ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখে এখন ঋণের চাপে ঘরবাড়ি হারানোর পথে শতাধিক পরিবার
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর রায়পুরায় সার্বিয়া ও ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার ও অর্থ ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, চক্রটি ইউরোপের সার্বিয়া ও ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেয়। প্রতিজনের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। অনেকেই জমি বিক্রি, এনজিও ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চক্রটির মূলহোতা খন্দকার কায়সার মাহমুদ বুলবুল। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার ভাই খন্দকার আশেক মাহমুদ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন শাখায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত, এবং আরেক ভাই খন্দকার হায়াত মাহমুদ বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিতে মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন বলেও তারা জানান।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর দালাল চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। তাদের অফিসও তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, কিছু প্রবাসপ্রত্যাশীকে শ্রীলঙ্কা ও মিশরে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আরও ২-৪ লাখ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এখন টাকা চাইলে চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক ভুক্তভোগী বলেন, “বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখন ঋণের চাপে ঘরবাড়ি হারানোর পথে।”
আরেকজন বলেন, “আমার দুই ছেলেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন দালালদের কোনো খোঁজ নেই।”
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারের দাবি জানান। তারা জানান, প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রায়পুরার সাধারণ মানুষও এই প্রতারণার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
























