সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা শেষ হচ্ছে নভেম্বরে বেলাবতে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা মনোহরদীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত পলাশে মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন র‌্যালী ও আলোচনা সভা সার্ক জার্নালিষ্ট ফোরাম বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এর কমিটি ঘোষণা আত্রাইয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা রায়পুরায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে দৌলতপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় রায়পুরায় কর্মহীন অসহায় মহিলাদের মাঝে কেন্দ্রীয় নেতা কাওছারের বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ শেরপুরে পানির উপর বাসর ঘর

পদ্মা সেতু দিয়ে ২১ জেলায় যুক্ত হবে বিলাসবহুল পরিবহন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩০ মে, ২০২২
  • ৩৩ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট:

আগামী ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতুকে ঘিরে মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। ওই দিন রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি সড়ক পথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের দ্বার উন্মোচিত হবে। গাড়ির চাকার সঙ্গে ঘুরবে অর্থনীতিরও চাকা।
সরকার উদ্বোধন ঘোষণার তারিখ জানানোর পর থেকেই যেন আর তর সইছে না। কবে যাবো পদ্মা সেতু দিয়ে এই স্বপ্নে সবাই বিভোর। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহন ব্যবসায়ীরাও চালু করছেন নতুন নতুন গাড়ি। রাজধানী থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে দক্ষিণের ২১ জেলায়। বেনাপোল স্থল বন্দর, ভোমরা স্থল বন্দর, মংলা বন্দর, পায়রা বন্দর পৌঁছানো যাবে সহজেই। এ ছাড়াও, কুয়াকাটা-সুন্দরবনসহ পর্যটনখাতেও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে দেশের ২১টি জেলায় যাওয়া যায়। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে বরিশাল যাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টায়, খুলনা ৩ ঘণ্টায় আর ফরিদপুর যেতে সময় লাগবে ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট। তাই সড়ক পথকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে সাধারণ মানুষসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। জাজিরা মাঝিরঘাট থেকে ফেরি ও জোয়ার-ভাটা ভেদে মাওয়া প্রান্তে যেতে কখনও একঘণ্টা, আবার কখনও দেড় ঘণ্টা লাগছে। তেমনি সরাসরি বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে (ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার) সময় লাগবে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।
কারণ ৬ কিলোমিটারের পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটেই পৌঁছে যাবে মাওয়া প্রান্তে। এরপর ৪০ মিনিটের মধ্যে গুলিস্তান কিংবা যাত্রাবাড়ী পৌঁছে যাওয়া যায়। তেমনি খুলনা, যশোর থেকেই চার, সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের এমন অনেক পরিবহন মালিক রয়েছেন, যারা শুধু মাওয়া ও দৌলতদিয়ার ফেরির কারণে বিলাসবহুল গাড়ি নামাতে পারে নাই।
এ ছাড়াও, এক্সপ্রেসওয়ে অর্থাৎ ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে কাঁঠালাবাড়ি ফেরি ঘাটের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার, যা বর্তমানে যেতে সময় লাগছে মাত্র ২০ মিনিট। আর এত অল্প সময়ে ঢাকায় যাওয়া-আসা করা সম্ভব হবে স্বপ্নের এই সেতুর কারণে। পদ্মা সেতু চালু হলে সড়ক পথের যোগাযোগে ফেরি ভোগান্তি থাকবে না। ফলে পদ্মা সেতু চালু হলে পরিবহন ব্যবসায় নতুনত্ব আসবে দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে।
এদিকে, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উন্নয়নমূলক মহাকর্মযজ্ঞ চলছে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহন ব্যবসায়ীরাও চালু করেন নতুন নতুন গাড়ি। রাজধানী থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে দক্ষিণের ২১ জেলা। বেনাপোল স্থল বন্দর, ভোমরা স্থল বন্দর, মংলা বন্দর, পায়রা বন্দর পৌঁছানো যাবে সহজেই। এ ছাড়াও, কুয়াকাটা-সুন্দরবনসহ পর্যটনখাতেও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. ফারুক আহমেদ তালুকদার বলেন, আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে আমরা আনন্দিত। পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকা যাওয়ার স্বপ্ন শরীয়তপুরবাসীর বহুদিনের। শরীয়তপুরবাসীর স্বপ্ন পুরণে আমরা শরীয়তপুর টু ঢাকা ‘শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস’ নামে বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এসি বাস সার্ভিসও চালু করবো।
তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ফোর লেনের সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। আমরা অতি দ্রুত সড়কটি নির্মাণের দাবি জানাই। কারণ, বর্তমানে যে সড়কটি রয়েছে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ, ভাঙাচোরা। দুটি গাড়ি পাস হতে কষ্ট হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আশাকরি সরকার দ্রুত সড়কটি ফোরলেনে রুপান্তরিত করবেন।’
বরিশাল থেকে মাওয়া রুটে চলাচলকারী কয়েকটি যাত্রী পরিবহনের কয়েকজন চালক ও মালিক বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে খুলনা, যশোর, বেনাপোল, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলা থেকে ঢাকায় যেতে সময় কমে যাবে প্রায় দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। আর যাত্রীসেবার মানও বাড়বে কয়েকগুণ। এত দিন মাওয়া ফেরি ও সরু সড়কপথের কারণে এ অঞ্চলে বিলাসবহুল পরিবহন সংযোজন যারা এত দিন করতে পারেননি, এখন বিনিয়োগ করবো। কারণ, বিনিয়োগ করলে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা মোটেই নেই।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ফেরা কয়েকজন ছাত্র বলেন, এখন আর ঢাকা থেকে সমুদ্র সৈকত দেখতে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা ব্যয় করে কষ্ট করে কক্সবাজার যাওয়া লাগবে না। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। কক্সবাজারের থেকে অর্ধেকেরও কম সময় লাগবে। বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির ভাসমান বাজার কিংবা শাপলার বিল দেখতে ঢাকা থেকে আসতে তেমন একটা সময়ের প্রয়োজন হবে না।
বেনাপোল ও খুলনা থেকে ছেড়ে আসা দুইটি বাসচালক মোজাম্মেল ও শওকত বলেন, ফেরি ঘাটে এসে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারবো। দেশের আমদানি রপ্তানিও বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তা-হোস্ট
bi-alokitokhobor