নরসিংদীতে অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে টেনেহিঁচড়ে লাঞ্ছিত ও হামলা
- আপডেট সময় : ০৫:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরায় অবস্থিত সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে| আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে এই হামলার ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে|
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে অফিসে দায়িত্ব পালনকালে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোক অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করছে| তাকে প্যান্টের বেল্ট ধরে টানাহেঁচড়া করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়| একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন| এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের অনেককে অসহায়ভাবে এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়, যা গভীর ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে|
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে| সচেতন মহল এই বর্বরোচিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছেন|
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি পক্ষ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে| এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে, যা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়| সর্বশেষ আদালত অধ্যক্ষের পক্ষে রায় দিয়ে তাকে ¯^পদে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন| তবে স্থানীয় প্রতিপক্ষরা আদালতের এই রায় মেনে নিতে অ¯^ীকৃতি জানিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রাখে|
এর আগেও গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পুনর্বহালের দাবিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে| এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে|
সর্বশেষ, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ¯^াক্ষর দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধে ১৯ এপ্রিল সকালে প্রতিষ্ঠানে আসেন অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া| এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন ও বহিরাগতরা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করে|
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে হামলার শিকার অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া বলেন, আগামী ২১ তারিখ থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় এদিন ছিল শিক্ষার্থীদের শেষ ক্লাস| সে কারণে প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে তিনি কলেজে এসেছিলেন|
তিনি জানান, “অ্যাসে¤^লি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমজাদ, জলিল, আতিক ও জুয়েলসহ কয়েকজন হঠাৎ করে এসে আমাকে টানাহেঁচড়া শুরু করে এবং মারধর করে নাজেহাল করে| একজন শিক্ষক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে এটা কখনো কল্পনাও করিনি|”
অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, “তারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত হিসেবে প্রবেশ করে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে| এর আগেও তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল| আমি তা দিতে অ¯^ীকৃতি জানালে তারা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে| তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণ করেছে|”
তিনি আরও বলেন, “এই বহিরাগতরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের ¯^াভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে| তারা ক্লাসরুমে তালা দেয়, শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত করে| কিন্তু এখনো তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এটা দুঃখজনক|”
ঘটনার সময়ের বর্ণনা দিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, “তারা আমাকে জোর করে টানাহেঁচড়া করে বিএনপি নেতা নাজমুল হক বাদলের অফিসে নিয়ে যেতে চেয়েছিল| আমি বারবার বলেছি, কেন আমি আমার অফিস ছেড়ে কোনো রাজনৈতিক নেতার অফিসে যাব? কোনো প্রয়োজন থাকলে আপনারা আমার অফিসেই এসে কথা বলেন|”
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে| বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি| দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন|
এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষানুরাগীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হওয়ার পথে| তারা অবিল¤ে^ প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষা পরিবেশ ¯^াভাবিক করা এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন|



















