পরিবার আর পোষা প্রাণীর গল্প
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার:
ওটিটিতে আসছে পারিবারিক আবেগের গল্প ‘মিউ’। আগামী ৫ মার্চ থেকে সিনেমাটি দেখা যাবে চরকি-তে। পরিবারের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর এক পোষা প্রাণীর নীরব উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ছবিটি দর্শকদের জন্য আনছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
‘মিউ’ পরিচালনা করেছেন আতিক জামান। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; বরং একটি সম্পর্ক-নির্ভর মানবিক আখ্যান। পরিবারের ভেতরের ভাঙাগড়া, অভিমান, দায়বদ্ধতা আর অদৃশ্য ক্ষমতার ভারসাম্য—সবকিছুই এখানে উঠে এসেছে সংবেদনশীলভাবে। আর এই গল্পে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে একটি পোষা বিড়াল, যে নিছক প্রাণী নয়—বরং পরিবারেরই এক সদস্য।
সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন সাদিয়া আয়মান। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি, আফজাল হোসেন, ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল, রাকিব হোসেন ইভন, আজিজুল হাকিম, কাব্যকথা প্রতীতি ও তামান্না হক বর্ণা। গল্পে আজিজুল হাকিম ও আফসানা মিমি হয়েছেন সাদিয়া ও ইভনের বাবা–মা।
মা চরিত্রটি নিয়ে আফসানা মিমির পর্যবেক্ষণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তার ভাষায়, প্রতিটি পরিবারেই মা একধরনের রাজনৈতিক চরিত্র। পরিবার নামের কাঠামোটি অনেকটা রাষ্ট্রের মতো—যেখানে মা-ই মূল নিয়ন্ত্রক। কখনও কঠোর, কখনও স্নেহময়ী, কখনও আবার বাস্তবতার কারণে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য—এই বহুমাত্রিক রূপেই তিনি পরিবারকে ধরে রাখেন। ‘মিউ’-তে সেই বাস্তব মায়ের প্রতিচ্ছবিই দেখা যাবে।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে রাফি চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাকিব হোসেন ইভন। দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপে তার চরিত্রটি যেন এক অদৃশ্য বোঝা বয়ে বেড়ায়। পরিবারের ‘বটগাছ’ হয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টায় রাফির অসহায়ত্ব ও মানবিক দিক ফুটে উঠেছে গল্পে। ইভনের বিশ্বাস, অনেক দর্শকই নিজেদের জীবনের সঙ্গে এই চরিত্রকে মিল খুঁজে পাবেন।
তবে সিনেমার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আকর্ষণ নিঃসন্দেহে একটি বিড়াল—‘আলু’। মজার বিষয় হলো, এটি সাদিয়া আয়মানের বাস্তব জীবনের পোষা বিড়াল, যে ‘মিউ’-তে অভিনয় করেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। সাদিয়ার কাছে এই কাজ তাই অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে আলাদা আবেগের।
তিনি বলেন, এই সিনেমায় শুধু মানুষে মানুষে সম্পর্ক নয়, মানুষ ও পোষা প্রাণীর গভীর আবেগও উঠে এসেছে। আমরা অনেক সময় প্রাণীকে ভালোবাসি, কিন্তু তাদের অনুভূতি, নির্ভরতা কিংবা নিরাপত্তাবোধের বিষয়টি ততটা ভাবি না। ‘মিউ’ সেই প্রশ্নই দর্শকের সামনে তুলে ধরবে।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সাদিয়া জানান, আলু একেবারে পেশাদার শিল্পীর মতো কাজ করেছে। বেশিরভাগ শটই এক টেকে সম্পন্ন হয়েছে। নিজের পোষা প্রাণীর সঙ্গে কাজ করার সেই মুহূর্তগুলো তার কাছে ছিল আবেগঘন ও স্মরণীয়।
‘মিউ’-এর গল্প লিখেছেন মো. আলম ভূঁইয়া। নির্মাতা ও গল্পকার যৌথভাবে লিখেছেন চিত্রনাট্য ও সংলাপ। পারিবারিক আবেগ, সামাজিক বাস্তবতা ও এক পোষা প্রাণীর নীরব উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ‘মিউ’ হতে পারে ওটিটির দর্শকদের জন্য হৃদয়ছোঁয়া এক অভিজ্ঞতা।




















