ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়পুরায় নারীদের মানববন্ধনে বিএনপি নেতার হামলা ও সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আলোকিত খবর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:

নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপরও অসৌজন্যমূলক আচরণ ও পেশাগত কাজে বাধা প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বাদল মিয়া ও তার সহযোগীরা মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নারী অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং তাদেও হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন।

এর আগে বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন শুরু হলে হামলাকারীরা নারীদের মাঠ থেকে বের করে দেয়। এসময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় তারা। সাংবাদিকদের কাজে বাধা এবং অশোভন আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে একটি মহল তাকে অপসারণ করে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি। আদালত পরবর্তীতে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কারণে তিনি এখনো দায়িত্ব নিতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানান ধরনের মিছিল ও স্লোগান দিয়ে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। “অধ্যক্ষ স্যারকে নিয়ে অন্যায়ভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি নারী অংশগ্রহণকারীদের গায়ে হাত তোলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।”

আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, “নূর শাখাওয়াত স্যার থাকাকালে বিদ্যালয়ের পাশের হার ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। এখন তা নেমে অর্ধেকের নিচে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঘটনার কিছুক্ষন পর হামলাকারীর নেতা ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক বাদল মিয়ার কাছে হামলার কারন জানতে চাইলে তিনি নারীদেরকে অসম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করে বলেন, অধ্যক্ষ একজন দূর্নীতিবাজ ও অর্থআত্মসাতকারী। তার পক্ষে টাকা খেয়ে এসব নারীরা আসছে মানববন্ধন করতে। সাংবাদিকদেরকে কাজে বাধা দেওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন- একজন দূর্নীতিবাজ শিক্ষকের পক্ষে সাংবাদিকরা আসবে কেন নিউজ করতে। তারা কিসের সাংবাদিক ? তার এমন আচরনে সংবাদকর্মীরা ক্ষুব্দ্র হলে কিছুক্ষন তারা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান।

রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তফা খান, এম নুরউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা সহ সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা প্রদান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাপ্রেমীরা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রায়পুরায় নারীদের মানববন্ধনে বিএনপি নেতার হামলা ও সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা

আপডেট সময় : ০৩:৪০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী:

নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপরও অসৌজন্যমূলক আচরণ ও পেশাগত কাজে বাধা প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বাদল মিয়া ও তার সহযোগীরা মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নারী অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং তাদেও হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন।

এর আগে বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন শুরু হলে হামলাকারীরা নারীদের মাঠ থেকে বের করে দেয়। এসময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় তারা। সাংবাদিকদের কাজে বাধা এবং অশোভন আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে একটি মহল তাকে অপসারণ করে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি। আদালত পরবর্তীতে তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কারণে তিনি এখনো দায়িত্ব নিতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাহমিনা রেজা মৌসুমী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানান ধরনের মিছিল ও স্লোগান দিয়ে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। “অধ্যক্ষ স্যারকে নিয়ে অন্যায়ভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি নারী অংশগ্রহণকারীদের গায়ে হাত তোলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।”

আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুরজাহান খানম ইতি বলেন, “নূর শাখাওয়াত স্যার থাকাকালে বিদ্যালয়ের পাশের হার ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। এখন তা নেমে অর্ধেকের নিচে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঘটনার কিছুক্ষন পর হামলাকারীর নেতা ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক বাদল মিয়ার কাছে হামলার কারন জানতে চাইলে তিনি নারীদেরকে অসম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করে বলেন, অধ্যক্ষ একজন দূর্নীতিবাজ ও অর্থআত্মসাতকারী। তার পক্ষে টাকা খেয়ে এসব নারীরা আসছে মানববন্ধন করতে। সাংবাদিকদেরকে কাজে বাধা দেওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন- একজন দূর্নীতিবাজ শিক্ষকের পক্ষে সাংবাদিকরা আসবে কেন নিউজ করতে। তারা কিসের সাংবাদিক ? তার এমন আচরনে সংবাদকর্মীরা ক্ষুব্দ্র হলে কিছুক্ষন তারা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান।

রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তফা খান, এম নুরউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা সহ সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা প্রদান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাপ্রেমীরা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।