস্ত্র, খুন, হত্যা। শুধু হত্যা আর খুন ছাড়া কিছু দিতে পারেনি বিএনপি। মানুষের ভাগ্য ছিনিমিনি খেলেছে। জিয়া যখন মারা যায়, কিছু রেখে যায়নি। ভাঙা বাক্স আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া। অস্ত্র চোরাকারবারি করতে গিয়ে দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা খেয়েছে, সেখানেও তার সাজা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমিসহ নেতাকর্মীদের হত্যা করতে চেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল