বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

আজ ১৭ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন ও জন্মশত বার্ষিকী এরই সাথে যুক্ত হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী । বঙ্গবন্ধুর ছোটদের ভালবাসতেন। তাঁর কাছে শিশুরা ছিল আদরের। শিশুদের নিয়ে তাঁর চিন্তা-চেতনা সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতো। তাইতো প্রতিবছর এই ১৭ মার্চ জাতীয় শিশুদিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম এদেশকে সার্থক করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো আমরা লাল সবুজের এই প্রিয় দেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধুর জীবন, আমাদের চলার পথের অনুপ্রেরণা সাহস এবং ভালবাসা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখন বিশ্বখ্যাত একটি সম্মানিত নাম। একজন সেরা বাঙালি। বাঙালি জাতির পিতা। কাকচক্ষুর মতো স্বচ্ছ জল টলমলে ছোট্ট এক নদী। নাম তার বাইগার। এই নদী গিয়ে পড়েছে উত্তাল মধুমতিতে। কী স্বচ্ছ, হিম হিম তার জল। বাইগার দিনমান মুখরিত থাকে পালতোলা নৌকার চলাচল আর নদীতে নাইতে আসা পল্লীবাসীর কোলাহলে। এক দুরন্ত কিশোরও স্বচ্ছ জল ঘোলা করে ডুবসাঁতার কাটতে থাকে অবিরাম। এই চঞ্চল উচ্ছ্বল কিশোর মাঝে মধ্যে থমকে যায়, উদাস হয় মাঝির ভাটিয়ালির করুণ গানে। নদীর ¯্রােতধারা তাকে যেমন টানে, তেমনি তাকে আপ্লুত করে ভাটিয়ালীর উদাসী সুর। হারিয়ে যায় নিজের অজ্ঞান্তে নিজের মনে। সেই দুরন্ত গ্রাম বালকের নাম মুজিব। পুরো নাম শেখ মুজিবুর রহমান। যে গ্রাম দিনমান তার দুরন্তপনার মুখর থাকতো সেই গ্রামের নাম টুঙ্গিপাড়া। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ওই গ্রাম তাঁর জন্ম। তৎকালীন জেলা ফরিদপুরে। আর তার মহকুমা গোপালগঞ্জ। থানা টুঙ্গিপাড়া। বর্তমান জেলা গোপালগঞ্জ। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম সায়রা খাতুন।

শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব ও কৈশোর বেলা কেটেছে গ্রাম থেকে গ্রামে। তিনি ছিলেন খুবই চঞ্চল প্রকৃতির। কোথাও স্থির থাকতেন না। এ-ঘর থেকে ও-ঘর, পাড়াময়, গ্রামময় এখান থেকে সেখানে ঘুরে বেড়ান তিনি। সারাদিন ছেলের কোনো খবর নেই। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, কোথায় সে? কোনো খোঁজ নেই। তারপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। হঠাৎ অনেক দূরে দেখা যায় ধুলোমাটি মাখা মুজিব মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে আসছে। দেখে মায়ের মন শান্ত হয়, আবার বিচলিতও। এই দুরন্ত ছেলেকে কীভাবে সামাল দেবেন তিনি! কীভাবে মানুষ করবেন! কোনো কুল কিনারা করতে পারেন না।

এ দেশের অসংখ্য বরেণ্য গীতিকার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন গান, সুরকাররা করেছেন সুর, আর শিল্পীর কন্ঠে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। এভাবেই কথা, সুর, সংগীতে বঙ্গবন্ধুর গান আজ সারা বিশ্ববাসী শুনছেন।

বাংলার রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগমন না হলে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আজো অর্জিত হতো না। ১৭৫৭ সালে পলাশির আ¤্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অন্তমিত হয়। বৃটিশদের শাসনের ১৯০ বছরেও তা আর ফিরে পাওয়া যায় নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর রাজনৈতিক সংকট ও জাতিতাত্ত্বিক ধারণা প্রভাব বিস্তার করলেও বাঙালির প্রয়োজন হয়ে পড়েছিলো একজন বজ্রকঠোর নেতার। ঠিক তখনই বাঙালির রাজনীতির ভাগ্যাকাশে ধূমকেতুর বিস্ময় নিয়ে আগমন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জন্ম না হলে বাঙালি জাতি বিশ্ব দরাবরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতো না। আমরা গর্বিত, আনন্দিত এবং উৎসাহিত এমন একজন মহান ব্যক্তির জন্ম এই বাংলার মাটিতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো আমরা লাল সবুজের এই প্রিয় দেশ পেতাম না। তাঁর নাম চিরকাল অম্লান, অক্ষয় ও অমর থাকবে। স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর কীর্তি গাথা, তাঁর কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবনালেখ্য। জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চোখের আলো পরিবারের পক্ষ থেকে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জন্মদিনের লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..