ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৭

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
আলোকিত খবর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী নূর মোহাম্মদ নূরাসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল-ফারুক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে নূরাকে এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে সহযোগী হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। ইতোমধ্যে ধর্ষণ ও হত্যায় সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং সহায়তাকারী ৩ জনসহ মোট ৭ আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই পলাতক আসামীকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

এসপি আরও জানান, প্রধান আসামী নূরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের বিষয়টি স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারের সময় সে ভারতের উদ্দেশ্যে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে পুলিশকে জানায়।

এর আগে শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া ৫ আসামীকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত আগামী রবিবার (১ মার্চ) শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া নূরা ও হযরত আলীকেও শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে, যেখানে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে কিশোরী আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে প্রধান আসামী নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে আমিনাকে দাফন করা হয়।
এই ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া আহাম্মদ আলী, যিনি মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইউপির সাবেক সদস্য, তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৭

আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী নূর মোহাম্মদ নূরাসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল-ফারুক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে নূরাকে এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে সহযোগী হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। ইতোমধ্যে ধর্ষণ ও হত্যায় সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং সহায়তাকারী ৩ জনসহ মোট ৭ আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই পলাতক আসামীকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

এসপি আরও জানান, প্রধান আসামী নূরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের বিষয়টি স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারের সময় সে ভারতের উদ্দেশ্যে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে পুলিশকে জানায়।

এর আগে শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া ৫ আসামীকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত আগামী রবিবার (১ মার্চ) শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া নূরা ও হযরত আলীকেও শনিবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে, যেখানে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে কিশোরী আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে প্রধান আসামী নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে আমিনাকে দাফন করা হয়।
এই ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া আহাম্মদ আলী, যিনি মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইউপির সাবেক সদস্য, তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।