সংবাদ শিরোনাম :
হালুয়াঘাটে কণ্ঠশিল্পী সালমার “ইউরোপিয়ান পার্ক” উদ্বোধন রায়পুরায় দেড় কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার অভাবে দূর্ভোগ ২০ হাজার মানুষ মসজিদে মুসুল্লিদের সচেতনতায় বক্তব‍্য রেখে ঢাকা রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ওসি সওগাতুল রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে উপনির্বাচনে নৌকার বিজয়ে আশরাফ সরকারের বিজয় মিছিল নরসিংদীতে সদর ফারিয়ার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন নরসিংদীর চরাঞ্চল পল্লী চিকিৎসক সমিতি ও ঔষধ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আনন্দ ভ্রমণ আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কে তালগাছ রোপন: বছরে কোটি টাকা বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা কুমিল্লায় বাস চাপায় সড়কে প্রান গেল তিন জনের নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার

চলছে কঠোর বিধিনিষেধ; ভোগান্তিতে ঢাকা ফেরত মানুষ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

আট দিন শিথিলতার পর ফের ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। একদিকে কঠোর বিধি-নিষেধ এবং অন্যদিকে শুক্রবার হওয়ায় রাজধানী রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা ছিল। সামান্য কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও রিকশা চলাচল করেছে। ঈদ শেষে কঠোর বিধিনিষেধেও ফিরছে মানুষ। যে যেভাবে পারছেন রওনা দিয়েছেন ঢাকার উদ্দেশে। ঢাকায় প্রবেশ করা লোকজন হেঁটে বাসায় ফিরছে। রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশের কঠোর অবস্থান।

রাজধানীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের কঠোর অবস্থানের কারণে ঢাকামুখী এক কিলোমিটার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনকে কঠোর জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে না পারলে কোন যানবাহন ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীবাহী বাসগুলো ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাস ঘুরিয়ে দেয়। ব্যক্তিগত অনেক যানবাহনকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে ঈদফেরত লোকজনকে হেঁটে ঢাকায় ঢুকতে কোন বাধা দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে গাবতলী ব্রিজ এলাকাতেও পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমিন বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী বাসগুলো এসে থামছে। তারপর যাত্রীরা পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে। সকাল থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে হেঁটে প্রবেশ করা মানুষের ঢল নেমেছে। ব্যক্তিগত যানবাহন ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ব্যক্তিগত যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। একই অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। এখানেও ভোর থেকে ঢাকা ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। তবে কোন যাত্রীবাহী বাস কে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বাস থেকে টঙ্গী এলাকায় নেবে তারপরে পায়ে হেঁটেই সবাই ঢাকায় প্রবেশ করছে। ভোর রাত থেকেই হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরা লঞ্চগুলো সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে পৌঁছে। কিন্তু সদরঘাটে নেমেই কোনো যানবাহন না পেয়ে তাদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিবার পরিজন এবং মাল-সামানা নিয়ে তারা হেঁটেই যার যার গন্তব্যে রওনা হয়। অনেককে ঠাসাঠাসি করে ভ্যান ও রিকশায় যায়। সদরঘাট থেকে পায়ে হেঁটে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে অনেকেই রওনা হয়েছেন। লঞ্চ যাত্রীদের চাপে সদরঘাট এলাকায় রাস্তা গুলো দেখে মনে হয় যেন মিছিল হচ্ছে।

এদিকে বিধিনিষেধের প্রথম দিন রাজধানীর ভেতরে অনেক স্থানেই পুলিশের চেকপোস্ট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিত দেখা যায়নি। কোথাও কোথাও চেকপোস্ট বসানোর কাজ করতে দেখা যায় পুলিশকে। রাস্তায় রিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেছে। তবে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় লোকজনকে পায়ে হেঁটেই নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। সকাল থেকেই রাজধানীর মহাখালী, বনানী, কাকলি এলাকার সড়কগুলোতে মানুষ এবং যানবাহনের চলাচল খুবই কম। ফার্মগেট এলাকার রাস্তাগুলো ফাঁকা ছিলো।ধানমন্ডির আবাহনী মাঠসংলগ্ন স্টার কাবাব, ২৭ নম্বর সড়ক, সিটি কলেজ মোড়, শাহবাগ এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে অনেক জায়গায় চেকপোস্ট বসানোর কাজ চলতে দেখা গেছে। আবাহনী মাঠের সামনের চেকপোস্টে সকাল থেকেই অনেক ব্যক্তিগত গাড়িকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান, ধানমন্ডি থানার সাব ইন্সপেক্টর অপু কুমার বিশ্বাস।

এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর সাদেক খান কৃষি মার্কেট, আদাবর কৃষি মার্কেট, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজার সহ সব বাজারগুলোর পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক রয়েছে। এসব মার্কেটের দোকান গুলো খুলেছে এবং বেচাকেনা শুরু হয়েছে, তবে ক্রেতার সংখ্যা কম।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..