টাইমস স্কোয়ারে রবীন্দ্রনাথ-লালনের গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন স্বপ্নীল সজীব
- আপডেট সময় : ০১:৫১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

হৃদয় খান, বিনোদন প্রতিবেদক:
গোটা বিশ্বের বাঙালি সম্প্রদায়ের জন্য এক আবেগঘন ও গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার। সেখানে আয়োজিত এক হৃদয়ছোঁয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খ্যাতনামা বাংলাদেশি শিল্পী স্বপ্নীল সজীব পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহ ও হাসন রাজার কালজয়ী কবিগান। অনুষ্ঠানটি ছিল পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল)-কে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত উদযাপনকে কেন্দ্র করে।
ব্রঙ্কসের সিনেটর লুইস আর. সেপুলভেদার নেতৃত্বে এই প্রস্তাব পাস হয়, যা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর সেই আনন্দঘন মুহূর্তকে আরও গভীর করে তোলে সংগীত ও সংস্কৃতির এই অনন্য পরিবেশনা।
গান শেষে আবেগঘন বক্তব্যে স্বপ্নীল সজীব বলেন, নিউ ইয়র্কের মতো একটি বৈশ্বিক শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে নিজের দেশের মহান কবিদের গান গাওয়া তার জন্য শুধু গর্বের নয়, বরং বড় দায়িত্বও। তিনি মনে করেন, এই গানগুলো কেবল বিনোদন নয়—এগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্মিক সাধনা, দর্শন এবং বাঙালি পরিচয়ের গভীর প্রকাশ। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্য এমন আয়োজন তাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, এই কবিগান মানুষকে ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায় এবং মানবতার প্রতি ভালোবাসা জাগায়। রবীন্দ্রনাথ, লালন ও হাসন রাজার চিন্তা ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া মানে এমন মূল্যবোধ গড়ে তোলা, যা সময় ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সর্বজনীন হয়ে ওঠে।
এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নুরুল আমিন বাবু। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর থেকেই তিনি নিরলসভাবে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছেন। তার উদ্যোগেই আন্তর্জাতিক লালন উৎসব, রবীন্দ্র উৎসব এবং টাইমস স্কোয়ারে বাংলা নববর্ষ উদযাপন এখন নিয়মিত আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
পুরো অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল বেঙ্গলী ক্লাব, ইউএসএ, নুরুল আমিন বাবুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় গত বছর নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট চেম্বারে গভর্নর ক্যাথি হোকুল বাঙালি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যদের সম্মানে একটি বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সেখানে বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বিশ্বমঞ্চে তার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে, এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়- এটি প্রবাসে বাঙালি পরিচয়ের দৃঢ় উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।



















