সংবাদ শিরোনাম :
হালুয়াঘাটে কণ্ঠশিল্পী সালমার “ইউরোপিয়ান পার্ক” উদ্বোধন রায়পুরায় দেড় কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার অভাবে দূর্ভোগ ২০ হাজার মানুষ মসজিদে মুসুল্লিদের সচেতনতায় বক্তব‍্য রেখে ঢাকা রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ওসি সওগাতুল রায়পুরা উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে উপনির্বাচনে নৌকার বিজয়ে আশরাফ সরকারের বিজয় মিছিল নরসিংদীতে সদর ফারিয়ার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন নরসিংদীর চরাঞ্চল পল্লী চিকিৎসক সমিতি ও ঔষধ ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের আনন্দ ভ্রমণ আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কে তালগাছ রোপন: বছরে কোটি টাকা বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা কুমিল্লায় বাস চাপায় সড়কে প্রান গেল তিন জনের নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার

কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস; দুই দিনে ১৪ জনের প্রাণহানি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাতে শরণার্থী শিবিরসহ উখিয়া, টেকনাফ ও মহেশখালীতে পাহাড় ধস, পানিতে ভেসে গিয়ে আর মাটির দেয়াল চাপায় ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে টেকনাফে ৬ জন, মহেশখালীতে ২ জন ও রোহিঙ্গা শিবিরে ৬ জন রয়েছে।

এদের মধ্যে ১০ জন শিশু, ২ জন নারী ও ২ জন বৃদ্ধ রয়েছে। বুধবার (২৮ জুলাই) ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পানখালী ভিলেজার পাড়ায় পাহাড় ধসের ঘটনায় ৫ শিশু নিহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ভিলেজার পাড়া ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ আলমের ছেলে আব্দুস শুক্কুর (১৬), মোহাম্মদ জুবায়ের (১২), আব্দুল লতিফ (১০) মেয়ে কহিনুর আক্তার (১৪) ও জয়নাব আক্তার (৮)।

একই সময় মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা এলাকায় নিহত হয়েছে মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে আলী হোসেন (৮০)। এসময় পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে পাহাড় ধসের ঘটনায় উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১০ নম্বর ও ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরঘোনা এলাকা এবং মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের উত্তর সিপাহীর পাড়া ও হোয়ানকে পৃথক এ ঘটনা ঘটেছে। এতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ৪ শিশুসহ ৬ জন, টেকনাফে একজন বৃদ্ধের এবং মহেশখালীতে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু-দৌজা নয়ন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে বসত ঘরে মাটি চাপায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১০ নম্বর শরণার্থী শিবিরে তিন শিশুসহ ৫ জন এবং ১৮ নম্বর শরণার্থী শিবিরের খালে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে ১ রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে পাহাড় ধসের ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুপুরে উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের ঢালের নিচের ২/৩ টি বসতির উপর মাটি ধসে পড়ে। এতে দুইটি পরিবারের ৩ শিশুসহ ৫ জন ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং আহত হয় ২ জন। পরে খবর পেয়ে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি চাপা অবস্থায় ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করে।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লঘুচাপের কারণে সাগরে জোয়ারের পানি ৩ থেকে ৪ সেন্টমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় ১১৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (২৮ জুলাই) ভোর থেকে টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে বাতাস। এর ফলে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, পোকখালী, ভারুয়াখালী, গোমাতলী, ঈদগাঁও, ইসলাম, রামু, পেকুয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, উখিয়ার জালিয়াপাড়া, ইনানী, টেকনাফের সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, মহেশখালী, কুতুবদিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া দপ্তরের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের কারণে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার উপকূলে যে সমস্ত নৌযান চলাচল করে সেসব নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদে থেকে মাছ শিকারের কথা বলা হচ্ছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..