সংবাদ শিরোনাম :
হালুয়াঘাটে কণ্ঠশিল্পী সালমার “ইউরোপিয়ান পার্ক” উদ্বোধন রায়পুরায় দেড় কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার অভাবে দূর্ভোগ ২০ হাজার মানুষ মসজিদে মুসুল্লিদের সচেতনতায় বক্তব‍্য রেখে ঢাকা রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ওসি সওগাতুল রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে উপনির্বাচনে নৌকার বিজয়ে আশরাফ সরকারের বিজয় মিছিল নরসিংদীতে সদর ফারিয়ার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন নরসিংদীর চরাঞ্চল পল্লী চিকিৎসক সমিতি ও ঔষধ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আনন্দ ভ্রমণ আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কে তালগাছ রোপন: বছরে কোটি টাকা বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা কুমিল্লায় বাস চাপায় সড়কে প্রান গেল তিন জনের নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার

করোনায় চরম খাদ্য সংকটে মনোহরদীর রামপুরের কয়েক হাজার বানর; এদের পূর্ণবাসনের দাবি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীর মনোহরদীতে বানর রাজ্যের বানররা ভাল নেই। করোনা পরিস্থিতির এ সময়ে খাদ্য সংকটে পড়েছে উপজেলার রামপুরের বানর রাজ্যের কয়েক হাজার বানর। চরম সংকটের মধ্যে এ বানররা লোকালয়, খাবার না পেয়ে কখনো বাড়ি-ঘরে হামলা করেছে আবার কখনো নষ্ট করছে ক্ষেতের ফসল।  এ অবস্থায় দ্রুত এদের পূর্ণবাসনের দাবি এলাকাবাসীদের।

মনোহরদী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে খিদিরপুর ইউনিয়নের নিভৃত এক পল্লী রামপুর। এ গ্রামে যাওয়ার পথে রামপুর বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে ঘরের চালে, গাছের নীচে কিংবা গাছের উপরে দলবেধে বসে আছে অজস্র বানর। এক দেড়’শ বছর ধরেই মানুষের পাশাপাশি এই গ্রামে বানর বসবাস করে আসলেও বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় তারা বেশ কয়েক বছর যাবৎ মোটামুটি খাদ্য‍ সংকটের মধ্যে অতিবাহিত করে আসছিল। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তা চরম আকার ধারণ করেছে। করোনার এ সংকটময় মুহুর্তে সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে বানরদের জন্য কোনো প্রকার খাবারের ব্যবস্থা না হওয়ায় খাবারের অভাবে  বানর গুলো কখনো পথচারী কিংবা বাড়ি ঘরে হামলা করছে। কখনো নষ্ট করে ফেলছে গাছের ফল ও ক্ষেতের ফসল।

হারিছ মিয়া নামে রামপুর বাজারের এক মুদি দোকানী জানান,করোনার এই দেড় বছর সময় কালে রামপুরা এলাকার বানরগুলো চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। যার ফলে এলাকাবাসী জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাড়ী-ঘর, দোকানপাটে ঢুকে সব কিছু তছনছ করে যা পাচ্ছে তাই খেয়ে ফেলছে।

হোসনে আরা বেগম নামে এক গৃহিণী জানান, বানরগুলো জন্য ঘরে মধ্যে ভাত রাখতে পারিনা, তরকারী রাখতে পারিনা। এগুলো যখন তখন ঘরের মধ্যে ঢুকে হাড়িপাতিল ওল্টিয়ে সবকিছু খেয়ে ফেলছে।

আমিনুল ইসলাম নামে এলাকার এক শিক্ষক বলেন, ‘ আমি প্রতিদিন বানরগুলোকে খাওয়ার জন্য চিড়া, বিস্কুট কিনে দেই। এতো এতো বানরের মধ্যে  আমার এই চিড়া বিস্কুট কি বা হয়। সরকারীভাবে বানরগুলোকে যদি আবাসনের ব্যবস্থা করা হত, নিয়মিত খাবার দেওয়া হত তাহলে এগুলো এলাকার মানুষদের এভাবে জ্বালাতো না।

খিদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান (জামিল)  বলেন,  ইউনিয়নের প্রায় ১ থেকে দেড়’শ বছর আগে থেকে বানরের বসবাস। বানর অনেক সময় খাবারের অভাবে বাড়ি ঘরে হামলা করে। সাম্প্রতিক সময়ে চরম আকার ধারণ করেছে। তবে বানরের খাবারের অভাবটি যদি পূরণ হয় তাহলে আমার খিদিরপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের জন্য এটি একটি সম্পদ।

মনোরহরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এস.এম. কাসেম জানান, সরকারি ভাবে বানরের খাবারের জন্য বরাদ্ধ কিছু নেই। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের এখানে অন্তর্ভূক্ত করে যাতে স্থানীয় ভাবেই তাদের খাবারের আয়োজনটি হয়। সেজন্য নির্দেশনা দিবো।

সরকারী উদ্যোগে যদি বানরের খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। তাহলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে এবং অত্র এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন এই গ্রামের বাসিন্দারা।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..