ঢাকা ০৯:৫৯ পিএম, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগের কমিটিতে ‘ছাত্রদল নেতা’, তিনজনের পদত্যাগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৯ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮ ২২ বার পড়া হয়েছে
আলোকিত খবর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা উত্তর মহানগরের ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা কমিটি ঘোষণা আর তিন নেতার পদত্যাগ-দুটোই ঘটল প্রায় একই সময়ে।

যাকে আট সদস্যের কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, রাজনীতিতে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকা আর সাধারণ সম্পাদকের ছাত্রদল সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ আট সদস্যের মোহাম্মদ থানা কমিটির ঘোষণা দেন সোমবার রাতে। আর কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন নতুন কমিটির সহসভাপতি শাকিল ইসলাম রাব্বি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক অনিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক হাসান শুভ।

এক বছরের জন্য অনুমোদিত কমিটির তিনজন সরে দাঁড়ানো নিয়ে সংগঠনের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে শাকিল ইসলাম রাব্বি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আট বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে আমি চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করার জন্য। আমার মনে হয় অযোগ্য লোকের নেতৃত্ব নিয়ে ছাত্রলীগ চলতে পারে না। যাকে সভাপতি করা হয়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মাত্র চার বছরের। তার চাইতেও অনেক যোগ্য লোককে এই কমিটিতে নিয়ে আসা যেত।’

‘এছাড়া যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে (নাইমুল হাসান রাসেল), সে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সাথে এক সময় সরাসরি যুক্ত ছিল। তার প্রচুর প্রমাণ আপনাদের (গণমাধ্যমের) কাছেও আছে। এ ধরনের একটি কমিটি দায়িত্ব পেলে, তা ছাত্রলীগের জন্য কখনোই ভালো হবে না। বরং এরা ছাত্রলীগকে অপমান করবে। তাই সকালে কমিটি দেখার পরই আমি পদত্যাগ করেছি।’

ছাত্রলীগের পদত্যাগী নেতারা জানান, যে রাসেলকে মোহাম্মদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি ২০১৪ সাল অবধি ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িতে ছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনের পর কিছুদিন তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন এবং এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিবের কাছাকাছি আসেন। এরপর তিনি ছাত্রলীগে আসেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে রাসেলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরই তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

ছাত্রলীগের যে তিন নেতা পদত্যাগপত্র করেছেন তারা তাদের চিঠিতে সংগঠনে ‘নোংরা রাজনীতির’ অবসান চেয়ে ঢাকা-১৩ আসনের সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কমিটির সদস্যদের পরিচয় ও জীবনবৃত্তান্ত যাচাই বাছাই করে নতুন করে কমিটি দেয়ার দাবি জানান সহসভাপতির পদ ছাড়া রাব্বি।

পদত্যাগী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক অনিক তার পদত্যাগপত্রে  কোনো কারণ জানাননি। তবে সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক হাসান শুভ তার পদত্যাগপত্রে কমিটিটিকে ‘নোংরা রাজনীতি’ কমিটি বলে উল্লেখ করেছেন।

সদস্যদের পদত্যাগের কারণ এবং সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নাকে ফোন করা হলে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছাত্রলীগের কমিটিতে ‘ছাত্রদল নেতা’, তিনজনের পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৯ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮

ঢাকা উত্তর মহানগরের ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা কমিটি ঘোষণা আর তিন নেতার পদত্যাগ-দুটোই ঘটল প্রায় একই সময়ে।

যাকে আট সদস্যের কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, রাজনীতিতে তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকা আর সাধারণ সম্পাদকের ছাত্রদল সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ আট সদস্যের মোহাম্মদ থানা কমিটির ঘোষণা দেন সোমবার রাতে। আর কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন নতুন কমিটির সহসভাপতি শাকিল ইসলাম রাব্বি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক অনিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক হাসান শুভ।

এক বছরের জন্য অনুমোদিত কমিটির তিনজন সরে দাঁড়ানো নিয়ে সংগঠনের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে শাকিল ইসলাম রাব্বি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আট বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে আমি চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করার জন্য। আমার মনে হয় অযোগ্য লোকের নেতৃত্ব নিয়ে ছাত্রলীগ চলতে পারে না। যাকে সভাপতি করা হয়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মাত্র চার বছরের। তার চাইতেও অনেক যোগ্য লোককে এই কমিটিতে নিয়ে আসা যেত।’

‘এছাড়া যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে (নাইমুল হাসান রাসেল), সে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সাথে এক সময় সরাসরি যুক্ত ছিল। তার প্রচুর প্রমাণ আপনাদের (গণমাধ্যমের) কাছেও আছে। এ ধরনের একটি কমিটি দায়িত্ব পেলে, তা ছাত্রলীগের জন্য কখনোই ভালো হবে না। বরং এরা ছাত্রলীগকে অপমান করবে। তাই সকালে কমিটি দেখার পরই আমি পদত্যাগ করেছি।’

ছাত্রলীগের পদত্যাগী নেতারা জানান, যে রাসেলকে মোহাম্মদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি ২০১৪ সাল অবধি ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িতে ছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনের পর কিছুদিন তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন এবং এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিবের কাছাকাছি আসেন। এরপর তিনি ছাত্রলীগে আসেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে রাসেলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরই তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

ছাত্রলীগের যে তিন নেতা পদত্যাগপত্র করেছেন তারা তাদের চিঠিতে সংগঠনে ‘নোংরা রাজনীতির’ অবসান চেয়ে ঢাকা-১৩ আসনের সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কমিটির সদস্যদের পরিচয় ও জীবনবৃত্তান্ত যাচাই বাছাই করে নতুন করে কমিটি দেয়ার দাবি জানান সহসভাপতির পদ ছাড়া রাব্বি।

পদত্যাগী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক অনিক তার পদত্যাগপত্রে  কোনো কারণ জানাননি। তবে সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতীক হাসান শুভ তার পদত্যাগপত্রে কমিটিটিকে ‘নোংরা রাজনীতি’ কমিটি বলে উল্লেখ করেছেন।

সদস্যদের পদত্যাগের কারণ এবং সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নাকে ফোন করা হলে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন।