বাইকের হর্ন বাজা” বাবা দিবসে ছোট ছেলের অনুভব

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

“বাইকের হর্ন বাজা, পড়ার টেবিলে না থাকলে -পাবো সবাই সাজা” ফিরে দেখা ছোট বেলা বাবা বাবাকে ঘিরে যখন ছোট্ট বেলার কোনো কিছু মনে করতে চাই, তখন প্রথমেই বাইকে করে একসাথে বাজারে চা খাওয়ার কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে বাজারে ব্যাংকের নিচে কাজল কাকা’র দোকানে, বাইরের মিষ্টি রোধে বসে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া, মনে পড়ে- অফিসে যাওয়ার আগে বাড়িতে একসাথে ডিম দিয়ে রুটি ভাজা খাওয়া, না খেতে চাইলে ধমক দিয়ে খাওয়ানো। তোমাকে ঘিরে আমার শৈশব ভুলার মতো নয় বাবা। বাইকে চেপে তোমার সাথে অফিসে যাওয়া, সার্কাসে অমর সানী (নায়ক) কে দেখা, অফিসে তোমার কম্পিউটারে বসে পুরো পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছক বানানো, “শহীদ ভাই-আকাশের কান্ড দেখে যান”-বলে তোমার কলিগরা তোমাকে নিয়ে আসা, সত্যিই ভুলার মতো নয়। মনে পড়ে সেদিন আমার এসব দেখে জাপানি ২আপু আমায় কিছু উপহার দিয়েছিলেন ভালোবেসে। মনে পড়ে বাবা- সেই সকালটির কথা, উঠানে বসে খেলছিলাম, আর একজন এসে মাকে বলল – ” শহীদ ভাই’র নাকি এক্সিডেন্ট হয়ছে” কি বলল, কেন বলল, কি হলো, কেন সবাই কাঁদতে কাঁদতে ছুটছে,কেন আমাদের ছোট ২জনকে সাথে নিচ্ছে না, কোনো কিছুই মনে প্রশ্ন আসে নি। শুধু পিছনে ছুটতে লাগলাম, সামনে যেতে শুনতে পায় – লোকজন নাকি রক্তাক্ত অবস্থায় তাড়াতাড়ি তোমায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনও কি হয়েছে, আমি প্রশ্নহীন। ১মাসের অধিক সময় পর কেভিনে শিফট করার পর ঢাকা UMCH তোমায় দেখা- তখন বুঝতে পারলাম, এক্সিডেন্ট শব্দটার মানে। দিনশেষে আজ শুধু একটি কথাই মনে বার বার আসে – “গল্পটা এমন না হলেও পারতো, ” আলহামদুলিল্লাহ, বাবা পাশে আছেন আমাদের মাঝে বল হয়ে, আজও বাবার সাথে চা খাই, পার্থক্য এতটুকুই – আগে বাবা বাইকে করে চা খেতে নিয়ে যেতেন, এখন বাবাকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যায়, তুমি ছিলে বাবা, তুমি আছো, তুমি আছো আমাদের শক্তি হয়ে, তুমি আছো, তুমি আছো আমাদের মাথার উপর আজও ছাতা হয়ে, ভালোবাসা তোমার প্রতি।

এ. এস. এম আকাশ, দ্বাদশ শ্রেণি, নারায়ণপুর রাবেয়া ডিগ্রি কলেজ। বেলাব, নরসিংদী।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..