ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্র্যান্ড জগতে নতুন ভাবে উপস্থাপন করলেন ফারিহা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আলোকিত খবর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মেয়ে ফারিহা জামান। পরিবারে সবাই চিকিৎসক হলেও ছোটবেলা থেকেই তার মন টানত ফ্যাশনের দিকে। সেই আগ্রহ থেকেই পড়াশোনার পথ বদলে নেন তিনি। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে তিনি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে অনার্স করছেন। স্বপ্ন ছিল নিজের একটি ফ্যাশন হাউস গড়ার। তবে পড়াশোনার মাঝেই অপ্রত্যাশিতভাবে পা পড়ে ব্র্যান্ড প্রমোশনের জগতে।

ফারিহা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক বন্ধুর পারিবারিক ফ্যাশন হাউসের জন্য প্রথম ফটোশুট করেন। ছবিগুলো বেশ সাড়া ফেলে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার পথচলা। সেই ব্র্যান্ডের মাধ্যমেই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুটা সহজ মনে হলেও সময়ের সঙ্গে বুঝেছেন, পথটা মোটেও মসৃণ নয়। কম বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করায় প্রতিযোগিতা ছিল বেশি, অনেকেই ছিলেন অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত। তবু নেতিবাচক প্রচারণার পথে না হেঁটে ইতিবাচকভাবে নিজেকে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তার মতে, একজন ব্র্যান্ড প্রমোটারের প্রধান দায়িত্ব হলো ব্র্যান্ডের বার্তাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং অডিয়েন্সের সঙ্গে বিশ্বাস তৈরি করা। কনটেন্ট হতে হবে আকর্ষণীয়, কিন্তু একই সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ। প্রথম বড় ক্যাম্পেইনের অভিজ্ঞতা ছিল উত্তেজনা আর শঙ্কায় মিশ্রিত। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর ইতিবাচক সাড়া তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

সোশ্যাল মিডিয়াকেই তিনি নিজের কাজের মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন। এখান থেকেই সরাসরি দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ, ট্রেন্ড বোঝা এবং এনগেজমেন্ট তৈরি সম্ভব। তবে ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দেন বিশ্বাসযোগ্যতা, পণ্যের মান এবং নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যকে।
নারী হিসেবে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জানান ফারিহা। কখনো অবমূল্যায়ন, কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য। তবে আত্মবিশ্বাস ও পেশাদার মনোভাব দিয়ে তিনি সেগুলো সামলে নিয়েছেন। সমালোচনাকে তিনি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন, গঠনমূলক মন্তব্য গ্রহণ করেন, অযথা নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলেন।

এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে তিনি মনে করেন ধারাবাহিকতা ও সততাকে। তার ভাষায়, শর্টকাটে সফলতা আসে না, সময় ও ধৈর্যই আসল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে নিজেকে শুধু ব্র্যান্ড প্রমোটার নয়, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড কনসালট্যান্ট হিসেবে দেখতে চান তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব একটি ব্র্যান্ড বা উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনাও আছে, যা তার ব্যক্তিত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরবে।
নতুন যারা এই পেশায় আসতে চান, তাদের জন্য ফারিহার পরামর্শ, আগে নিজের দক্ষতা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত কাজ করতে হবে, ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, তবে স্বকীয়তা হারানো যাবে না। তার বিশ্বাস, ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকলে সফলতা একদিন আসবেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্র্যান্ড জগতে নতুন ভাবে উপস্থাপন করলেন ফারিহা

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মেয়ে ফারিহা জামান। পরিবারে সবাই চিকিৎসক হলেও ছোটবেলা থেকেই তার মন টানত ফ্যাশনের দিকে। সেই আগ্রহ থেকেই পড়াশোনার পথ বদলে নেন তিনি। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে তিনি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে অনার্স করছেন। স্বপ্ন ছিল নিজের একটি ফ্যাশন হাউস গড়ার। তবে পড়াশোনার মাঝেই অপ্রত্যাশিতভাবে পা পড়ে ব্র্যান্ড প্রমোশনের জগতে।

ফারিহা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক বন্ধুর পারিবারিক ফ্যাশন হাউসের জন্য প্রথম ফটোশুট করেন। ছবিগুলো বেশ সাড়া ফেলে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় তার পথচলা। সেই ব্র্যান্ডের মাধ্যমেই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুটা সহজ মনে হলেও সময়ের সঙ্গে বুঝেছেন, পথটা মোটেও মসৃণ নয়। কম বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করায় প্রতিযোগিতা ছিল বেশি, অনেকেই ছিলেন অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত। তবু নেতিবাচক প্রচারণার পথে না হেঁটে ইতিবাচকভাবে নিজেকে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তার মতে, একজন ব্র্যান্ড প্রমোটারের প্রধান দায়িত্ব হলো ব্র্যান্ডের বার্তাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং অডিয়েন্সের সঙ্গে বিশ্বাস তৈরি করা। কনটেন্ট হতে হবে আকর্ষণীয়, কিন্তু একই সঙ্গে সত্যনিষ্ঠ। প্রথম বড় ক্যাম্পেইনের অভিজ্ঞতা ছিল উত্তেজনা আর শঙ্কায় মিশ্রিত। তবে কাজ শেষ হওয়ার পর ইতিবাচক সাড়া তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

সোশ্যাল মিডিয়াকেই তিনি নিজের কাজের মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন। এখান থেকেই সরাসরি দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ, ট্রেন্ড বোঝা এবং এনগেজমেন্ট তৈরি সম্ভব। তবে ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দেন বিশ্বাসযোগ্যতা, পণ্যের মান এবং নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যকে।
নারী হিসেবে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জানান ফারিহা। কখনো অবমূল্যায়ন, কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য। তবে আত্মবিশ্বাস ও পেশাদার মনোভাব দিয়ে তিনি সেগুলো সামলে নিয়েছেন। সমালোচনাকে তিনি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন, গঠনমূলক মন্তব্য গ্রহণ করেন, অযথা নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলেন।

এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে তিনি মনে করেন ধারাবাহিকতা ও সততাকে। তার ভাষায়, শর্টকাটে সফলতা আসে না, সময় ও ধৈর্যই আসল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে নিজেকে শুধু ব্র্যান্ড প্রমোটার নয়, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড কনসালট্যান্ট হিসেবে দেখতে চান তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব একটি ব্র্যান্ড বা উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনাও আছে, যা তার ব্যক্তিত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরবে।
নতুন যারা এই পেশায় আসতে চান, তাদের জন্য ফারিহার পরামর্শ, আগে নিজের দক্ষতা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত কাজ করতে হবে, ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, তবে স্বকীয়তা হারানো যাবে না। তার বিশ্বাস, ধৈর্য আর পরিশ্রম থাকলে সফলতা একদিন আসবেই।