দিল্লিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন: মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ
- আপডেট সময় : ১০:৩১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

নয়াদিল্লি, ৭ ফেব্রুয়ারি:
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্ত উত্তেজনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়নের জটিল বাস্তবতায় গণমাধ্যম কীভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে – সেই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হলো এক আন্তর্জাতিক সংলাপ।
সংলাপটির আয়োজন করে ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (IQAC), সহযোগিতায় ছিল সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (এসজিএফ) ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার।
অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল – “দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি: গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার দর্পণে একটি পর্যবেক্ষণ।”
সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত শ্যামলাল কলেজে, যেখানে অংশগ্রহণ করেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ সাংবাদিক নেতা ও বিশেষজ্ঞরা।
উপস্থিত ছিলেন এসজিএফ-এর প্রেসিডেন্ট রাজু লামা, সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রহমান, ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. অনিরুদ্ধ শুধাংশু, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবীসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও দিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক প্রতিনিধিরা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ও আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নচিকেতা সিং।
আলোচকরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক।
রাজনৈতিক সংঘাত, উগ্রবাদ, জলবায়ু সংকট ও দারিদ্র্যের মতো চ্যালেঞ্জগুলো পরস্পর সম্পর্কিত- তাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু খবর পরিবেশন নয়, বরং এই আন্তঃসম্পর্কগুলো জনসাধারণের সামনে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, “দায়িত্বজ্ঞানহীন বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।”
বিপরীতে, তথ্যনির্ভর ও সংবেদনশীল সাংবাদিকতা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে বলেও মত দেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ফেক নিউজ, গুজব ও ডিজিটাল প্রপাগান্ডা-র এই যুগে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভুল তথ্য শুধু সামাজিক বিভ্রান্তিই নয়, অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
বক্তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের উচিত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, মানবিকতা ও সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া। সংঘাত উসকে না দিয়ে সমস্যা ও সমাধানের পথ তুলে ধরাই হওয়া উচিত আধুনিক সাংবাদিকতার লক্ষ্য।
শেষপর্যন্ত তাঁরা জোর দেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ালে সীমান্তপারের ভুল বোঝাবুঝি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংলাপ দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে। তাঁরা ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।














