রায়পুরায় নারীদের মানববন্ধনে হামলা: ১১ দিনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নে নারীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা রুজু বা দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ- এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী নূরজাহান খানম ইতি রায়পুরা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ১২টার দিকে আদিয়াবাদ সরকারি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ জন নারী-পুরুষ একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, মানববন্ধন চলাকালে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদলসহ তার সমর্থক আমজাদ, মিল্লাত, হাসনাত, উত্তরপাড়ার সোহাগ মোল্লা ও আল আমিনসহ আরও ৯-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে এসে মানববন্ধনে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত সামসু উদ্দিন খান হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এছাড়া মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রোকসানা ওয়াহিদকে থাপ্পড় মেরে তার হাতে থাকা ব্যানার কেড়ে নেওয়া হয় এবং নারী অংশগ্রহণকারীদের বোরকা ও কাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় হামলাকারীরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। পরে আহত সামসু উদ্দিন খানকে স্থানীয়দের সহায়তায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নূরজাহান খানম ইতি রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও ১১ দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা রেকর্ড বা দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
নূরজাহান খানম ইতি বলেন, নারীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও পুলিশ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগের আট দিন পর শুক্রবার থানা থেকে ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে নতুন অভিযোগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সোমবার থানায় গেলে ওসি আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সময় চান এবং এরপর মামলা রুজুর আশ্বাস দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীদের নিয়ে অশালীন ভাষায় পোস্ট দিয়ে মানহানির চেষ্টা করছে। তিনি দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযোগের কিছু ভুল সংশোধনের কারণে দেরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নারীদের মানববন্ধনে হামলার মতো ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী উপজেলার সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবিতে এলাকার নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা ও সংবাদ সংগ্রহের সময় স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাঁধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা নাজমুল হক বাদল ও তার লোকজন। ঐদিনই হামলার শিকার নারীরা রায়পুরা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।












