ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশাল থেকে ঢাকায়, ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে নিজের জায়গা গড়ার গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আলোকিত খবর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার:

আলো, ছায়া আর মুহূর্তের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্প তুলে আনার নামই ফটোগ্রাফি। সময়কে থামিয়ে রাখা যায় না, কিন্তু একটি ছবি সেই সময়টাকে ধরে রাখতে পারে বছরের পর বছর। ঠিক সেই বিশ্বাস থেকেই ক্যামেরা হাতে পথচলা শুরু রাকেশ রাকিবের।

বরিশালে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাকেশ রাকিব পেশায় একজন ফ্যাশন ফটোগ্রাফার। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন ওয়েডিং ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফি নিয়ে। পেশার বাইরে ফটোগ্রাফিই তার সবচেয়ে বড় শখ। নতুন লোকেশন খোঁজা, আলোর ভিন্ন ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা করা এবং সময় পেলেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়া তার নিত্যদিনের অভ্যাস।

নিচে তার সঙ্গে কথা বলার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: ফটোগ্রাফিতে আপনার শুরুর অনুপ্রেরণা কে?
রাকেশ রাকিব: প্রফেশনালভাবে ছবি তোলার অনুপ্রেরণা প্রথম পাই আমার মায়ের কাছ থেকে। মা-ই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার উৎসাহ আর বিশ্বাস না থাকলে আজকে এই জায়গায় আসা সম্ভব হতো না।

প্রশ্ন: শুরুর সময় কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?
রাকেশ: আমি বরিশাল থেকে উঠে এসেছি। তখন সেখানে ফটোগ্রাফি খুব বেশি ডেভেলপড ছিল না। ক্লায়েন্ট বেজ ছিল না, কাজের ডিমান্ডও কম ছিল। সেই জায়গা থেকে ঢাকায় উঠে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু ধৈর্য, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই পথটা পার হতে পেরেছি।

প্রশ্ন: কোন ধরনের ফটোগ্রাফি আপনার বেশি প্রিয়?
রাকেশ: ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওয়েডিং ফটোগ্রাফি আমার খুব প্রিয় ছিল, এখনো করি এবং ভালো লাগে। তবে ফ্যাশন ফটোগ্রাফি আমাকে বেশি টানে। এখন আমি মূলত ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হিসেবেই পরিচিত।

প্রশ্ন: একটি ভালো ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?
রাকেশ: আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো সাবজেক্ট। সাবজেক্ট ভালো হলে ছবি নিজে থেকেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: এডিটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
রাকেশ: ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে এডিটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো ছবি তৈরির পেছনে এডিটিং বড় ভূমিকা রাখে। আমার কাজেও এডিটিং একটি প্রধান বিষয়।

প্রশ্ন: প্রাকৃতিক আলো নাকি স্টুডিও লাইট- কোনটা পছন্দ?
রাকেশ: প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করতে আমার বেশি ভালো লাগে। ন্যাচারাল লাইটের মধ্যে আলাদা এক অনুভূতি আছে।

প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত কী ছিল?
রাকেশ: আসলে পুরো ফটোগ্রাফিই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ষোলো বছর ধরে কাজ করছি। ধৈর্য ছিল, আস্থা ছিল, বিশ্বাস ছিল- পারবো। সেই পরিশ্রমের ফলই আজ পাচ্ছি।

প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন কীভাবে দেখেন?
রাকেশ: সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলায়। দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়, ইন্ডাস্ট্রিও বদলায়। আমাকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে হবে। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নতুনভাবে কাজ করাটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি।

প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা?
রাকেশ: সোশ্যাল মিডিয়া ফটোগ্রাফারদের জন্য শতভাগ সুযোগ তৈরি করেছে। এখন নিজের কাজ দেখানোর প্ল্যাটফর্ম আছে, যা আগে ছিল না।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
রাকেশ: গত ষোলো বছর যেমন ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করেছি, সামনে যতদিন বেঁচে থাকব, ফটোগ্রাফি নিয়েই হাজারো পরিকল্পনা থাকবে। কাজের মধ্যেই সব উত্তর পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ?
রাকেশ: ফটোগ্রাফি করতে হলে ধৈর্য, আস্থা, ভালোবাসা থাকতে হবে। পছন্দমতো একটি ক্যামেরা দিয়ে শুরু করতে হবে। তবে শুধু ফটোগ্রাফির ওপর নির্ভর করে শুরুতেই ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করা ঠিক না। আগে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে, অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, মানুষ যেন কাজ চিনতে পারে—তারপর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা উচিত।

প্রশ্ন: প্র্যাকটিস কীভাবে করা উচিত?
রাকেশ: সব ধরনের প্রজেক্টে হাত দেওয়া উচিত। যে ধরনের ফটোগ্রাফার হতে চায়, সে ধরনের কাজ বেশি করা দরকার। বন্ধুদের নিয়ে বের হয়ে ছবি তুলুন, এডিট করুন, পোস্ট করুন। কাজ করতে করতে নিজেই উন্নতি বুঝতে পারবেন।

রাকেশ রাকিবের কথায় স্পষ্ট, ফটোগ্রাফি তার কাছে শুধু পেশা নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের ভালোবাসা আর বিশ্বাসের আরেক নাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বরিশাল থেকে ঢাকায়, ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে নিজের জায়গা গড়ার গল্প

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার:

আলো, ছায়া আর মুহূর্তের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গল্প তুলে আনার নামই ফটোগ্রাফি। সময়কে থামিয়ে রাখা যায় না, কিন্তু একটি ছবি সেই সময়টাকে ধরে রাখতে পারে বছরের পর বছর। ঠিক সেই বিশ্বাস থেকেই ক্যামেরা হাতে পথচলা শুরু রাকেশ রাকিবের।

বরিশালে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাকেশ রাকিব পেশায় একজন ফ্যাশন ফটোগ্রাফার। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন ওয়েডিং ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফি নিয়ে। পেশার বাইরে ফটোগ্রাফিই তার সবচেয়ে বড় শখ। নতুন লোকেশন খোঁজা, আলোর ভিন্ন ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা করা এবং সময় পেলেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়া তার নিত্যদিনের অভ্যাস।

নিচে তার সঙ্গে কথা বলার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: ফটোগ্রাফিতে আপনার শুরুর অনুপ্রেরণা কে?
রাকেশ রাকিব: প্রফেশনালভাবে ছবি তোলার অনুপ্রেরণা প্রথম পাই আমার মায়ের কাছ থেকে। মা-ই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার উৎসাহ আর বিশ্বাস না থাকলে আজকে এই জায়গায় আসা সম্ভব হতো না।

প্রশ্ন: শুরুর সময় কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?
রাকেশ: আমি বরিশাল থেকে উঠে এসেছি। তখন সেখানে ফটোগ্রাফি খুব বেশি ডেভেলপড ছিল না। ক্লায়েন্ট বেজ ছিল না, কাজের ডিমান্ডও কম ছিল। সেই জায়গা থেকে ঢাকায় উঠে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু ধৈর্য, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই পথটা পার হতে পেরেছি।

প্রশ্ন: কোন ধরনের ফটোগ্রাফি আপনার বেশি প্রিয়?
রাকেশ: ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওয়েডিং ফটোগ্রাফি আমার খুব প্রিয় ছিল, এখনো করি এবং ভালো লাগে। তবে ফ্যাশন ফটোগ্রাফি আমাকে বেশি টানে। এখন আমি মূলত ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হিসেবেই পরিচিত।

প্রশ্ন: একটি ভালো ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?
রাকেশ: আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো সাবজেক্ট। সাবজেক্ট ভালো হলে ছবি নিজে থেকেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: এডিটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
রাকেশ: ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে এডিটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো ছবি তৈরির পেছনে এডিটিং বড় ভূমিকা রাখে। আমার কাজেও এডিটিং একটি প্রধান বিষয়।

প্রশ্ন: প্রাকৃতিক আলো নাকি স্টুডিও লাইট- কোনটা পছন্দ?
রাকেশ: প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করতে আমার বেশি ভালো লাগে। ন্যাচারাল লাইটের মধ্যে আলাদা এক অনুভূতি আছে।

প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত কী ছিল?
রাকেশ: আসলে পুরো ফটোগ্রাফিই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ষোলো বছর ধরে কাজ করছি। ধৈর্য ছিল, আস্থা ছিল, বিশ্বাস ছিল- পারবো। সেই পরিশ্রমের ফলই আজ পাচ্ছি।

প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন কীভাবে দেখেন?
রাকেশ: সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলায়। দেশ বদলায়, মানুষ বদলায়, ইন্ডাস্ট্রিও বদলায়। আমাকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে হবে। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নতুনভাবে কাজ করাটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি।

প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা?
রাকেশ: সোশ্যাল মিডিয়া ফটোগ্রাফারদের জন্য শতভাগ সুযোগ তৈরি করেছে। এখন নিজের কাজ দেখানোর প্ল্যাটফর্ম আছে, যা আগে ছিল না।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
রাকেশ: গত ষোলো বছর যেমন ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করেছি, সামনে যতদিন বেঁচে থাকব, ফটোগ্রাফি নিয়েই হাজারো পরিকল্পনা থাকবে। কাজের মধ্যেই সব উত্তর পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ?
রাকেশ: ফটোগ্রাফি করতে হলে ধৈর্য, আস্থা, ভালোবাসা থাকতে হবে। পছন্দমতো একটি ক্যামেরা দিয়ে শুরু করতে হবে। তবে শুধু ফটোগ্রাফির ওপর নির্ভর করে শুরুতেই ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করা ঠিক না। আগে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে, অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে, মানুষ যেন কাজ চিনতে পারে—তারপর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা উচিত।

প্রশ্ন: প্র্যাকটিস কীভাবে করা উচিত?
রাকেশ: সব ধরনের প্রজেক্টে হাত দেওয়া উচিত। যে ধরনের ফটোগ্রাফার হতে চায়, সে ধরনের কাজ বেশি করা দরকার। বন্ধুদের নিয়ে বের হয়ে ছবি তুলুন, এডিট করুন, পোস্ট করুন। কাজ করতে করতে নিজেই উন্নতি বুঝতে পারবেন।

রাকেশ রাকিবের কথায় স্পষ্ট, ফটোগ্রাফি তার কাছে শুধু পেশা নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের ভালোবাসা আর বিশ্বাসের আরেক নাম।